ঢাকার অনন্য আর্ট গ্যালারি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দৃক কিংবা আঁলিয়াস ফ্রসেজ ছাড়াও ঢাকার রয়েছে বহু আর্ট গ্যালারি
শিল্পসমৃদ্ধ ঢাকার আর্ট গ্যালারি। ছবি : হ্যালো ঢাকা
শিল্প সাহিত্যের দিক থেকে বাংলাদেশ তো বটেই দক্ষিণ এশিয়ারই অন্যতম সমৃদ্ধ শহরের ক্ষেত্রে ঢাকার নাম চলে আসে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান কিংবা এস এম সুলতানদের মত প্রথিতযশা সব চিত্রকরের দেশ হিসেবে চিত্রকলার প্রতি সবসময়ই এদেশের সৃষ্টিশীল মানুষের আলাদা আকর্ষণ ছিল।
ঢাকা শহরে বিভিন্ন আর্ট গ্যালারির মাঝে অন্তত একবার ঘুরে আসলেই বোঝা যায়, এদেশে এখনও চিত্রশিল্পী আর নামী কাজের কদর কতটা বেশি। ঢাকার উল্লেখযোগ্য কিছু আর্ট গ্যালারির নাম করতে গেলে অবশ্য অনেকেরই দৃক কিংবা আঁলিয়াস ফ্রসেজের লা গ্যালারির নাম চলে আসে। তবে এর বাইরেও অসাধারণ কিছু গ্যালারি এখনও অনেকেরই অজানা।
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ
সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতির বড় একটি প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। বেঙ্গল বুকস-এর মত লাইব্রেরি কিংবা ক্লাসিক মিউজিক ফেস্টের আয়োজন করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বড় এক জোয়ার নিয়ে এসেছে। তেমনই এক সংযোজন ছিল বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ।
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ। ছবি : দা ডেইলি স্টার
দেশের শিল্পীদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ আর আন্তর্জাতিক মানের চিত্রকলাকে দেশের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা থেকেই ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ। গুলশানের অভিজাত পাড়ার এই গ্যালারি এখন পর্যন্ত বেশ সফলভাবে বেশ কজন আন্তর্জাতিক শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। সেই সাথে দেশীয় শিল্পীর নিয়মিত পদচারণ তো আছেই। প্রতিষ্ঠিতদের পাশাপাশি নবীন শিল্পীদেরও সুযোগ দিয়ে থাকে এই গ্যালারী।
ঠিকানা : বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জ, ৬০ গুলশান অ্যাভিনিউ, সার্কেল ১, ঢাকা।
ঢাকা আর্ট সেন্টার
২০১০ সালে ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠিত এই গ্যালারিটি মূলত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। দেশের নবীন শিল্পীদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ দেয়ার ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা আর্ট গ্যালারি। ঢাকা আর্ট সেন্টারে ৬টি আলাদা আলাদা গ্যালারি আছে। প্রতিটি গ্যালারি আলাদাভাবে চিত্র, ভাস্কর্য, ভিডিও কিংবা অন্যান্য প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহার করা হয়। এখানে থাকা অডিটোরিয়ামে নিয়মিত স্বল্প ও পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।
ঢাকা আর্ট সেন্টার। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা আর্ট সেন্টার এরইমাঝে দারুণ কিছু প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে দেশের সংস্কৃতি-প্রেমীদের মাঝে ভাল সাড়া ফেলতে পেরেছে। যার মাঝে ফিলাডেলফিয়া প্রবাসী শিল্পী মশিউল চৌধুরীর 'হিডেন ক্যানভাস : ইম্প্রেশন অফ আরবান লাইফ' নামের চিত্র এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী প্রায় সবার মাঝেই আলোড়ন ফেলেছিল।
ঠিকানা : ঢাকা আর্ট সেন্টার, বাড়ি নং ৬০, রোড ৭/এ, ঢাকা।
গ্যালারি জলরঙ
২০০৭ সালে অনলাইন পোর্টাল হিসেবে তাদের যাত্রা শুরু হয়। শুধুমাত্র দেশীয় চিত্রশিল্পীদের কাজের প্রচার ও প্রসার ঘটানোর তাগিদ থেকেই সূচনা হয় জলরঙ এর। ধীরে ধীরে কাজের পরিধিও ব্যাপক আকারে বাড়তে শুরু করে। সেখান থেকেই একপর্যায়ে গ্যালারি আকারেই যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দেশের নবীন শিল্পীদের কাছে সবচেয়ে বিশ্বস্ত এক গ্যালারি হয়ে উঠতে শুরু করে গ্যালারি জলরঙ।
ছবি : হ্যালো ঢাকা
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পটের চিত্র নিয়ে কাজ করা নবীন শিল্পী নাজির হোসাইনের পটচিত্র 'পটের গান' এবং 'বাংলার বাঘ'-এর প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল গ্যালারি জলরঙ। গ্যালারি জলরঙের ভেতর পা রাখলে যেকোনো দর্শনার্থী অন্তত একবার বুঝতে সক্ষম হবেন এদেশের চিত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত।
ঠিকানা : গ্যালারি জলরঙ, বাড়ি ১৩৪, রোড-৩, ব্লক-এ, নিকেতন, গুলশান।
অ্যাথেনা গ্যালারি অফ ফাইন আর্টস
কামরুল হাসানের অসামান্য সব কীর্তি দেখতে চান? তাহলে আপনাকে যেতে হবে অ্যাথেনা গ্যালারি অফ ফাইন আর্টসে। অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই এখন পর্যন্ত দেশীয় শিল্পীদের কাজের সুযোগ করে দিয়েছে অ্যাথেনা গ্যালারি অফ ফাইন আর্টস।
ঢাকা আর্ট সামিট। ছবি : ভোগ ইন্ডিয়া
নবীন থেকে প্রতিষ্ঠিত সব রকম দেশীয় শিল্পীদের আনাগোনা রয়েছে অ্যাথেনা গ্যালারি অফ ফাইন আর্টসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিল্পীদের কাজকে বিশ্বের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাহক নিলু মোর্শেদ এই গ্যালারি চালু করেন। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গ্যালারী বয়সে নবীন হলেও সংগ্রহের দিক থেকে অনেককেই ঈর্ষায় ফেলে দিতে সক্ষম।
ঠিকানা : অ্যাথেনা গ্যালারি অফ ফাইন আর্টস, এজে হাইটস, প্রগতি সরণী সড়ক, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা।
গ্যালারি ২১
দেশের একেবারেই প্রথম সারির গ্যালারি বলা চলে গ্যালারি ২১'কে। ১৯৯৭ সালে শামীম সুবর্ণার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এই গ্যালারি। প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পর ২০০৩ সালে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘ এক দশক পর ২০১৩ সালে আরও একবার খোলা হয় গ্যলারি ২১ এর দরজা।
ছবি : সংগৃহীত
নতুন যাত্রার শুরুতেই সৈয়দ জাহাঙ্গীর, ফারিহা জেবা এবং স্বয়ং শামীম সুবর্ণার যৌথ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল গ্যালারি ২১। নতুন যাত্রার পর থেকে এখন পর্যন্ত বেশ ভালভাবেই চলছে গ্যালারি ২১-এর কার্যক্রম।
ঠিকানা : গ্যালারি ২১, ৭৫১ সাতমসজিদ রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা।
লা গ্যালারি
বাংলাদেশে ফ্রেঞ্চ সংস্কৃতির প্রচার প্রসারে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখার সুবাদে অ্যালিয়াস ফ্রঁসেজ সারা দেশেই বেশ পরিচিত এক নাম। অ্যালিয়াস ফ্রঁসেজের একটি শাখা লা গ্যালারি। বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের শিল্পীদের যৌথ কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক ভাব আদান প্রদানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে লা গ্যালারি।
অ্যালিয়াস ফ্রঁসেজ। ছবি : দা ডেইলি স্টার
দেশের অন্যতম সুপরিচিত এই গ্যালারি প্রতিবছরেই আনুমানিক ২০টি প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকে। লা গ্যালারির সব প্রদর্শনীই দর্শক এবং সমালোচকদের আগ্রহের একেবারে কেন্দ্রে থাকে। চাইলে যেকোনো আগ্রহী দর্শক ঘুরে আসতে পারেন মিরপুর রোডের এই গ্যালারি থেকে।
ঠিকানা : লা গ্যালারি, ২৬ মিরপুর রোড, ঢাকা।
দৃক গ্যালারি
বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত এবং বেশি আলোচিত গ্যালারির নাম অবশ্যই দৃক গ্যালারি। দেশের সবচেয়ে অভিজাত গ্যালারি বলেই না, দৃক গ্যালারি এর সংগ্রহ এবং আকার বিবেচনায় সত্যিকার অর্থেই বেশ সমৃদ্ধ। দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি মালিকানাধীন এই গ্যালারি দুই তলা বিশিষ্ট। এর মোট আয়তন ২ হাজার ৭৯৬ বর্গফুট।
দৃক গ্যালারি, ঢাকা। ছবি : দা ডেইলি স্টার
১৯৯৩ সালে অগাস্ট মাসে চালু হওয়া দৃক গ্যালারিকে দেশের শ্রেষ্ঠ গ্যালারি বলা হলে মোটেই অত্যুক্তি হবেনা। অজস্র নামিদামি শিল্পীর পদচারণায় সমৃদ্ধ হয়েছে এই গ্যালারি। ঢাকায় যারাই ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য দৃক গ্যালারি ঘুরে আসা অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা।
ঠিকানা : দৃক গ্যালারি, বাড়ি ৫৮, রোড-১৫/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।
তথ্যসূত্র : https://theculturetrip.com/asia/bangladesh/articles/dhaka-s-10-best-contemporary-art-galleries-united-in-creativity/?fbclid=IwAR29jMAIPlXOrpiKY7c_P_5OFHGsYhrcsBEMvFvgZEivHiz-PseDkieGxRI