কারুশিল্প ও লোকসাংস্কৃতিক পণ্যের সম্ভার নিয়ে ‘যাত্রা’র পথচলা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শেকড়ে থেকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে 'যাত্রা'

যাত্রা দেশি পণ্যের সামগ্রী নিয়ে কাজ করছে যাত্রা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি ও কারুশিল্প অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প এ দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রামীণ এসব শিল্প ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির স্বকীয়তা প্রকাশ করে। কিন্তু আধুনিকতার এই সময়ে আমরা ক্রমেই আমাদের শেকড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এই অবস্থার উন্নতিকরণে এগিয়ে এসেছে দেশীয় বিভিন্ন ফ্যাশন ব্র্যান্ডসমূহ।

এই ফ্যাশন হাউজগুলো তাদের পণ্যের মাধ্যমে এদেশের হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে শুরুতেই যেসব ফ্যাশন হাউজের নাম উঠে আসে 'যাত্রা' তাদের মধ্যে অন্যতম।  যাত্রা শো রুম রং দিয়ে শিল্পকে তুলে ধরা হয়েছে যাত্রা শো রুমে। ছবি : যাত্রা

দেশি পণ্যের পসরা সাজিয়ে ২০০০ সালে শুরু হয় ফ্যাশন হাউজ যাত্রা'র পথচলা। বাংলাদেশের স্বনামধন্য ফোক সঙ্গীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল-এর পরিচালনায় গড়ে উঠে এই ফ্যাশন ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই মূলত 'যাত্রা'র যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এটি এমন একটি ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির পাশাপাশি আধুনিক ফ্যাশন ট্রেন্ডকেও বিকশিত করে চলেছে।

আধুনিক ফ্যাশনের সাথে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির ফিউশন যাত্রা’ র সকল পণ্যে স্পষ্টত হয়ে উঠে আসে। আর এখানেই এদের বিশেষত্ব। এদেশের বর্তমান প্রজন্ম আবারও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের দিকে ঝুঁকছে। ফলে যাত্রা'র শুরু থেকেই এটি তরুন প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যাত্রা শো রুম বাহারি রঙ ও ডিজাইনের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে রেখেছে যাত্রা শো রুম। ছবি : যাত্রা

যাত্রা মূলত দেশীয় উপকরণ ও বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে। প্রাকৃতিক রঙ ও দেশীয় বুননের নিখুঁত ব্যবহারে তৈরি যাত্রা’ র পণ্যগুলো একটি অপরটি থেকে মৌলিক। দেশীয় রূপ, রঙ, সংস্কৃতি সবকিছুই যাত্রা’ র পোশাক, ফার্নিচার, গিফট সামগ্রীতে যথার্থভাবে ফুটে উঠে। যাত্রা'র পণ্য তৈরির সকল উপকরণই স্থানীয় এবং নিজস্ব। সুতি, খাদি কাপড়, তাঁত, জামদানি ব্যবহার করা হয় পোশাক ও অন্যান্য জিনিস তৈরিতে। বৈচিত্রময় হাতের কাজের দক্ষতায় তৈরিকৃত প্রতিটি জিনিস হয়ে ওঠে অনন্য সুন্দর। বাহারি ও উজ্জ্বল রঙের সঠিক ব্যবহার এদের সকল পণ্যে লক্ষণীয়।

যাত্রা পণ্যসমূহ :

যাত্রা তাদের পথচলায় যুক্ত করেছে ছোটবড় সকলের পোশাক, আসবাবপত্র, ঘর সাজানোর জিনিস, গিফট, শোপিস ইত্যাদি। নারীদের জন্য শাড়ি, কুর্তি, সালোয়ার কামিজ, ওড়না ইত্যাদি পাওয়া যায় যাত্রা'র শোরুমে। ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, ফতুয়াসহ বাচ্চাদের জন্য তাদের বেশ সুন্দর কিছু কালেকশন দেখা যায়। যাত্রা'র তৈরি করা আসবাবপত্র, নকশিকাঁথা, বিছানা, বালিশ, কুশন কভার, ঘর সাজানোর সব জিনিসে পাওয়া যায় গ্রামীণ কারুশিল্পের ছোঁয়ায়। মাটি, কাপড়, কাঠ দিয়ে তৈরি এদের গহনাগুলো দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

আউটলেট সমূহ :

বর্তমানে ঢাকার বনানীতে যাত্রা'র একটিমাত্র শোরুম চালু রয়েছে। শোরুমের ঠিকানা : (দ্বিতীয় তলা) ৬০, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা।