অটোমান সম্রাটদের রাজপ্রাসাদ টপকাপি প্রাসাদ, তুরস্ক
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : যেখানে সংরক্ষিত আছে নবী-রাসুলদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র

ইতিহাস
এটি ১৪৫৩ সালে নির্মিত। সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ এটি নির্মাণ করেন ইস্তানবুল জয়ের ৬ বছর পর। তবে টপকাপি প্রাসাদ একিই সাথে খিলাফতের ও শেষ চিহ্ন। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুর্কি মুসলিমদের হাতে গড়ে ওঠা এই প্রাসাদ বহু বিবর্তনের সাক্ষী।
টপকাপি প্রাসাদ দু-ভাগে বিভক্ত
অন্দেরুন ও বাইরুন অথবা অন্দরমহল এবং বহির্বিভাগ। চারটি স্তরে গড়ে ওঠা এই প্রাসাদের দুটি অন্দেরুন এবং বাকী দুটি বাইরুনে। রাজফটক দিয়ে প্রবেশের পরেই দেখা মিলবে হাসপাতাল, অস্ত্রাগার, গুদামঘর এবং গার্ড দের কোয়ার্টার এলাকা। প্যারেড স্কয়ার পার হয়ে দেখা মিলবে 'রাজকীয় দিওয়ান' অথবা 'দরবার'। তৎকালীন সপ্তাহে চারদিন দরবার বসতো। প্রায় সাড়ে তিনশ' বছর ধরে পরম্পরা হিসেবে এটি পালিত হয়েছে। দিওয়ানের দুটো অংশ। উজিরের দরবার এবং রেকর্ড রুম। দরবারের পাশেই অনেক বড় রান্না ঘর। রান্নাঘরের অংশটিতেই চিনা মাটির রান্না সামগ্রীর বিশাল সংগ্রহশালা। বলা হয়ে থাকে যে, এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম রান্না সামগ্রীর সংগ্রহশালা। রান্না ঘরের পাশেই অবস্থিত খাবার ঘর, ডেজার্ট এবং কফি পানের ঘর।
এখানে সবচেয়ে নিরাপত্তার মাঝে সংরক্ষিত হয়ে আছে হজরত মুহাম্মদ (সা)-এর ব্যবহৃত চাদর, পায়ের ছাপ, দাড়ি, দাঁত, দাউদ (আঃ) এবং ইয়াহিয়া (আঃ)-এর তলোয়ার, মুসা (আঃ)-এর লাঠি এবং বিখ্যাত সাহাবার তলোয়ারসহ আরও অনেক কিছু। সাহাবাদের হাতে লিখা কুরআন ও এখানে প্রদর্শন করে রাখা আছে। ইসলামিক ঐতিহ্যের অমূল্য সংগ্রহশালা পসরা যেন এখানে। টপকাপি রাজপ্রাসাদের মূল আকর্ষণ এটিই। একাধারে ধর্মীয় এবং ইতিহাসের দারুণ এক মিলনস্থল এই প্রাসাদটি। এছাড়াও পাহাড়ি কোলে অবস্থিত রেস্তরাঁ এবং তার সামনে বসফরাসের নীল পানির সমাহার আপনার টপকাপি প্যালেস ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।