জেনে নিন দক্ষিণ ভারতের কেরালা প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী ও রসনামৃত খাবার সম্পর্কে

ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি খাদ্যে ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ কেরালা

ভারতের দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রদেশটি বিখ্যাত এর অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য। পাশাপাশি এই অঞ্চলটি বেশ সুপরিচিত এর ইউনিক এবং বিভিন্ন রকমের খাদ্য সমাহারের জন্য। রন্ধনশৈলির বিভিন্ন ফ্লেভার, মিশ্রণ এবং ক্লাসিক রেসিপি একে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় প্রদেশে পরিণত করেছে। ঐতিহ্যবাহী এই রন্ধনশৈলিতে কেরালা ঐতিহ্যই যেন ফুটে ওঠে। চলুন জেনে আসা যাক কেরালার বিখ্যাত খাবার নিয়ে।

পুট্টু এবং কেদালা কারি


পুট্টু এবং কেদালা কারি Varutharacha Kadala Curry

সকালের নাস্তা হিসেবে বিখ্যাত পুট্টু এবং কেদালা কারি; ছবি : পিপার ডিলাইট ডট কম


 কেরালার জনপ্রিয় সকালের নাস্তার প্রধান খাবার এটি। পুট্টু লম্বা গোলাকার আকৃতির স্টিম রাইস যা কোকোনাট সহকারে তৈরি করা হয়। এটি মূলত সার্ভ করা হয় কেদালা কারির সাথে। কেদালা কারি ছোলা, কোকোনাট মিল্ক এবং মসলা দিয়ে রান্না করা তরকারী। এটি অবশ্য পাকা কলা এবং ঝুনা নারিকেলের সাথেও পরিবেশন করা হয়ে থাকে।

আপ্পাম


কেরালার বিখ্যাত খাবার আপ্পাম Appam

পাতলা প্যান কেকের মতো দেখতে চালের আটা এবং নারকেল দুধ দিয়ে তৈরি আপ্পাম; ছবি : পিপার ডিলাইট ডট কম


 চালের আটা এবং কোকোনাট মিল্ক দিয়ে রান্না করা কেরালার বিখ্যাত খাবার এর একটি আপ্পাম। এটি দেখতে পাতলা প্যান কেকের মত কিন্তু ক্রিস্পি। সব উপাদান দিয়ে এটি ভাপে রান্না করা হয়। ফ্লেভারের জন্য এটিতে আম, সবজি কিংবা মুরগিও যোগ করা হয়। তবে এই রন্ধনশৈলির মূল উপাদান কোকোনাট যা খাবারকে মিষ্টি ফ্লেভার দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন : লাক্ষাদ্বীপ : নীলাভ জলের মাঝে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

কারিমীন পল্লিছাঠু/মাছ

কেরালার বিখ্যাত খাবার কারিমীন পল্লিছাঠু/মাছ

লেবুর রস, লাল মরিচ এবং মসলা সহকারে পাতাযোগে ভাপে রান্না করা কারিমীন পল্লিছাঠু/মাছ; ছবি : মাই কুকিং ক্যানভাস ডট কম


যেসব খাবার কেরালার পরিচয় বহন করে তাদের মাঝে এটি অন্যতম। এই প্রদেশের ব্যাকওয়াটার ভ্রমণে এটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। লেবুর রস, লাল মরিচ এবং মসলা সহকারে এটি পাতাযোগে ভাপে রান্না করা হয় যা একে ইউনিক সুন্দর এক ফ্লেভার দিয়েছে ।

মালাবার পরোটা এবং বিফ কারি

কেরালার বিখ্যাত খাবার মালাবার পরোটা এবং বিফ কারি

জনপ্রিয় খাবার মালাবার পরোটা এবং বিফ কারি; ছবি : ভোগ ইন্ডিয়া


 মালাবার পরোটার বিশেষত্ব এই যে এটি ময়দা, ডিম, ঘি এবং পানির সাথে স্পেশাল ভাবে বানানো হয়। বিফ কারিটি তৈরি করা হয় টমটো, পেয়াজ, আদা এবং বিভিন্ন মসলা সহকারে যা একে বেশ ইউনিক টেস্ট দান করে। মালার পরোটা এই বীফ কারির সাথে বেশ জনপ্রিয় কেরালায়।

পালাদা পায়াসাম

কেরালার বিখ্যাত খাবার পালাদা পায়াসাম

বিভিন্ন উৎসবে কেরালার জনপ্রিয় মিষ্টান্ন পালাদা পায়াসাম; ছবি : এসেন্স অফ লাইফ


এটি মূলত মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার যা ওনাম সহ বিভিন্ন উৎসবে কেরালার প্রত্যেক ঘরেই বানানো হয়। যদিও এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, তবে এর মূল রন্ধন প্রণালী একটিই। রাইস আদার সাথে দুধ, চিনি এবং ঘী দ্বারা এটি তৈরী করা হয়।

আরও পড়ুন : জেনে নিন ইরানের মজাদার খাবার দাবার নিয়ে

কেরালা প্রন কারি

Kerala-Prawn-Curry কেরালা প্রন কারি

কেরালার সিগনেচার ডিশ প্রন কারি; ছবি : দ্যা ডেইলি স্লোডাউন


কেরালার সিগ্নেচার ডিশ এটি। মাস্টার্ড, কোকোনাট মিল্ক , গ্রিন চিলি, ফিনেল সিডস ইত্যাদি দিয়ে এটি রান্না করা হয়। এর স্পেশাল উপাদান এক ধরনের বেরী যা টক স্বাদ নিয়ে আসে তরকারীটিতে। এছাড়াও ট্যাঙ্গি এবং ঝাল ফ্লেভারের জন্য ড্রামস্টিক এবং ম্যাঙ্গো যোগ করা হয়।

থালাসেরী বিরিয়ানি

tথালাসেরী বিরিয়ানি halassery-dum-biriyani-recipe

কাইমা প্রজাতির চাল দিয়ে রান্না করা থালাসেরী বিরিয়ানি; ছবি : রেসিপিস আর সিম্পল ডট কম


বিরিয়ানি মুসলিম জনপদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় এক খাবার। কাইমা নামক প্রজাতির চাল দ্বারা এই বিরিয়ানিটি রান্না করা হয়। সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় এখানের বন্দর দিয়ে বিভিন্ন দেশের মসলা আমদানি এর রন্ধনশৈলিকে করেছে সমৃদ্ধ। অল্প আচে রান্না করা মাংসের ওপর সেদ্ধ করা চাল দেয়ার পর ঢাকনা দিয়ে সীল করা হয়। এভাবেই এই সুস্বাদু বিরিয়ানি রান্না করা হয়ে থাকে।

ব্যানানা ফ্রিটার্স

Banana fritters ব্যানানা ফ্রিটার্স

পাযাম পুরি হিসেবে পরিচিত ব্যানানা ফ্রিটার্স; ছবি : গুড টু নো ডট সিও


 

হালকা নাস্তা হিসেবে কেরালায় এটি ব্যাপক জনপ্রিয়। পাযাম পুরি নামেই স্থানীয় ভাবে পরিচিত। এটির বানানো প্রণালী বেশ সহজ। পাকা কলা ময়দার সহযোগে শুধু তেলে ভাজা হয়। কেরালার প্রায় সব জায়গায় এটি পাওয়া যায়। কেরালার সংস্কৃতিতে এসব খাবার যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই মুখরোচক খাবারগুলি পর্যটকদের ভ্রমণে পরিতৃপ্ত করে । কেরালা ভ্রমণে এই খাবারগুলো নি:সন্দেহে এক সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।  

মোঃ খালিদ বিন জামান    এস এম