গন্তব্য যখন শান্ত পরিবেশে দার্জিলিং-এ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মেনে চলুন সঠিক দিক নির্দেশনা

ছবি : ট্যিপসলো

 সাংগু লেকের জন্যও আপনাকে আগের দিন যেখান থেকে রওনা দিয়েছিলেন সেখান থেকে রওনা দিতে হবে। সকাল সকাল বেরিয়ে পরুন। আড়াই থেকে তিন ঘন্টা মত লাগবে যেতে। গ্যাংটক থেকে অনেক উঁচুতে এই লেক। শীতকালে তুষারপাতে ঢেকে যায় সম্পূর্ণ লেক। সাংগু লেক দেখে চড়তে পারেন ক্যাবল কারে। মনে রাখার মত একটা স্মৃতি হবে এটা। বিস্তীর্ণ তুষার ঢাকা এলাকা কিংবা তুষারের মাঝদিয়ে বয়ে চলা লেক দেখতে পাবেন এখান থেকে। এছাড়াও ইয়াকে চড়তে পারেন। এখানে ঘুরাঘুরি শেষ হলে অনুমতি থাকলে চলে যেতে পারেন বাবা মন্দির। সেখানে গেলে অবশ্যই নির্দেশনা মেনে চলবেন এমন কিছু করবেন না যাতে মন্দিরের অসম্মান হয়। নাথুলা পাস যাওয়ার অনুমতি সাধারণত দেয়না তাই দূর থেকে দেখেই স্বাদ মিটাতে হবে।

পাহাড়-মেঘের বন্ধুত্ব দার্জিলিং। ছবি : নিউজ নেক্সট বিডি

সাংগু লেকের এই প্যাকেজে লাঞ্চ থাকে। ড্রাইভার আপনাকে লাঞ্চের জন্য নিয়ে যাবেন। যদি সেদিনই দার্জিলিং চলে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে তাহলে সাংগু লেকে বেশি দেরি না করে সন্ধ্যার মধ্যেই গ্যাংটক ফিরে দেউড়ালি স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি নিয়ে নিন দার্জিলিং-এর অথবা সেই রাতটা থেকেও যেতে পারেন। রাতে স্বাদ নিতে পারেন গ্যাংটকের বিখ্যাত আসলাম বিরিয়ানীর। সাথে খানের রোলসহ স্ট্রিট ফুডগুলো খেতে পারেন। পরদিন দার্জিলিং যাওয়ার গাড়ি বুকিং দিন। সকালে ৭/৮ টার দিকে গ্যাংটক শহরের ভিতরের স্ট্যান্ড থেকেই গাড়ি ছেড়ে যায় আর যদি তখন যা যেয়ে পরে যেতে চান সেক্ষেত্রে কিছু টাকা বেশি গুণতে হবে ও গাড়ি ছাড়বে দেউড়ালি স্ট্যান্ড থেকে। আপনারা প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ি নিতে পারেন। যদি মনে করেন সকালে গ্যাংটক সিটি কিছুটা ঘুরে রওনা দিবেন তবে ১২/১ টার দিকে গাড়িতে উঠতে পারেন নাহলে ভোরেই চলে যাওয়া ভালো।

পাহাড়ের রুপ দেখতে দেখতে দার্জিলিং যাত্রা। ছবি : নোমাডিক উইকেন্ডস

 এবারের গন্তব্য দার্জিলিং। প্রায় ৪ ঘন্টার রাস্তা দার্জিলিং। যাওয়ার পথে অবশ্যই রাংপো চেকপোস্ট থেকে এক্সিট সিল নিয়ে বের হবেন। দার্জিলিং যাওয়ার পথে কিছু টাকা এক্সট্রা খরচ করতে পারলে রিভার রাফটিং-এর অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তায় কালিম্পং নামক স্থানে রাফটিং-এর ব্যবস্থা আছে। নৌকা প্রতি ৪ জন করে রাফটিং করা যায়। প্রতিজনের হাজার খানেক রুপি করে খরচ হয় তবে যেই অভিজ্ঞতা হবে তা অনেকদিন মনে থাকবে। আপনাদের রাফটিং-এর ছবি ভিডিও নিতে চাইলে সেখানে লোক আছে তাদের অল্পকিছু টাকা দিলে তারা ছবি তুলে ও ভিডিও করে দিবে। সব মিলিয়ে ঘন্টাখানেক মত সময় লাগে। সাহস ও সামর্থ্যে কুলালে রাফটিং করে ফেলতে পারেন।

ছবি : উইকিমিডিয়া কমনস

দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তা বেশ সুন্দর। চারপাশের দৃশ্য আপনাকে বারবার মুগ্ধ করবেই। সকাল ৮ টায় রওনা দিলে ১২/১ টা নাগাদ পৌঁছে যাবেন আর দুপুরে রওনা দিলে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাবে। দার্জিলিং-এ সিজনে হোটেল পাওয়া খুব কঠিন সেই সাথে খরচও অনেক পড়ে। তাই ভীড় বেশি থাকলে আগে থেকে বুকিং দেওয়া ভালো নাহলে যেয়ে একটু ঘুরাঘুরি করে বাজেটের মধ্যে হোটেল খুঁজে নিতে পারবেন। হোটেল বুকিং দিয়ে পরদিনের ঘুরাঘুরির জন্য গাড়ির সাথে কথা বলে নিন। কোথায় কোথায় যাবেন, কতক্ষণ করে সেখানে থাকবেন এসব ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলে নিন ও দামাদামি করে ভাড়া ঠিক করে নিন। পরবর্তী পর্বগুলোতে বাকি ট্যুর প্ল্যান সম্পর্কে বলা হবে। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের বদনাম হয়।