জাপানের ঐতিহ্যবাহী শহর নারা : যা মন্দিরের শহর নামে খ্যাত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : জাপানের ঐতিহ্যবাহী শহর নারা



মন্দিরের শহর নারা

ছবি : সংগৃহীত


 পৃথিবীর অন্যতম সভ্য ও সুন্দর দেশ জাপান। ভ্রমণ গন্তব্য হিসবে জাপানের রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এখানে রয়েছে অসংখ্য আকর্ষণীয় জায়গা, যেগুলো সৌন্দর্যের দিক থেকে খুবই সমৃদ্ধ। শুধু প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত জায়গাই নয়, ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শনও রয়েছে জাপানে। তেমনই ঐতিহ্যবাহী একটি শহর হল নারা (Nara)। যা মন্দিরের শহর হিসেবে বেশি পরিচিত। জাপানের শত শত বছরের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের কেন্দ্র হয়ে আছে অপূর্ব সুন্দর এই শহরটি। প্রাচীন জাপানের রাজধানী হিসেবে পরিচিত 'নারা' শহরটি হল মন্দিরের শহর। ঐতিহাসিকভাবে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন জাপানি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে এই শহরটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শত শত বছর ধরে এই শহরটি জাপানের সংস্কৃতির কেন্দ্র হয়ে আছে। শহরটিতে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক দালান, সাথে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল ট্রেজার এবং শিল্পকর্ম। অসংখ্য ঐতিহাসিক সড়ক ছাড়াও শহরটিতে আছে প্রচুর পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ পুরোনো মন্দির। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সপ্তম শতাব্দীর কফুকু-জি টেম্পল। এটি সেভেন গ্রেট টেম্পলস অফ নারা নামেই পরিচিত। সু-উচ্চ এই মন্দিরের ফটকে রয়েছে একটি জাদুঘর। আর রয়েছে দুই বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি, যা মধ্যে জাপানের সবচেয়ে উঁচু বৌদ্ধ মূর্তি।


ইতিহাস

নারাতে রয়েছে ৭৪৯ সালে নির্মিত অষ্টম শতাব্দীর চোখ ধাঁধানো টোডা-জি মন্দির বা গ্রেট ইস্ট টেম্পল। মন্দিরের পাশে পাহাড়ঘেরা গাছপালার সারি। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে এই মন্দিরটি দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন জাপানের ঐতিহ্যকে বুকে করে। বুদ্ধের বিশাল আকৃতির ব্রোঞ্জের মূর্তি দাইবুতসুর জন্য বিখ্যাত হয়ে আছে মন্দিরটি। এছাড়াও, টোডা-জিতে অবাক করার মতো রয়েছে ১৮টি কলামের ওপর ভর করে থাকা দ্বিতল ভবন গ্রেট সাউথ গেইট (নান্দাইমন)। আর এখানে থাকা অফ দ্য গ্রেট বুদ্ধ হলো কাঠে নির্মিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দালান। এর নান্দনিক নির্মাণশৈলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এই মন্দিরগুলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য তীর্থস্থান হলেও সারা বিশ্ব থেকে প্রচুর পর্যটকদের এখানে আগমন ঘটে।



মন্দিরের শহর নারা

ছবি : সংগৃহীত


 টোডাজি মন্দিরের প্রবেশদ্বারে দেখা মিলবে বলগা হরিণদের। এদের এখানে ছেড়ে দেয়ার কারণ হল, এই হরিণগুলোকে জাপানিরা ঈশ্বরের আশীর্বাদ মনে করেন। চাইলে তাদেরকে বিস্কিট খাওয়াতে পারেন। ৭৫২ সালে সম্রাট সমুর নির্দেশনায় এই মন্দিরে করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ফটক। প্রধান ফটকের দুই পাশে অস্ত্রসজ্জায় দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তিগুলো দারুণ সুন্দর। পাহারাদারদের মতো আজও মূর্তিগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। উঁচু কাঠ আর সুরকির করা জাপানি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছে এই মন্দির। সবুজ ঘাসের চাদরে ঢাকা এই মন্দিরে উঠতে হয় ৪০টি সিঁড়ি বেয়ে। দুই ফটকের এই মন্দিরে ঢুকেই দেখা মিলবে বিশালাকৃতির কাঁসার ঘণ্টার। এর কিছু দূরে চোখে পড়ে রুসহানা বসুর পাথরের মূর্তি।

হাত উঁচু করে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে বসে আছে এই মূর্তিটি। প্রায় ৫শ' টনের এই মূর্তির পেছনে রয়েছে স্বর্ণকারের ফ্রেম। ৪৯ ফুট দৈর্ঘ্যের এ বৌদ্ধ মূর্তিটি জাপানের সর্বোচ্চ উঁচু মূর্তি। রুসহানা মূর্তিটির বাম পাশে দেখতে পাবেন নিউরিন কানন মূর্তি। এই দুই বৌদ্ধ মূর্তির ডান পাশে রয়েছে দৈত্যাকার আরও দুই মূর্তি। একটি কমোকুতেন, আরেকটি হল নিও। এগুলোও দেখতে পাহারাদারের মত। 'দ্য লাস্ট সামুরাই' মুভিতে এই মন্দিরের দৃশ্য দেখা যায়।  

রুবাইদা আক্তার   এস এম