গন্তব্য যখন চ্যালেঞ্জিং কিছু ঝরনা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : একেকটি প্রপাতের জলধারা যেন জাগতিক সকল সমস্যার প্রতিকার

ডাবল ফলস্ ডাবল ফলস্ নামে বেশি পরিচিত ত্লাবং ঝরনা। ছবি : আদার ব্যাপারী


'পাহাড় ভেঙে নামি আমি পারাবারে মিশি সারাজনম খুঁজলে ও পাবে না মোর দিশি।

আমার কোন দুঃখ নেই তবু দ্যাখো জল বইছে আমার শরীর বেয়ে শব্দে কলকল।'

কবি তিরোহিত ধানিকা বেশ চমৎকারভাবেই ঝরনার পরিচয় কাব্যিক লাইনে ফুটিয়ে তুলেছেন। বলছিলাম কলকল ধ্বনিতে বহমান ঝরনার কথা। অনাবিল সুখের সান্নিধ্য পেতে কে না চায়? প্রকৃতির মাঝে সবুজের বিস্তীর্ণ ছবিতে, রহস্যেঘেরা পাহাড় কিংবা ঝরনার কোলে ডুব দিয়ে অনাবিল সুখ আরোহন করা যায়।

পাহাড়ের পর পাহাড়ে সাজানো সবুজ অরণ্য, বহমান ঝরনার জলধারা মানব আত্মা পরিতুষ্ট করে। ঝরনা, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়া পরিবেশে মন হারিয়ে যায় ভিন্ন এক জগতে। এক্ষেত্রে ঝরনার কথা আলাদা করে না বললেই নয়।

ঝরনা তার রূপের সব পসরা সাজিয়ে নব যৌবন চিত্র ফুটিয়ে তুলে বর্ষাকালে। ভ্রমণপিয়াসী পর্যটকেরা তাই সুযোগ পেলেই ছুটে যায় ঝরনার পানে। বাংলাদেশের ঝরনাগুলোর অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যগুলো যেন আলাদা করে পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

সংগ্রামপুঞ্জ জলপ্রপাত :

সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা মায়াবী ঝরনা নামে পরিচিত সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনা। ছবি : সংগৃহীত

সংগ্রামপুঞ্জ জলপ্রপাতের অন্য নাম মায়াবী ঝরনা। এই ঝরনা অবস্থিত সিলেটের জাফলং-এ। জাফলং-এর অন্যতম আকর্ষণ সংগ্রামপুঞ্জ ঝরনা। ভারতের সীমানায় অবস্থিত এই আকর্ষণীয় ঝরনাটি দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে বহু পর্যটক এসে থাকেন। জাফলং এর জিরো পয়েন্ট থেকে ২০ মিনিট দূরেই সংগ্রামপুঞ্জ ঝরনা অবস্থিত। ঝরনায় রূপ দেখার জন্য বর্ষাকাল সবথেকে উত্তম সময়।

আমিয়াখুম জলপ্রপাত :

অনাবিল সুখে বার বার ডাকে আমিয়াখুম ঝরনা। অনাবিল সুখে বার বার ডাকে আমিয়াখুম ঝরনা। ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবানে থানচি উপজেলায় থানচি উপজেলার টিন্ডু অঞ্চলে এই চমৎকার ঝরনাটি অবস্থিত। আমিয়াখুম ঝরনার প্রাকৃতিক পরিবেশের অপরূপ লীলাখেলা না দেখলে হয়তো ঝরনা দেখার প্রকৃত স্বাদ বাকির খাতায় পরে থাকবে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমানা প্রান্তে আমিয়াখুম জলপ্রপাত এর অবস্থান। জলপ্রপাতের পৌঁছানোর জন্য যে পথ রয়েছে সেখানে ভ্রমণও বেশ আনন্দদায়ক।

হাজাছড়া ঝরনা :

হাজাছরা ঝর্ণা ছবি : শিহাব

হাজাছড়া ঝরনা রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। মূল রাস্তা থেকে ১৫  মিনিট দূরে হাজাছড়া ঝরনার অবস্থান। এখানকার হিম শীতল পানি শরীর এবং মন দুটোই প্রশান্তিতে ভরে তোলে। এই ঝরনার আরেক অদ্ভুত নাম দশ নাম্বার ঝরনা।

রিজুক ঝরনা :


রিজুক ঝরনা যারা কোলাহল মুক্ত পরিবেশে ঝরনা দেখতে চান তারা যেতে পারেন রিজুক ঝরনায়। ছবি : আদার ব্যাপারী

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত রিজুক ঝরনা। ৩০০ ফুট উঁচু থেকে প্রবাহিত পানির ধারা সাঙ্গু নদীতে মিশেছে। এখানকার মুক্তার মত পানি বেশ উজ্জ্বল। চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের বেশ আকর্ষণ করে। বর্ষাকালে ঝরনার আসল রূপ দেখতে পাওয়া যায়।

বড় কমলদহ জলপ্রপাত :

বড় কমলদহ জলপ্রপাত ছবি : গ্রিন বেল্ট

এটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে অবস্থিত। বড় কমলদহ জলপ্রপাতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ যেন অন্য এক বিস্ময়কর অনুভূতি মনের মধ্যে জাগ্রত করে। আশে পাশের পাহাড়ের মাঝে এত চমৎকার একটি ঝরনা দেখে যে কারও মন ভালো হয়ে যাবে। এখানে উজান মুখে পানি বয়ে যাওয়ার দৃশ্য সত্যিই অভাবনীয়। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা এখানে ভ্রমণ করতে যান।

রাইখাং ঝরনা :


রাইখাং ঝর্ণা বিমোহিত করা রাঙামাটি জেলার রাইখাং ঝরনার রূপ। ছবি : রনো'স ট্রাভেল

 রাইখাং ঝরনা রাঙামাটিতে অবস্থিত। এখানকার বিস্তৃত জলরাশি এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। রাঙ্গামাটি জেলা সচারচর সৌন্দর্যের আধার হিসেবে পরিচিত। আর বিস্তীর্ণ জনপদগুলোর মাঝে জেগে উঠা ঝরনাগুলো জেলার রূপের মাত্রা অন্য এক স্তরে নিয়ে গিয়েছে। রাইখাং ঝরনায় পৌঁছাতে গেলে বেশ কয়েকটি রুট রয়েছে। তবে বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা থেকেই যাওয়া বেশি সুবিধাজনক।