চীনে উৎপত্তি লাভ করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত ভয়াবহ আঘাত হেনে চলেছে করোনা ভাইরাস। সমগ্র বৈশ্বিক ব্যবস্থা থামিয়ে দিয়েছে এই মহামারি। প্রায় ৫০ লাখ আক্রান্ত এবং ৩ লাখের কাছাকাছি প্রাণহানি, কোনোরূপ বিশ্বযুদ্ধ ব্যাতীত! মানুষ এটা ভাবতে পারেনি যে, এভাবে এক ভাইরাস এত ভয়ংকর পরিস্থিতি বয়ে আনবে।
তবে আশার বিষয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পুনরায় খুলতে শুরু করেছে। নভেল করোনভাইরাস পরবর্তী স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে সংগ্রাম করছে, তবে বৈশ্বিক ভ্রমণ যথারীতি ব্যবসায় ফিরে যেতে সম্ভবত আরও অনেক সময় লেগে যাবে।
বিশ্বের প্রতিটি দেশ এবং অঞ্চল কোনও না কোনওভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বেশিরভাগ জায়গায়, বিশেষত এশিয়াতে, যেখানে মহামারীটি প্রথম সনাক্ত হয়েছে, ভ্রমণকারীরা ভাইরাস থেকে মুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করতে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারিন্টনে রাখার পদ্দক্ষেপ নিয়েছে। ভ্রমণের অনুমতি পেতে কোয়ারিন্টিনে থাকতে হবে।
নিরাপত্তা রক্ষী তাপমাত্রা পরীক্ষা করছে। ছবি : রয়টার্স
তবে, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যেই বেশ কিছু দেশ করোনা আক্রান্তের হার শূন্যে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছে। কিছু দেশ ধীরে ধীরে তাদের সীমান্ত পুনরায় চালু করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি সচল রাখতে ভ্রমণ বন্ধ রাখা যাবে না। তবে নির্দিষ্ট হারে মানুষের চলাচল সচল করা যাবে। বিশ্বে করোনা ভাইরাস পরবর্তী স্বাভাবিক ভ্রমণে মডেল হতে পারে হংকং। দেশটি একটি অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত চীনা অঞ্চল।
ছবি : এপি
চীন, যেখানে করোনা ভাইরাস প্রথম আঘাত হানে। হংকং-এ তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কমিউনিটি সংক্রমণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ মূল ভূখণ্ড চীন থেকে কিছু ব্যবসায়ী ভ্রমণকারী এবং শিক্ষার্থীদের কোয়ারিন্টিন ছাড়াই হংকং প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা চালু করেছে।
এছাড়াও কর্মকর্তারা কাছাকাছি ম্যাকাউতেও কোয়ারিন্টিনমুক্ত ভ্রমণ সম্প্রসারণের জন্যও কাজ করছেন। প্রাক্তন পর্তুগিজ এই উপনিবেশটিতে এক মাসের মধ্যে নতুন কোনো আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি।
তাছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় গত পহেলা মে থেকে কিছু ব্যবসায়ী ভ্রমণকারীরা দীর্ঘতর কোয়ারিন্টিন ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পেরেছেন। যদিও পৌঁছনোর পরে তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে এবং ফলাফলের জন্যে সরকারী কোনও কেন্দ্রে এক বা দুই দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার চিন্তা করছে। ছবি : রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড ও করোনা আক্রান্ত দেশ। তবে, আপাতত লকডাউনে থাকলেও দেশটির নেতারা চীন-হংকং কিংবা চীন-দক্ষিণ কোরিয়ার মতো একই জাতীয় দ্বিপক্ষীয় মডেল নিয়ে আলোচনা করছেন। সমুদ্রের দ্বারা পৃথক জাতিদ্বয়কে একটি ‘ট্রান্স-তাসমান বাবল’- নামে একটি রেফারেন্সে আবার সংযুক্তি আলোচনা চলছে। করোনা ভাইরাসকে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণে এলে দেশ দুটির মুক্ত ভ্রমণ চালু হতো।
সচল হচ্ছে এশিয়া। ছবি : সিএনএন
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পর্যায়ক্রমে এইভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিলকরণ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমায়। হংকং-এর কৌশল গ্রহণ ভ্রমণকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, আসবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হংকংয়ের স্টাইলে মহামারী মোকাবিলা করার পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে কিছু সতর্কতার সাথে। কঠোর স্ক্রিনিং এবং স্থানীয়ভাবে ও অন্যান্য দেশের মহামারীর অবস্থার ওপর গভীর নজর রাখা।
ছবি : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন কর্মকর্তা কেইজি ফুকাদা ব্রিটিশ সাময়িকী টাইমকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটি দলে দলে করা বুদ্ধিমানের কাজ। (চীন থেকে) শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের দিয়ে শুরু করে, সব ধরণের ভ্রমণের জন্যে একবারে সীমানা খোলা যাবে না। বেছে বেছে শুরু করতে হবে। নির্বাচিত গোষ্ঠীকে সীমানা খুলে দিয়ে ধীরে ধীরে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এক দলের প্রবেশের পর যদি সমস্যা দেখা না দেয় তবে, আরও খোলার বিষয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে।’
চালু হচ্ছে বিমানবন্দর। ছবি : এপি
বিশ্বের সব দেশ এখন একধরণের বন্দিদশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে যা শত বছরেও চিন্তা করা যায়নি। অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব কমাতে বিভিন্ন দেশ সীমান্ত চালুর জন্যে মরিয়া হয়ে আছে। বাণিজ্য স্বাভাবিক না হলে অর্থনীতিকে টেনে তোলা যাবে না। তাই বাণিজ্য, শিক্ষার পরে পর্যটকদের জন্যে একসময় স্বাভাবিক হবে বলে ভাবা হচ্ছে, যদি হংকং মডেল গ্রহণ করা হয়।