কম খরচে সহজে ট্যুর দিতে হলে যা চাই

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : লো বাজেট বা ব্যাগপ্যাক ট্যুর ম্যানেজমেন্ট

ছবি : সংগৃহীত


 লো বাজেট বা ব্যাগপ্যাক ট্যুর বলতে সংক্ষেপে বলা যায় পকেটের সামান্য টাকা-পয়সা দিয়ে সংক্ষেপে সুন্দর একটা ট্যুর দিয়ে আসা। অনেকেই মনে করেন ট্যুর মানেই একগাদা টাকা-পয়সার ব্যাপার কিন্তু একটু প্ল্যান করে আর আরামের চিন্তা একটু কমিয়ে করলে খুব সহজেই লো বাজেট ট্যুর দেয়া যায়। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য লো বাজেট ট্যুর অনেকটা আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু প্রশ্ন আসে লো বাজেট বলতে আসলে কত টাকা? এটা আসলে আপনি কোথায় যাবেন তার ওপর নির্ভর করে।

যেমন ধরেন আপনি ঢাকা-কক্সবাজার ৭,০০০-৮,০০০ টাকা খরচ করে প্লেনে যেতে পারেন আবার ২,০০০ টাকার এসি বাসে যেতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি এভাবে আরামে যাওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে ঢাকা থেকে মেইল ট্রেনে চট্টগ্রাম ১৫০ টাকায় এবং চট্টগ্রাম থেকে ২৫০-৩০০ টাকা খরচ করে কক্সবাজার চলে যেতে পারেন। আপনার যেতে সময় বেশি লাগবে, কষ্ট বেশি হবে কিন্তু প্লেন বা এসি বাসে গিয়ে একজন যেই সমুদ্র দেখছে আপনিও ৪০০ টাকা খরচ করে সেই সমুদ্রই দেখছেন।

বাংলাদেশের পরিচিত পর্যটন স্পটগুলো ঘুরতে সাধারণত ৩,৫০০-৬,০০০ টাকা মত লাগে। এই টাকার মধ্যে মোটামুটি মানসম্মত ভাবে ঘুরে আসা যায়। কিন্তু যাতায়াত খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচ কমিয়ে ২০০০-২৫০০ এর মধ্যেও অনেকগুলো স্পট ঘুরে আসা যায়। যেমন ধরেন, ২০০ টাকা দিয়ে ঢাকা-চাঁদপুর, ৫০০ টাকা দিয়ে ঝরনায়, হাজার খানেক টাকায় বরিশাল এভাবে একটু কমিয়ে-বাড়িয়ে আপনি চাইলে পুরোদেশ ঘুরে ফেলতে পারবেন।

ছবি : সাটার স্টক


এখন আসেন কিভাবে প্ল্যান করবেন লো বাজেট বা ব্যাগপ্যাক ট্যুর :

১। প্রথমেই মাথায় রাখুন এই ট্যুরে পরিশ্রম বেশি হবে কিছুটা সেই সাথে ততটা আরামদায়ক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হয়তো হবে না।

২। এবার খোঁজাখুঁজি শুরু করুন যেখানে যাবেন সেখানে যাওয়ার কী কী উপায় আছে। বাংলাদেশে এখনও সবচেয়ে কম খরচে যাতায়াতের উপায় হলো ট্রেন বা লঞ্চ। বাসের চেয়ে অনেক কম খরচে ট্রেন বা লঞ্চে যাওয়া-আসা করা যায়। যেখানে যাবেন সেখানে মেইল ট্রেন গেলে সেটায় চড়ে বসুন আর লঞ্চ গেলে একটা চাদর বিছিয়ে লঞ্চের ডেকে বসে পরুন।

৩। এবার স্পটে নেমে আসে হোটেলে থাকার ব্যাপার। লো বাজেট ট্যুরে আগে থেকে বুকিং দিয়ে আসার চেয়ে স্পটে যেয়ে দামাদামি করে হোটেল ঠিক করা ভালো। চেষ্টা করবেন মূল স্পট থেকে একটু ভিতরের দিকে হোটেলের খোঁজ নিতে কারণ সাধারণত লোক সেদিকে কম যায় তাই ভাড়াও কম হয়, দামদামিও করা যায়।

৪। খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে চেষ্টা করুন সেই এলাকার সাধারণ রেস্টুরেন্টে খেতে। যেই এলাকায় যাচ্ছেন সেই এলাকার খাবার খেয়ে দেখুন। ট্যুরে গিয়ে বিরিয়ানি, কাবাব এসব খেয়ে অতিরিক্ত খরচ না করে বেশি বেশি ঘুরতে হবে তা মাথায় রাখুন।

৫। চেষ্টা করুন ২/৪/৮ জনের দল নিয়ে যেতে। এতে করে হোটেল ভাড়া কমে আসবে, খাবারের ক্ষেত্রেও বড় কোন আইটেম নিলে ভাগাভাগি করে খেতে পারবেন।

৬। লোকাল যানবাহন ব্যবহার করুন। রিজার্ভ করার চেয়ে লোকাল বাহনে গেলে খরচ অনেক কম পরবে।

৭। যদি ক্যাম্পিং-এর সুযোগ থাকে তাহলে যাওয়ার সময় তাঁবু ভাড়া নিয়ে যেতে পারেন বিভিন্ন এজেন্সি থেকে এতে খরচ অনেক কম হবে।

৮। আপনার ব্যাগ যেন বেশি বড় না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। যেহেতু ভেঙ্গে-ভেঙ্গে যেতে হবে, সেই সাথে লোকাল যানবাহন ব্যবহার করতে হবে তাই ব্যাগ যত ছোট হবে তত সুবিধা।

৯। ট্যুরমেট সেভাবেই বাছাই করুন যারা সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারে। অনেকেই এরকম ট্যুরের ধকল সইতে পারে না, সেক্ষেত্রে ট্যুর ম্যানেজ করতে গেলে আপনিই ঝামেলায় পরবেন তাই আগে থেকেই বাছাই করে ট্যুরমেট নিবেন।

১০। এসব কিছুর সাথে আপনার থাকতে হবে দামাদামি করার যোগ্যতা নাহলে লো বাজেট ট্যুর করা বেশ কঠিন হয়ে যাবে। হোটেল, গাড়ি, খাবার সব জায়গায় চেষ্টা করবেন যত কমে যত ভালো ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ট্যুরে খরচও কমে হবে আবার খুব বেশি কষ্টও হবে না।

ছবি : সাটার স্টক

 সাধারণ ট্যুর থেকে প্রায় অর্ধেক খরচে লো বাজেট ট্যুর দিয়ে আপনি একজন সাধারণ ট্যুরিস্ট থেকে অনেক বেশি ট্যুর দিতে পারবেন তাহলে কেন নয় লো বাজেট ট্যুর? প্ল্যান করুন, খোঁজখবর নিন, ট্যুরমেট ম্যানেজ করুন, যাই হোক ট্যুর হবেই এই মানসিকতা নিয়ে বেরিয়ে পরুন অপার সৌন্দর্যের বাংলাদেশ দেখতে। আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। প্র


 কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।