কোভিড-১৯, ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে জেনে নিন এখনই

ট্রাভেল বাংলা : ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা



ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত


বিশ্বে এখন নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শিখরে পৌঁছেছে, বিশ্ব ভ্রমণকারীদের একটি বিশাল অংশ এর ফলে তাদের বিদেশে যাত্রা বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে, এমনকি কিছু দেশ, যেখানে ভাইরাসযুক্ত কয়েকটি ঘটনা সনাক্ত করা গেছে সেখানে ভ্রমণেও আরোপিত হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ভাইরাসটি ধরা পড়ার ভয় অনেককে তাদের ইউরোপে পরিকল্পিত অবকাশগুলোতে যাওয়া হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আজকের এই নিবন্ধে ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের ইউরোপের পরিস্থিতি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। এই প্রাদুর্ভাব রোধ করার জন্য কোন দেশ কি ব্যবস্থা নিয়েছে, সেখানে আসলে পরিস্থিতি কেমন এবং সেগুলি ইউরোপ ভ্রমণে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা সম্পর্কে জানানো হবে।

ইউরোপ ভ্রমণ কী এখন নিরাপদ?

কোভিড-১৯ এর উৎপত্তিস্থল চীনের বাহিরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা ইতালি। এমনকি চীনের পরে সেখানে এই ভাইরাসের মৃতের হারও অনেক বেশি, যে দেশটি ইউরোপের পর্যটন কেন্দ্রস্থল বলে বিবেচিত। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, আইসল্যান্ড, বেলজিয়াম, সান মেরিনো, ডেনমার্ক, ক্রোয়েশিয়া, গ্রীস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, মোনাকো, লিচেনস্টেইন, পোল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়ায় করোনভাইরাসযুক্ত ব্যক্তিদের সমস্ত রিপোর্ট রয়েছে। সর্বশেষ ১৩টি বা ততোধিক দেশে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে।

ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিভিল প্রটেকশন মেকানিজমকে সক্রিয় করা এবং ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করে নেয়াসহ সদস্য দেশগুলোকে আরও সহযোগিতা করার আহ্বান জানানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত


বিমানবন্দরগুলি ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য, কীভাবে এটি প্রতিরোধ করতে পারে তা সরবরাহ করা শুরু করেছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা জ্বর এবং কাশির মতো করোন ভাইরাসের কোনও সম্ভাব্য লক্ষণগুলো আছে কিনা তা যাচাই করে নিচ্ছে। এছাড়াও ভ্রমণকারীদের বিদ্যমান সীমান্তে পরীক্ষা আরও কড়া করেছে।

ইইউ : করোনাভাইরাস শেনজেন স্থগিত করার পক্ষে পর্যাপ্ত নয়

গৃহীত সমস্ত পদক্ষেপের মধ্যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্নাভাইরাসকে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার মতো দৃঢ় কারণ হিসাবে দেখছেনা, যা ইইউ তার অন্যতম মূল্যবান সাফল্য বলে মনে করছে। ইইউ কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে, সীমান্ত পোস্টগুলোতে পুনঃনিষেধাজ্ঞা ইউরোপে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার গতিতে কোনওরকম কমাতে পারবে না। তবে ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী ‘প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসাবে ইতালি সীমান্ত বন্ধ করে দেবে কিনা’ এমন প্রশ্ন করলে বাকিরা জানান, শেনজেন দেশগুলো একটা ‘লাজারেটোসে’(সঙ্গরোধ বা কোয়েরিন্টিন) পরিণত হবে।

ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত


ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে, ভাইরাসটির বৈশ্বিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধ ও সংক্রমণ প্রতিহত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের এক বৈঠকে কমিশন এই বিষয়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বৈঠকের পরের দিনগুলিতে, সদস্য দেশগুলির মন্ত্রীরা সীমানা পুনর্নির্মাণের সম্ভাব্য বিষয়ে যে কোনও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তাহলে কী ইউরোপ ভ্রমণ বাতিল করা উচিত?

আপনার ইউরোপ ভ্রমণ বাতিল করা উচিত কী না, এটি বিভিন্ন কারণের ওপর নির্ভর করে। নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ইউরোপের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে সর্বোচ্চ  পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যদি :
  • আপনার যাত্রাটি এমন একটি অঞ্চলে হয়ে থাকে যেখানে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
  • আপনার যদি আগে থেকেই কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসজনিত রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ইত্যাদি থেকে থাকে।
  • আপনার ষাটোর্ধ্ব হয়ে থাকেন, কারণ এই বয়সের যারা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে তারা অন্যান্য বয়সের আক্রান্তদের তুলনায় বেশি মারা গেছেন।
  • আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি দুর্বল হয়ে থাকে।

ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

বিশেষত, করোনাভাইরাস বেশি সংখ্যক আক্রান্ত ইইউ সদস্য হিসাবে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে ভ্রমণ এড়ানো চেষ্টা করুন। নীচে এই সময়ে নিম্নোক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের সুরক্ষা সম্পর্কিত আরও তথ্য উল্লেখ করা হলো।


ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত


ইতালি ভ্রমণ নিরাপদ?

করোনাভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে ইউরোপের মধ্যে ইতালির অবস্থা শীর্ষে। চীনের পরে এই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের বৈদেশিক অফিসগুলো তাদের নাগরিকদের লোম্বার্ডির ১০টি এবং ভেনেটোর একটি ছোট শহরগুলোতে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এসব অঞ্চল চলমান কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতালিয়ান কর্তৃপক্ষ দ্বারা অবরুদ্ধা করে রাখা হয়েছে। এই শহরগুলি হল :
  • কোদোগ্নো
  • কাস্টিগ্লায়ন ডি'এড্ডা
  • ক্যাসালপুস্টারলেঙ্গো
  • ফোম্বিও
  • মালেও
  • সোমাগিলা
  • বার্তোনিকো
  • টেরানোভা দেই পাসেরিনী
  • কাস্তেলজেরান্দো
  • সান ফিওরানো
  • ভো ’ইউগানিও (ভেনেটো)
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ইতালির সরকার ভাইরাসজনিত কারণে স্কুল এবং কিছু পাবলিক প্লেসও বন্ধ করে দিয়েছে। যদি আপনি উপরের তালিকাভুক্ত শহরগুলি বাদ দিয়ে অন্য কোনও ইতালীয় শহরে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, আপনার মনে রাখা উচিত যে ক্যাফেটেরিয়া, বার এবং রেস্তোঁরাসহ ভাইরাসজনিত কারণে অনেকগুলি পর্যটন স্পট বন্ধ হয়ে গেছে, তাই আপনি ভ্রমণের ব্যাপারে ফের ভেবে দেখতে পারেন।





ছবি : সংগৃহীত


জার্মানি ভ্রমণ কি নিরাপদ?

ইতালি ভ্রমণের চেয়ে জার্মানি নিরাপদ, কারণ জার্মানিতে ইতালির চেয়ে কম আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে এবং একজন মারা গেছে এখন পররন্ত। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে, জার্মানির নিম্নলিখিত স্থানগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ :
  • বাডেন-ওয়ার্টেমবার্গ
  • বাভারিয়া (বায়ার্ন)
  • বার্লিন
  • ব্র্যান্ডেনবার্গ
  • ব্রেমেন
  • হ্যামবুর্গ
  • হেসে (হেসেন
  • মেক্লেংবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরেনিয়া (মেক্লেংবার্গ-ভারপোমার্ন)
  • লোয়ার স্যাক্সনি (নাইডারসচেন)
  • উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া (নর্ডারহিন-ওয়েস্টফ্যালেন)
  • রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট (রাইনল্যান্ড-প্যাফালজ)
  • সরল্যান্ড
  • স্যাক্সনি
  • শ্লেসভিগ হলস্টাইন
  • থুরিঙ্গিয়া (থুরিনজেন)
জার্মান সরকার ইতোমধ্যেই কনসার্ট, মেলা এবং প্রদর্শনী হিসাবে সমস্ত বৃহত্তর অনুষ্ঠান বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আরও প্রাদুর্ভাব রোধ করতে নাগরিকদের হাত মেলানো এড়াতে এবং একে অপরের থেকে কমপক্ষে এক মিটার দূরে থাকার জন্য সতর্কতাও জারি করেছে।




ছবি : সংগৃহীত


জার্মানিসহ ফ্রান্সেও একইভাবে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাই কেউ যদি এই মুহূর্তে শেনজেন ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন বা ভ্রমণ যদি পূর্ব পরিকল্পিত থেকে থাকে তাহলে সে বিষয়ে পূনরায় বিবেচনার জন্য ইইউ কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে নির্দেশনা দিয়েছেন।  

আরো পড়ুন ঃ করোনা আতঙ্কে রাজস্থান, ব্যাপক ক্ষতির মুখে অন্যতম এই বৃহৎ পর্যটনস্পট

ফেসবুক পেইজঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ

নাবিলা বুশরা   এস এম