কম খরচে কক্সবাজার ট্যুরের উপায়
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সঠিকভাবে খরচ করতে জানলে কম বাজেটেও কক্সবাজার ট্যুর সম্ভব
ছবি : নোমাডিক নোটস
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ পর্যটন স্পট হলো কক্সবাজার। সু-বিশাল সমুদ্র সৈকত সেইসাথে পাহাড়, ঝরনা ও বর্তমানে যুক্ত হওয়া দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ রোডের কারণে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে কক্সবাজারের চাহিদা সর্বদাই উপরের দিকে। সারাবছরই পর্যটক থাকে কক্সবাজারে তবে ছুটির দিনগুলো ও শীতকালে পর্যটকদের ভিড় অত্যধিক হয়ে যায়। এত পর্যটক, এত চাহিদা এসব চিন্তা করে অনেকে মনে করেন অল্প খরচে হয়তো কক্সবাজার ঘুরে আসা যায় না।
কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণই ভুল। যথাযথ পরিকল্পনা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা ও দামাদামি করতে পারলে বেশ কম খরচেই ঘুরে আসা যায় কক্সবাজার। আজকের লেখায় সেসব বিষয় নিয়েই বলবো। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস ভাড়া সাধারণত ৮০০ টাকা কিন্তু একটু কষ্ট করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১২০ টাকায় মেইল ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে ২২০-২৫০ টাকার মধ্যে কক্সবাজারের বাস পেয়ে যাবেন। চট্টগ্রাম পর্যন্ত সিডিএম নামে একটু সাধারণ মানের একটি বাসও যায়, সায়েদাবাদ থেকে ছাড়ে। ভাড়া পড়বে ২৫০-৩০০ টাকা। এভাবে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কক্সবাজার যেতে আপনার খরচ পড়বে ৪০০-৫০০ টাকা সেইসাথে সকালের পরিবর্তে দুপুর ১২-১টা নাগাদ পৌঁছবেন কক্সবাজারে।
উত্তাল সাগরের ঢেউ, কক্সবাজার। ছবি : নেচার ডট লাভার
এবার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশের হোটেলগুলোতে খরচ বেশি। আপনি কলাতলী, সুগন্ধা বা লাবনী পয়েন্ট যেদিকেই থাকতে চান না কেন মূল রাস্তা থেকে ভেতরের দিকে চলে যান কিছুটা। এতে হয়তো আপনাকে বিচে যেতে ৫-১০ মিনিট বেশি হাঁটতে হবে তবে খরচও কমে আসবে রাস্তার পাশের হোটেলগুলো থেকে অর্ধেকে। গ্রুপ করে গেলে হোটেলে থাকার খরচ কমে আসবে। অনেক হোটেলে দুই-তিনটা রুম মিলিয়ে ফ্ল্যাটের মত ব্যবস্থা থাকে। আলাদা ২-৩ টা রুম নেয়ার চেয়ে এরকম ফ্ল্যাটগুলো নিলেও খরচ বেঁচে যাবে। অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন। অফ সিজনে দামাদামি করে ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে ডাবল বেডের রুম ম্যানেজ করা যায়।
খাবারের জন্য লোকাল হোটেলগুলোতও ভালো খাবার পাওয়া যায়। ছবি : এগলো বিডি
খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মনে একটা ধারণা কাজ করে যে বড় হোটেল মানেই ভালো খাবার। হ্যাঁ, বড় বড় হোটেলগুলোর খাবার স্বাভাবিকভাবেই ভালো কিন্তু কক্সবাজারে বিভিন্ন গলিতে বেশকিছু হোটেল আছে যেগুলো হয়তো টিন দিয়ে বানানো বা আধা পাকা টিনের চালের হোটেল কিন্তু তাদের খাবারের স্বাদ তুলনাহীন। হোটেল সি প্যালেসের বিপরীতের রাস্তা দিয়ে গেলে এরকম কিছু হোটেল পাওয়া যায়। বড় বড় হোটেল থেকে অর্ধেক বা আরও কম দামে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায় এসব জায়গায়। আলম রেস্তোরা নামে এরকমই একটা হোটেল পাবেন এই গলিতে যাদের খাবারের স্বাদ আপনার মুখে লেগে থাকবে। ১০০-১২০ টাকায় ভরপেট খেতে পারবেন আপনি।
হিমছড়ি ঝরনা। ছবি : সংগৃহীত
মূল এলাকা থেকে দূরে হিমছড়ি, ইনানি, মেরিন ড্রাইভ, গোয়ালিয়া এসব এলাকায় সিএনজি, জিপ প্রভৃতি গাড়ি যায়। আপনার দামাদামি করার দক্ষতার ওপর নির্ভর করছে আপনি কত কম খরচে ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটক দেখলে এসব গাড়ির ড্রাইভার অতিরিক্ত ভাড়া চায় তাই আগে থেকে ভাড়া কেমন তা জেনে নিবেন ও সেভাবে ভাড়া ঠিক করবেন।
মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য, কক্সবাজার। ছবি : দৈনিক কক্সবাজার
বিচের আশেপাশে সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই বা বারবিকিউ খেতে গেলেও দাম ঠিক করে নিবেন। দোকানীরা অতিরিক্ত দাম চায় কিন্তু দামাদামি করলে অর্ধেক দামেও পাওয়া যায়। আর মাছ তৈরি করার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকবেন কারণ অনেক সময় আপনি যেটা পছন্দ করে দিয়েছেন তা দেখিয়ে আপনাকে অন্য মাছ দিয়ে দিতে পারে।
ছবি : লোকাল গাইডস কানেক্ট
অর্থাৎ, আপনি যদি ছুটির দিন, কোন উপলক্ষ (যেমন : ঈদ, পূজা), সিজন এসব এড়িয়ে যেতে পারেন তাহলে ২,৫০০-৩,০০০ টাকার মধ্যে কক্সবাজারে ২ রাত ৩ দিন থেকে আসতে পারবেন। তবে চেষ্টা করবেন গ্রুপ নিয়ে যেতে এতে করে খরচ অনেক বাঁচবে। যেকোনো বিপদ-আপদে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাহায্য নিতে পারবেন। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।