কোলকাতার কেথায় কোথায় ভ্রমণ করবেন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রাণবন্ত শহর কোলকাতায় দারুণ ভ্রমণ
নীরব শান্ত সময়ের কোলকাতা। ছবি : ড্রিমসটাইম ডট কম
কোলকাতায় সকাল সকাল বের হয়ে পরুন। নাস্তার জন্য দূরে কোথাও যেতে হবে না। হোটেলের আশেপাশেই পেয়ে যাবেন নাস্তা করার মত প্রচুর দোকান। ভোরে ভোরে বেরিয়ে পড়তে পারলে আপনি পাবেন এক নীরব শান্ত শহর। হোটেল থেকে সামান্য দূরত্বে বিখ্যাত গড়ের মাঠ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এর পাশেই ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ। এই এলাকা দিয়ে বেশ কিছু বিখ্যাত স্থাপনা আছে। কিছুদূর গেলে পাবেন হুগলি ব্রিজ। হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে আসতে পারেন এই স্থানগুলো। ইডেন গার্ডেনও বেশ কাছে। এরপর পূর্বে করে রাখা পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুরাঘুরি শুরু করুন।
যেখান থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূচনা,ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ। ছবি : ইন্ডয়া ইজি ট্রিপ
এরপর চলে যেতে পারেন সুবিশাল হাওড়া ব্রিজে। হাওড়া ব্রিজের বিশালত্ব ও মনোমুগ্ধকর ডিজাইন আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। হাওড়া ব্রিজ থেকে কিছুটা দূরেই আছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। মোটামুটি একটা এলাকাজুড়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সাথে রবীন্দ্রনাথের নানান স্মৃতি নিয়ে সাজানো এই বিশ্ববিদ্যালয়। আছে জাদুঘরও। নিঃশব্দে ঘুরে দেখবেন সবটা যাতে শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা না হয়। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িও এখান থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত।
সাহিত্যপ্রেমীদের তীর্থস্থান, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। ছবি : এনটিভি
মার্বেল প্যালেসের দিকে চলে যেতে পারেন এরপর। যদিও এতক্ষণে দুপুর হয়ে যাবে। বেশি দেরি হয়ে গেলে আগে মার্বেল প্যালেস দেখে রবীন্দ্রভারতীতে আসবেন। মার্বেল প্যালেসে টুরিস্ট পরিচয় দিয়ে আপনার কোন পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট দেখিয়ে ঢুকবেন। বেশি শব্দ করা যাবে না। একজন গাইড ঘুরিয়ে দেখাবে। কোন টিকিট নেই। মার্বেল প্যালেসের কালেকশন বেশ সুন্দর। পুরনো অনেক জিনিস এখানে আছে।
ঘুরাঘুরি শেষে বিকালটা কাটাতে পারেন বোটানিক্যাল গার্ডেনে। বিশাল জায়গাজুড়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনের অবস্থান। সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়টা এখানে কাটিয়ে সেদিনের মত চলে আসতে পারেন হোটেলে। পরদিন সকালে বের হয়ে ঘুরে দেখতে পারেন মিউজিয়াম। কলকাতায় প্রচুর মিউজিয়াম আছে। ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, মাদার ওয়াক্স মিউজিয়াম, বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়াম, আশুতোষ মিউজিয়াম ইত্যাদি। সেই সাথে ঘুরে আসতে পারেন ট্রাম মিউজিয়াম। আর হ্যাঁ ট্রামে চড়তেও পারবেন কোলকাতাতে। এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। মিউজিয়াম ঘুরার সাথে সাথে কোলকাতার বিভিন্ন এলাকাও দেখা হয়ে যাবে। নিউ টাউন, টালিগঞ্জ এসব এলাকা ঘুরে ফেলতে পারবেন চলতি পথেই। বিকালের দিকে চলে আসুন কলেজ রোডে। সারি সারি বইয়ের দোকান আপনাকে আকর্ষণ করতে বাধ্য। বইপ্রেমী হলে পুরো একটা দিন কাটিয়ে দিতে পারেন এখানে। সেই সাথে মান্না দে'র বিখ্যাত কফি হাউজে একটু নাস্তাও করে ফেলতে পারেন। ততক্ষণে রাত হয়ে যাবে।
আশুতোষ মিউজিয়াম। ছবি : ওয়াটস্ আপ লাইফ
সকালে বের হয়ে পড়ুন আবারও। কোলকাতার সাইন্স সিটি ঘুরে আসতে পারেন এই দিনে। ঘুরে বেড়াতে পারেন কলকাতা শহর দিয়ে। পুরনো এই শহরে পাবেন অনেক প্রাচীন মন্দির। মুসলিম শাসনামলের স্মৃতি ধরে রাখা মসজিদ, ইমামবাড়া। চলচ্চিত্রে দেখানো কোলকাতার পুরনো অংশ ঘুরে দেখতে পারেন। একসাথে কলকাতার নতুন ও পুরোনো শহর আপনাকে ইতিহাস ও আধুনিকতার এক সুন্দর অনুভূতি দিবে।
কোলকাতায় চড়তে পারবেন মেট্রোরেলেও। বিকালের আগে চলে যান দমদম এয়ারপোর্টে। আলো কমে আসার সাথে সাথে আলো জ্বলে উঠতে থাকবে সুবিশাল এই এয়ারপোর্টে। এয়ারপোর্টের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। সন্ধ্যা হলে চলে আসুন নিউমার্কেটে। আপনার প্রয়োজনীয় শপিং করে নিতে পারেন এখান থেকে। দামাদামি করতে পারলে বেশ কমেই পেয়ে যাবেন অনেক জিনিস। এখানেই পাবেন বিশ্ববিখ্যাত বেশিরভাগ ব্র্যান্ড শপ।
রাতের বেলা আলোকিত শহর কোলকাতা। ছবি : ফেব হোটেলস
কোলকাতা ঘুরাঘুরি এই পর্যন্তই। পরদিন সকালে আবার বেরিয়ে পড়ুন। একই পদ্ধতিতে শিয়ালদাহ থেকে বনগাঁ, সেখান থেকে বর্ডার। অবশ্যই বিকাল ৫টার আগে বর্ডার পার হবেন। নাহলে শেষ সময়ে আটকে যেতে পারেন।
পরবর্তী পর্বে কলকাতায় ঘুরাঘুরির সময়ে কি কি খেতে পারেন সেসব নিয়ে লেখা হবে। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের বদনাম হয়।