সূর্যপুরী : প্রায় ২০০ বছরের পুরানো এক বৃক্ষের উপাখ্যান

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রায় তিন একর জমিতে ডালপালা ছড়িয়ে আছে সূর্যপুরী বৃক্ষ

shurjopuri mango-tree সূর্যপুরী আম গাছ, বালিয়াডাংগী, ঠাকুরগাঁও। ছবি : জাগো নিউজ ২৪

 প্রায় ২ বিঘা জায়গা ঘিরে কালের সাক্ষী হয়ে টিকে থাকা বিশাল এক মহীরুহ। অক্টোপাসের মত নেমে আসা ডালপালা আর ঝুরি যেন তার বয়সেরই সাক্ষ্য বহন করে। সঠিক বয়স নিয়ে রয়েছে দ্বিমত, কেউ বলেন দুই শত বছর, কারো কারও মতে আড়াইশ-তিনশর মত। বয়স যাই হোক না কেন এখনও সে মহাসমারোহে টিকে আছে এই ধরিত্রীর বুকে আর সেবা দিয়ে যাচ্ছে আমাদের কে। ভাবছেন কোথায় এই আশ্চর্য বৃক্ষ ? এই মহীরুহের দেখা পেতে আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের ছিমছাম জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের অন্তর্গত বালিয়াডাংগী উপজেলার হরিণমারীতে।

ভারতের সীমান্তের কোলঘেষা মুন্ডমালা নামের এই গ্রামেই রয়েছে সু-প্রাচীন এই বৃক্ষ। এটি একটি আম গাছ, যার জাতের নাম সূর্যপুরী। ঠাকুরগাও, দিনাজপুরসহ স্থানীয় অঞ্চলে এই জাতের আম বেশ প্রসিদ্ধ । আনুমানিক ৮০ ফুট উচ্চতার এই গাছটিকে কেউ কেউ এশিয়ার সর্ববৃহৎ বৃক্ষ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। উচ্চতা দিয়ে আসলে এই বৃক্ষের বিশালতা পরিমাপ করাটা সাধ্যের অতীত। এটি জুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ এক এলাকা। মূল কান্ড থেকে শাখা-প্রশাখা বের হয়ে সেগুলোও এক একটি কাণ্ডের সমান স্থুলতা লাভ করেছে। শাখা-প্রশাখা গুলো  ঠিক অশ্বত্থ গাছের মত বের হয়ে এসেছে। মূল কাণ্ডের পরিধি প্রায় ৩৫ ফুট এবং তিন দিক থেকে প্রায় উনিশটি মোটা শাখা এবং প্রশাখা বের হয়েছে। মাটির সাথে গাছটির যেন আজন্ম মিতালী যে কারণে অধিকাংশ শাখা যেন বেশি উপরে না উঠে বিস্তৃত হয়েছে মাটির কাছাকাছিই। গাছটি দেখে মনে হয় এ যেন কোন একটি গাছ নয়, বরং এ যেন এক আমের বাগান।

shurjopuri mango-tree মাটির সাথে আজন্ম লালিত শাখা প্রশাখা। ছবি : সংগৃহীত

 শতবর্ষী পুরানো এই গাছ এখন ও আমের মৌসুমে ফলন দিয়ে চলেছে নিয়মিত। বিশেষ প্রজাতির এই সূর্যপূরী আম প্রতিটির ওজন হয় প্রায় ২০০-২৫০ গ্রাম। স্থানীয় মানুষের কাছে বেশ প্রসিদ্ধ হওয়ায় এই জাতের আমের দাম ও বেশ চড়া। উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমানে গাছটির মালিক নূর ইসলাম এবং সাইদুর ইসলাম নামক দুই ভাই। তাদের বাবার দাদা এই গাছটি রোপণ করেছিলেন। দিন দিন দর্শনার্থী এবং স্থানীয় দের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়াতে এই গাছের চারিপাশে দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে এবং নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষণের কাজে ১৫ জন লোক নিয়োজিত করা হয়েছে। গাছটি দেখতে হলে আপনাকে ২০ টাকা দিয়ে  টিকেট কেটে ঢুকতে হবে । ইতিহাসের সাক্ষী এই বৃক্ষের সান্নিধ্যে কাটিয়ে আসতে পারেন কিছুটা সময়। ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় এই বৃক্ষ আপনাকে রুক্ষ নগরীর তেতে ওঠা উত্তাপ, কোলাহল আর জঞ্জাল থেকে কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও মুক্তি দিবে। আর আমের মৌসুমে গেলে স্বাদ নিয়ে আসতে পারবেন অন্যতম সু-স্বাদু এই সূর্যপূরী জাতের আমের। যখনই যান, কথা দিতে পারি এই মহীরুহ আপনাকে হতাশ করবে না কখনোই।

কিভাবে যাবেন : শতবর্ষী পুরাতন এই গাছ দেখতে হলে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে ঠাকুরগাঁও জেলায়। ঢাকা থেকে বাস এবং রেল পথে ঠাকুরগাঁও আসতে পারবেন। ঢাকা থেকে কর্ণফুলী, হানিফ, নাবিল ইত্যাদি পরিবহন আপনাকে নামিয়ে দিবে ঠাকুরগাঁও শহরে। এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের একতা এক্সপ্রেস এবং দ্রুতজান এক্সপ্রেস সরাসরি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাতায়াত করে। বাসভেদে ভাড়া পড়বে ৫৫০-৬০০ টাকা আর ট্রেনে ভাড়া পড়বে ৪০০-৯০০ টাকা। ঠাকুরগাঁও থেকে বালিয়াডাংগী যাওয়ার লোকাল বাস আছে। বালিয়াডাংগী থেকে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা পৌছে দেবে আপনাকে হরিণমারীতে এই আম গাছের কাছে। চাইলে সরাসরী ঠাঁকুরগাও থেকেও অটোরিকশা ভাড়া করে যেতে পারেন, সেক্ষেত্রে ভাড়া একটু বেশি পড়বে।