দ্রাস : পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতলতম শহর

লাদাখের কারগিল জেলার অন্তর্গত একটি শহর দ্রাস


দ্রাস

ছবি: সংগৃহীত


সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতার পাশাপাশি ভৌগলিকভাবে বিচিত্র অবস্থানও ভারতে লক্ষ করা যায়। ভারতের একেক অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থান ও জলবায়ু গত পরিবেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে ভিন্ন। তপ্ত মরুভূমি কিংবা বরফ শীতল আবহাওয়া সব টুকুর স্বাদই পাবেন এখানে। আর তাই বৈচিত্র্যময় এই অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে দিনকে দিন। সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই পর্যটন অঞ্চল হিসেবে জনপ্রিয় ভারত। আজ ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের জানানো হবে ভারতের শীতলতম অঞ্চল দ্রাস নিয়ে। উল্লেখ্য যে, দ্রাস পৃথিবীর দ্বিতীয় জনবহুল শীতলতম স্থান, প্রথমে রয়েছে সাইবেরিয়া। চলুন জেনে আসা যাক দ্রাস নিয়ে আরও কিছু। লাদাখের কারগিল জেলার অন্তর্গত একটি শহর দ্রাস। শহরটি মূলত লাদাখের প্রবেশদ্বার হিসেবেই পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ২৮০ মিটার বা ১০ হাজার ৭৬৪ ফুট উঁচুতে অবস্থিত লাদাখের এই হিল স্টেশনটি। কারগিল শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগর ও লেহ শহরের সংযোগরক্ষাকারী ১ডি নং জাতীয় সড়কের ওপর দ্রাস উপত্যকার মাঝে অবস্থিত দ্রাস শহর।


দ্রাস

ছবি: সংগৃহীত


 প্রায় ১,২০০ অধিবাসীর এই শহরটি পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতলতম মানুষ বসবাসকারী শহর। শীতলতম শহর হলেও এর প্রাকৃতিক দৃশ্য নজরকাড়া। বরফে ঢাকা দ্রাস উপত্যকা এবং দ্রাস নদীর সৌন্দর্য বিমোহিত করবে যে কাউকে। প্ররোচনা দেবে ব্যাগ গুছিয়ে এখুনি বেরিয়ে পড়তে দ্রাসের সেই শীতল আবহাওয়ার পরশ গায়ে মাখতে এবং শুভ্র পাহাড়ি পথ ধরে ট্র্যাকিং করতে। শীতে সাদা বরফাচ্ছন্ন পর্বতের চূড়ায় রক্তিম সূর্যের উঠা নামার দৃশ্যও মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্যের অবতারণা করে এখানে।

দ্রাস এবং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

এই শহরে গ্রীষ্মকালে আবার দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সবুজ উপত্যকা আর দ্রাস নদীর শীতল পরিষ্কার জল মন ভালো করে দেবার সব উপাদান নিয়েই হাজির হয়। এছাড়া এখানে শ্রীনগর থেকে লেহ হাইওয়েতে লং ড্রাইভে যাওয়াও স্বর্গীয় এক অনুভূতি দেবে। দু পাশ দিয়ে উঁচু নিচু পর্বতের মাঝে দিয়ে চলে যাওয়া পিচ ঢালা রাস্তায় মন হারাতে কার না মনে চাইবে। দৃষ্টি জুড়ে যেখানে কেবল উপত্যকার চূড়ায় মেঘের আনাগোনা। শীতকালে এর তাপমাত্রা সর্বনিম্ন মাইনাস ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়। দ্রাস শহরে অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রচণ্ড শীত থাকে এবং এই সময়ের গড় তাপমাত্রা মাইনাস ২২° সেন্টিগ্রেড। জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত দ্রাসে গ্রীষ্ম ঋতুর দেখা মেলে।

এই সময় গড় তাপমাত্রা ১৫° সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি। তখন বৃষ্টিপাত হয় না বললেই চলে। আর ডিসেম্বর থেকে মে মাসে পর্যন্ত তুষারপাত দেখা যায় এখানে। এই সময়ে প্রায় ৩৬০ মিলিমিটার বা ১৪ ইঞ্চি তুষারপাত হয়। আশপাশের উপত্যকা গুলোর মতো দ্রাস নদীটিও শীতে বরফে ঢেকে যায়। শুভ্র বরফের এক নদের দৃশ্য পরিলক্ষিত হয় তখন। দ্রাসের প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি এখানে কার্গিল যুদ্ধের নিহত সৈন্যদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভও দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা। ১৯৯৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধের নিহতদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভটি ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্বারা নির্মিত হয়।


দ্রাস

ছবি: সংগৃহীত


অত্যধিক শীতের কারণে পর্যটকেরা এখানে সাধারণত রাত্রি যাপন করতে চান না। কারগিল যাবার পথে নেমে ঘুরে ফিরে দেকে নেন। তবে এখানে ভালো মানের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। খাওয়ার ব্যবস্থাও ভালো।  

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম