গুলমার্গ : কাশ্মীরের স্বর্গীয় উপত্যকা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভারতের সেরা ক্যাবল কার আর স্কিং উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসুন গুলমার্গ



গুলমার্গ Gulmarg

বরফের রাজ্য গুলমার্গের স্বর্গীয় রূপ। ছবি : ট্রাভেল ট্রায়াঙ্গল ডট কম।


কথায় আছে, গোটা ভারত ভ্রমণ করলে পুরো পৃথিবীই দেখা হয়ে যায়। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই দেশটি বৈচিত্র্যতার দিক থেকে ভীষণ সমৃদ্ধ। প্রকৃতির নানা রূপের দেখা মিলে এখানে। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, আবহাওয়া, সংস্কৃতির এই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন রূপ মুগ্ধ করে পর্যটকদের। প্রকৃতির অপার রূপে ভরপুর ভারতের দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবেনা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এবং খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেরই দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য ভারত প্রথম পছন্দ। আমাদের দেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পছন্দের জায়গা হল ভারতের কাশ্মীর

স্বর্গীয় সৌন্দর্যের কাশ্মীরের রূপের কথা কে না জানে। এই স্বর্গের অন্যতম একটি সেরা জায়গা হল গুলমার্গ (Gulmarg)। পৃথিবীর ভূস্বর্গ কাশ্মীর-এর সৌন্দর্য ঐশ্বরিক। এই উপত্যকাটির মত এমন রূপ-লাবণ্য পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। বরফ, পাহাড়, নদী, নীল আকাশ, চিরসবুজ অরণ্য সব মিলিয়ে স্বর্গ যেন মর্ত্যে অবতরণ করেছে। এই কাশ্মীরের অপার এক সৌন্দর্যের জায়গা হল গুলমার্গ।

গুলমার্গ

ঐশ্বর্যময় এই জায়গাটি কাশ্মীরের সেরা জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। গুলমার্গ জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকার বারমুলা জেলার অবস্থিত। পাকিস্তান সীমান্ত থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার এবং শ্রীনগর থেকে গুলমার্গের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার। গুলমার্গ নামকরণ নিয়ে নানান মত রয়েছে। কারও কারও মতে, হিন্দু দেবতা শিবের স্ত্রীর নামে এই পর্বতের নাম রাখা হয় গৌরিমার্গ যা কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে গুলমার্গ হয়। আবার অনেকে মনে করেন, কাশ্মীরের সুলতান ইউসুফ শাহ্ চক ১৫৮১ সালে এই উপত্যকায় আসেন। পাহাড়ের ঢালে ফুলের বাহার দেখে তিনি এর নাম রাখেন গুলমার্গ। কাশ্মীরি ভাষায় গুলমার্গ মানে ফুলের উপত্যকা। শীতের সময় দিগন্ত জোড়া বরফে ঢাকা থাকে এই উপত্যকা।


গুলমার্গ Gulmarg

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাবল কার উপভোগ করা যায় গুলমার্গে। ছবি : মেইক মাই ট্রিপ


আকাশ থেকেও ঝিরিঝিরি তুষার কণা ঝরে এখানে। আবার এই বরফ গলে গেলে উপত্যকাজুড়ে রঙিন বনফুলের আসর বসে। সেসময় মনে হয় স্বর্গের পরী নেমে এসেছে পৃথিবীতে। এমনকি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে গুলমার্গে রঙ ও রূপের চমৎকার পরিবর্তন দেখা যায়। গরমের সময়ে যেমন ঠাণ্ডা আবহাওয়া পেতে পর্যটকরা এখানে ছুটি কাটাতে আসেন আবার তেমনই শীতের সময়ে আসেন শুভ্র বরফের সৌন্দর্য দেখতে।

স্কিয়িং এর জন্য ভারতের শ্রেষ্ঠ জায়গা হল এই গুলমার্গ

গুলমার্গের মূল আকর্ষণ দুটি। একটি হল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাবল কার আর অন্যটি হল এশিয়ার চতুর্থ স্কিং অঞ্চল। এখানে ব্রিটিশ শাসনের সময়েই স্কিয়িং ক্লাব তৈরি করা হয়। শীতকালে এখানে অনেকে শুধু স্কিয়িংই করতে আসেন। এখানকার বরফের ঢালগুলো খুব একটা কঠিন নয়। তাই আপনি স্কিয়িং-এ অনভিজ্ঞ হলেও সহজেই পেরে যাবেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় স্কিয়িং সরঞ্জাম ভাড়া করার জন্য এখানে প্রচুর দোকান রয়েছে। সাথে অনেক স্কিয়িং প্রশিক্ষকও আছেন যারা আপনাকে সাহায্য করবে। শীতে এখানে বিভিন্ন ধরনের স্কিয়িং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও শীতকালে আরও নানা ধরনের খেলার আয়োজন করা হয় এখানে। তাছাড়া কাঠের তৈরি স্লিজিং এবং বিভিন্ন বরফের মটর রাইড উপভোগ করার ব্যবস্থাও আছে এখানে।

গন্ডোলা

গুলমার্গে এসে গন্ডোলা নামের ক্যাবল কারে চড়া পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। গন্ডোলার এই যাত্রা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথমটি গুলমার্গ থেকে কুংডুরে যায়, যা প্রায় ১০ হাজার ফুট উঁচুতে এবং দ্বিতীয়টি কুংডুর থেকে আফারওয়াত পর্যন্ত যায়, যা প্রায় ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে। এখানে একটি চেয়ার লিফটও রয়েছে যা পর্যটকদের কুংডুরে থেকে মেরীর সোল্ডার পর্যন্ত নিয়ে যায়। যাত্রাপথে উপভোগ করতে পারবেন বরফে ঢাকা প্রকৃতির মোহনীয় সৌন্দর্য।


গুলমার্গ Gulmarg

গ্রীষ্মের গুলমার্গ এভাবেই ছেয়ে যায় প্রকৃতির সজীবতায়। ছবি : ওয়োরুমস ডট কম


গন্ডোলা থেকে দেখতে পাবেন তুষারপাত নিচের পাইন জঙ্গলকে কি চমৎকার সাদা রঙে ভরিয়ে তুলেছে। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ ও সাদার নিবিড় মায়ার মাখামাখি। পাহাড়, নদী, পাইন, দেওদার ও ফারের জঙ্গলে তুলোর মত বরফের সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। মনে হবে যেনও স্বর্গে বিচরণ করছেন।

আরো দর্শনীয় জায়গাগুলো

এছাড়া গুলমার্গ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরেই একটি গ্রাম রয়েছে। সুফি সন্ত বাবা পায়মুদ্দিনের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। গুলমার্গে এলে এখানে আসবেনই। গুলমার্গে আরও রয়েছে সেন্ট মেরী চার্চ, বিশ্বের সর্বোচ্চ উঁচু স্থানে গলফ খেলার মাঠ। বসন্তে এই মাঠ ছেয়ে যায় অপার সবুজে । মে-জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এখানকার বিস্তীর্ণ বাগিচাগুলো ছেয়ে যায় নানান রঙ্গের ফুলে। এই রূপ-মাধুর্য কল্পনার রাজ্যকেও হার মানায়।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম