জাপানের অদ্ভুত যত সব খাবারের রীতি

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : অনেকের গায়েই ছমছম ভাব ধরতে পারে জাপানিজ ফুড দেখে

japanese food ছবি : বুকিং ডট কম

নিজস্বতায় জাপানকে টেক্কা দেয়া বেশ কঠিন। ইতিহাস ঐতিহ্যের পাশাপাশি খাবারের বিভিন্নতার ক্ষেত্রেও তারা বেশ আলাদাই বলা যায়। এসব খাবার বেশ স্বাস্থ্যকর এবং এতে রয়েছে এন্টি এইজিং ফ্যাক্টর যা বয়সকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। জাপানি খাবার হিসেবে সুশি, সাসিমি ইত্যাদির সাথে আমরা কমবেশি পরিচিত তবে এর বাইরেও জাপানিদের রয়েছে কিছু বিচিত্র খাবারশৈলী। বেশ অপরিচিত এই খাবার প্রক্রিয়া জাপানের বাইরের জনগনের কাছে একটু অদ্ভুতই বলা যায়।

সি গ্রেপস :

sea-grapes-dish ছবি : কুশেন জাপান

 সি গ্রেপস মূলত এক প্রকার সি উইড যা বিভিন্ন প্রকার সি ফুড তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। সাসিমি তৈরিতেও সি গ্রেপস ব্যবহৃত হয়। সি গ্রেপস শুধু চেখে দেখলে মুখে লবণাক্ত স্বাদ পেতে পারেন তবে এর মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ সহ বিভিন্ন প্রকার খণিজ পদার্থ উপস্থিত থাকে বিধায় শরীরের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর। জাপানের দক্ষিণে ওকিনাওয়া আইল্যান্ডের অগভীর পানিতে উৎপাদিত এই সী উইড জাপানে ইউমিবুদো নামেই বেশি পরিচিত।

বাসাসি : বাসাসি মূলত ঘোড়ার কাঁচা মাংস যা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করা হয় সয়া সস, রসুন কিংবা ওয়াসাবির সাথে। বাসাসির প্রচলন কবে এবং কিভাবে শুরু হয় তা নিয়ে বেশ কিছু গল্প প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে বাসাসি জাপানের কায়াসু দ্বীপের কুয়ামামুতুর একটা বিশেষ খাবার। এছাড়া জাপানিদের মধ্যে বাসাসি দিয়ে তৈরি ডেজার্টও বেশ জনপ্রিয়।

যাযামুসি : যাযামুসি মানে সমুদ্রের তীরে যেসব পোকামাকড় পাওয়া যায় তা দিয়ে প্রস্তুতকৃত খাবার। পোকামাকড়ের তৈরি এই খাবার তাজা খেতে চাইলে যেতে হবে জাপানের কোন রেস্টুরেন্টে অথবা চাইলে সুপার মার্কেট থেকে কিনে বাসায় প্রসেস করেও খাওয়া যায়। যাযামুসির মত আরেকটি খাবার হচ্ছে হাচিনুকু যা মূলত মৌমাছির লার্ভা ফ্রাই। সয়া সস আর চিনি দিয়ে ভেজে বেশ মচমচে করে খাওয়া হয় হাচিনুকু। এছাড়া রয়েছে ইনাগু নু সুকুদানি যাজলোকাস্ট পোকা সিদ্ধ করে মিষ্টি সয়া সস দিয়ে বানানো হয়।

ড্যান্সিং স্কুইড :

dancing squid ছবি : বিজনেস ইনসাইডার

অথেনটিক জাপানি খাবারের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ড্যান্সিং স্কুইড। সদ্যমৃত এবং কোষগুলো তখনও সক্রিয় থাকার কারণে খাবার শুরু করার আগে স্কুইডের ওপরে সয়া সস ঢালার সাথে সাথে স্কুইডটি লাফাতে শুরু করবে, সামনে পরিবেশিত জীবিত স্কুইডটি দেখে ভ্রম হতে পারে আপনার।

কুজিরা ভা ইরুকা : এই খাবারটি মূলত তিমির মাংস দিয়ে প্রস্তুতকৃত। তিমির পেটের মাংস দিয়ে তৈরি করা হয় বেকন আর লেজের মাংস ব্যবহার করা হয় শাশামি আর টাটাকি তৈরিতে। গরম আগুনে অল্প কিছু সময় পুড়িয়ে তিমি দিয়ে তৈরি করা হয় জনপ্রিয় এই খাবার।

শিরোও নো ওদোরিগু :

Shirouo ছবি : টাইকেন জাপান

মূলত একপ্রকার স্বচ্ছ মাছ আর Odorigui মানে যা খাওয়ার সময় নড়াচড়া করে। অনেকটা ড্যান্সিং স্কুইডের মত এই খাবারটি মূলত ছোট আকৃতির জীবন্ত মাছ যা সকালের নাস্তায় ডিম কিংবা ভিনেগার মিশিয়ে খাওয়া হয়ে থাকে।

নাট্টু :

Natto_mixed_by_Kinchan ছবি : উইকিমিডিয়া কমনস্

 নাট্টু মূলত গাঁজন করা সয়াবিন। সয়া সসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া বেশ আঠালো ধরনের এই খাবারের তীব্র স্বাদ ও গন্ধের কারণে জাপানের বাইরের মানুষেরা খুব কমই চেখে দেখতে আগ্রহী হন। তবে নাট্টু জাপানের বেশ ঐতিহ্যবাহী এবং জনপ্রিয় খাবার।  


তথ্যসূত্র : khaidai.co roar.media/bangla/main/food/strange-japanies-food www.mentalfloss.com/article/28864/6-odd-things-eaten-japan https://livejapan.com