ডে অব দ্যা ডেড : মৃতদের প্রতি উৎসর্গকৃত ধর্মীয় এক উৎসব
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ডে অব দ্যা ডেড

জীবিতদের স্মৃতি এবং আত্মার মধ্য দিয়ে মৃত ব্যক্তিরা চিরস্থায়িত্ব লাভ করে বলেই এদের বিশ্বাস। আর এসব আত্মার উদ্দেশ্যে এখানে পালন করা হয় তিনদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী এক উৎসব। দিনটিকে বলা হয়, ডে অব দ্যা ডেড (Day of the Dead)। চলুন জেনে আসা যাক ডে অব দ্যা ডেড নিয়ে কিছু কথা… ডে অব দ্যা ডেড ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি ধর্মীয় প্রথা। কয়েক হাজার বছর পুরনো এই প্রথা আজও পালন করা হয় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। এই উৎসবের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবারের মৃত সদস্যদের আত্মার শান্তি ও চিরস্থায়িত্বের উদ্দেশ্যে। জীবন ও মৃত্যুর এক উৎসব হিসেবেই এটি পরিচিত। এই বিশ্বাসীদের মতে মৃতদের প্রতি শোক করা মানে তাঁদের অশ্রদ্ধা করা। কেননা আত্মা ও মানুষের স্মৃতির মধ্য দিয়ে তারা এখনও বেঁচে আছে। যা তাঁদের এই সমাজ এবং সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবেই স্বীকার করছে। আর এই ডে অব দ্যা ডেড উৎসবের সময় তারা পৃথিবীতে ফিরে আসে বলে বিশ্বাস রয়েছে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে।
ইতিহাস
প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ বছর পূর্বে চালু হওয়া এই উৎসবটি আজটেক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নবম মাসে অর্থাৎ আগস্ট মাসের শুরুতে পালিত হতো। প্রায় ১ মাসজুড়ে এই উৎসব চলতো। বৈচিত্র্যময় এই প্রাচীন উৎসবটি লেডি অব দ্যা ডেড হিসেবে পরিচিত দেবী লা ক্যালাভেরা ক্যাটরিনার প্রতি উৎসর্গ করা হয়।
আয়োজন
বিচিত্র রকমের মুখোশ, কঙ্কাল, খুলি, রঙিন পোশাক, ফুল, আলোকসজ্জা, ফুল, ফলমূল, খাবার দাবার সহ বর্ণিল এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেক্সিকোর এই জাতীয় উৎসবটি পালিত হয়। গান গেয়ে, কবিতা আবৃতি এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মৃত সদস্যদের আত্মার প্রতি সম্মান জানায় উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা। মৃতদের সমাধিস্থলে জড়ো হয়ে কিংবা বাসায় বসেও অনেকে এই প্রার্থনার আয়োজন করে। সমাধিস্থলে আসার সময় ফুল এবং বিভিন্ন জিনিশ দিয়ে তৈরি বেদীর পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন রকমের খেলনা এবং বয়স্কদের জন্য টাকিলা এবং বিভিন্ন পানীয় নিয়ে আসা হয়। যদিও শহর ও অঞ্চল বেদে এই আয়োজন ও উৎসবের ভিন্নতাও রয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন এস এম