হিমাচল প্রদেশের কিন্নর কৈলাস পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত মনোমুগ্ধকর গ্রাম কল্পা। ছবি : ইউ এন ট্রাভেল ডট কম
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ ভারত বৈচিত্র্যতার দিক থেকে ভীষণ সমৃদ্ধ। প্রকৃতির নানা রূপের দেখা মিলে এখানে। বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি, আবহাওয়া, সংস্কৃতির এই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন রূপ মুগ্ধ করে পর্যটকদের।
প্রকৃতির অপার রূপে ভরপুর ভারতের দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা গুনে শেষ করা যাবেনা। আমাদের প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এবং খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেরই দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য ভারত প্রথম পছন্দ।
কল্পা
ভারতের দার্জিলিং, সিকিম, সিমলা, মানালি ইত্যাদি জায়গা তাই পর্যটকদের নিকট খুব জনপ্রিয়। তবে 'ল্যান্ড অফ গড' হিসেবে পরিচিত হিমাচল প্রদেশও সৌন্দর্যের দিক থেকে কোন অংশে কম নয়।
হিমাচল প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রাম হল কল্পা (kalpa)। অপার সৌন্দর্যের এই গ্রামটি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না কতটা সৌন্দর্য সৃষ্টিকর্তা এখানে ঢেলে দিয়েছেন।
অবস্থান
হিমাচল প্রদেশের কিন্নর কৈলাস পাহাড়ের গায়ে কল্পার অবস্থান। ৯,০০০ ফুট উচ্চতায় কল্পা গ্রামটি অবস্থিত। কল্পা হল কিন্নরিদের দেশ। কিন্নর হল ভারতের শেষ ভূখণ্ড।
এই শেষপ্রান্তের অঞ্চলটি একসময় চিনি নামে পরিচিত ছিল। কল্পা কল্পনার দেশের মতই সুন্দর। প্রকৃতির শিল্পী যেনও মনের মাধুরী মিশিয়ে এই গ্রামটি এঁকেছে। হিমাচলের এক কল্পলোক হল কল্পা।
কিন্নর কৈলাস রেঞ্জের বরফের পাহাড়ে সূর্যাস্তের সময় চমৎকার রঙবেরঙের খেলা দেখতে পাবেন। ছবি : উইকিমিডিয়া
তুষার এবং সবুজের এক নিবিড় সম্পর্ক দেখবেন এখানে। সবুজের মাঝে অরণ্যের বুনো গাছপালা আবার তেমনি আছে ফলজ গাছের সমাহার। এখানে মন ভরে ফল খেতে নেই কোনও মানা।
কল্পার মাথার ওপর বরফ মোড়া শৃঙ্গরাজ। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের দু-পাশে পাইন গাছের ফাঁকে পবিত্র কৈলাশ শৃঙ্গের মোহনীয় রূপ চোখে পড়ে। কল্পার আছে ভিন্ন ভিন্ন রূপ। শীতে প্রচণ্ড তুষারপাতে এই গ্রামটি ঢেকে যায়। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোদের অভাবে কিছু দেখা যায় না। শুভ্র চাদরে ঢেকে যায় পুরো কল্পা।
কিন্নর কৈলাস রেঞ্জের বরফের পাহাড়ে সূর্যাস্তের সময় চমৎকার রঙবেরঙের খেলা দেখতে পাবেন। এই দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর। কল্পায় আপেল, নাশপাতি, আখরোট ফলের বাগান দেখতে পাবেন। কল্পার গোল্ডেন আপেলের সুখ্যাতি আছে বিশ্বজুড়ে। পাইন গাছে ঢাকা নির্জন পাহাড়ি পথে হাঁটতে আপনার ভীষণ ভালো লাগবে।
কিন্নর-কৈলাশ শৃঙ্গের মুখোমুখিতে ৭৯ ফুট উঁচু খাড়াই এক পাথর খণ্ড আছে। স্থানীয়রা একে শিবলিঙ্গ হিসেবে পূজা করেন। এই শিবলিঙ্গটি দিনের বিভিন্ন সময়ে রঙ বদলায়। কল্পা থেকে টানা দুই দিন হেঁটে এই লিঙ্গের কাছে যেতে পারবেন।
নাচ-গান, হৈ- হুল্লোড়, বাঁশি আর মাদলের সুরে গ্রামবাসী আপনাকে মাতিয়ে রাখবে। ছবি : এইচ পি কিন্নুর
চিনি গ্রাম
কল্পার ঠিক নীচের অংশে রয়েছে চিনি গ্রাম। এখানে কাঠ, পাথর, দিয়ে বানানো বাড়িঘরগুলো দারুণ নান্দনিক। দরজা-জানালা চমৎকার নকশা কাটা। গ্রামবাসীরা সর্বদাই হাস্যজ্জ্বল।
এদের সমাজব্যবস্থা মাতৃ-তান্ত্রিক। নাচ-গান, হৈ- হুল্লোড়, বাঁশি আর মাদলের সুরে গ্রামবাসী আপনাকে মাতিয়ে রাখবে।
গ্রামের মানুষের এই অতিথিয়তায় আপনি মুগ্ধ হবেনই। এই গ্রামে দেখতে পাবেন সামদুব চোলিং বৌদ্ধ গুম্ফা। আরও আছে নারায়ণ নাগিনী মন্দির। রঙচঙা বৌদ্ধ মন্দিরের সমাহিত বৌদ্ধমূর্তি আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানকার হিন্দু দেবদেবী মন্দিরের কাঠের হিমাচলী সূক্ষ্ম কাজগুলো দারুণ নজরকাড়া।
কল্পার সৌন্দর্য পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে হাতে অন্তত দু'দিন সময় নিয়ে যাবেন। কল্পা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আছে পাঙ্গি গ্রাম। অপরূপ সৌন্দর্যের পাঙ্গির প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনাকে বিমোহিত করবে। এছাড়া কল্পা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ইকো পয়েন্ট আর সুইসাইড পয়েন্ট আছে। এই দুটো মনোরম জায়গা দেখে চলে আসুন রোখি গ্রামে। রোখির চারপাশের তুষার শুভ্র শৃঙ্গঘেরা রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
যেভাবে যাবেন :
সিমলা থেকে হিমাচল রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসে চড়ে কল্পার জেলা সদর রেকংমিও পৌঁছে যাবেন৷ সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে কল্পায় যেতে আধঘণ্টা সময় লাগে৷
যেখানে থাকবেন :
কল্পাতে থাকবার সবচেয়ে ভালো জায়গা হল হিমাচল প্রদেশ পর্যটনের হোটেল কিন্নর কৈলাস। এছাড়াও এখানে আছে সান এন স্নো কটেজ, কৈলাস কটেজ, দি গ্র্যান্ড সাংগ্রিলা, মোনাল রেসিডেন্সি ইত্যাদি।