ঢাকার অদূরেই গয়নার গ্রাম ভাকুর্তা, আমিনবাজার
নান্দনিক নকশা এবং রঙ এইসব গয়নাকে ফ্যাশন সচেতন তরুণীদের নিকটও জনপ্রিয় করে তুলেছে
ঢাকার অদূরে হেমায়েতপুরের এক গ্রাম ভাকুর্তা। সম্প্রতি ভাকুর্তা গয়নার গ্রাম হিসেবে খুব পরিচিত হয়ে উঠছে। ঢাকার নিউমার্কেট, আজিজ সুপার, চাঁদনীচক মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় সব বড় বড় শপিং মলে যেসব গয়না দেখে সকলে আকৃষ্ট হয় তাঁর অনেকটা সরবরাহ হয় এই গ্রাম থেকেই। বর্তমানে এন্টিক বা সিলভার গয়না অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নান্দনিক নকশা এবং রঙ এইসব গয়নাকে ফ্যাশন সচেতন তরুণীদের নিকটও জনপ্রিয় করে তুলেছে। রাজধানী শহর ঢাকার নিকটবর্তী বুড়িগঙ্গা তীরের গ্রামীণ এবং শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে থাকা এক জনপদ ভাকুর্তা। সাভার উপজেলার ইউনিয়ন এটি। গয়না তৈরিই যাদের প্রধান পেশা। গয়না শিল্প এসে একদম আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিয়েছে এই জনপদের। ব্রিটিশ আমল থেকেই এই জনপদের মানুষেরা গয়না শিল্পের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।
ভাকুর্তা
এই ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রামের মধ্যে ভাকুর্তা সহ চুনারচর, ডোমরাকান্দা, সোলারমার্কেট, খাগুড়িয়া, নলাগুড়িয়া, মোগরাকান্দা, চাপরা, কান্দিভাকুর্তা, হিন্দুভাকুর্তা, বাহেরচর, মুশরিখোলা, ঝাউচর, লুটেরচর, চরতুলাতলি, চাইরা গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ এই গয়না শিল্পের সাথে যুক্ত। প্রায় দশ হাজার লোক এই গয়না শিল্পের সাথে জড়িত। বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকার গয়না তৈরি হয় এখানে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এখানে কাজ করে এবং ছেলে মেয়েরাও স্কুল থেকে ফিরে টুকটাক কাজ করে নিজেদের পড়ার খরচ নিজেরাই চালিয়ে নেয়। ভাকুর্তা'য় প্রত্যেকটি ঘরের সামনে বা ভেতরে গয়না তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে। উজ্জ্বল আলোর ফুল্কি ছড়িয়ে কারিগররা সকাল সন্ধ্যা এখানে গলার হার, হাতের চুড়ি, কানের দুল, ঝুমকা, চেন, পায়েল ও নূপুর তৈরিতে কাজ করে যায়। জানা যায় আশির দশকে এখানে স্বর্ণ ও রূপার গয়না তৈরি হতো।কিন্তু ধিরে ধিরে দাম বাড়তে থাকায় কারিগরেরা তামা ও পিতলের গহনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৯০ এর দশকে এসে এখানে ইমিটেশন গহনাই মূলত তৈরি হতে থাকে। এবং বাজারেও তামা ও পিতলের গয়নার চাহিদাও বেড়ে যায় ক্রমান্বয়ে। আর তাঁর ফলাফলে এই গ্রামে বাড়তে থাকে গয়না তৈরির তোড়ঝোড়। ভাকুর্তায় তৈরি গয়নার কাঁচামাল আনা হয় পুরাণ ঢাকার তাঁতিবাজার এবং বগুড়া থেকে। তাঁতিবাজারের ব্যবসায়ীরা এইসব কাঁচামাল আবার আমদানি করেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। প্রাথমিকভাবে তৈরি গয়না গুলো অপরিশোধিত অবস্থায় থাকে। এখান থেকে পাইকাররা কিনে নিয়ে পরিশোধন ও রঙ করে বাজারে বিক্রি করে থাকেন। ভাকুর্তায় গ্রামের নামেই রয়েছে একটি বাজার।
এই বাজার থেকেই গহনা গুলো বিক্রি হয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই গ্রামের গয়না ভারত সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে। কাচা আধা পাকা টিনের ঘরে গয়না সাজিয়ে বসে থাকে বিভিন্ন বয়সের কারিগরেরা। এই ইউনিয়নের রয়েছে ২৫০-৩০০ টি দোকান রয়েছে। পাইকার দরে বিক্রি হওয়া এইসব গয়নার দাম শপিং মল গুলোর চাইতে কয়েকগুণ কম। দাম ও ডিজাইনের আকারের উপর নির্ভর করে দাম। কেউ চাইলে নিজস্ব ডিজাইনেও গয়না তৈরি করে নিয়ে আসতে পারেন।
যেভাবে যাবেন ভাকুর্তা :
ঢাকা থেকে যেকোনো প্রান্ত হতেই আমিন বাজারের বাস পাবেন। বাসে করে আমিনবাজার পার হলেই হাতের বামে একটা জরাজীর্ণ বেইল ব্রিজ চোখে পড়বে। ব্রিজটি ধরে সামনে এগুলেই মোগরকান্দা আর তারপরই পাবেন ভাকুর্তা। নিজস্ব গাড়ি থাকলে যাতায়াত অনেকটাই সহজ। এবং আশপাশের গ্রামীণ জীবন ঘুরে ঘুরে দেখতে পাবেন।সাখাওয়াত হোসেন এস এম
