নিদাড়িয়া মসজিদ : লালমনিরহাটের প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতীক

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মোঘল সুবেদার আমলে তৈরিকৃত নিদাড়িয়া মসজিদ

নিদাড়িয়া মসজিদ যত্নের অভাবে জৌলুস হারাচ্ছে নিদাড়িয়া মসজিদ। ছবি : সংবাদ অনলাইন

 বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাট। লালমনিরহাটের দর্শনীয় স্থাপনার মধ্যে রয়েছে নিদাড়িয়া মসজিদ। প্রাচীন এই মসজিদটি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। হিজরি ১১৭৬ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন মোগল সুবেদার মনসুর খাঁ। মসজিদের নির্মাণে মোঘল স্থাপত্যের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। পুরো মসজিদটি ১০ একর ৫৬ শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদ নির্মাণে উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ইট, চুন ও সুড়কি। মসজিদের প্রবেশমুখে রয়েছে একটি বড় খিলান আকৃতির প্রবেশদ্বার।

প্রবেশদ্বারের সামনে রয়েছে সরু সিঁড়ি। প্রবেশদ্বার পেরিয়ে সামনে রয়েছে একটি বারান্দা। মসজিদের বাম দিকে একটি কবর রয়েছে। কবরটি কার সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হয় কবরের মধ্যে শায়িত আছেন মনসুর সুবেদার খাঁ। মসজিদে মূলত ঘর রয়েছে একটি। মসজিদের উপরে রয়েছে তিনটি বড় আকারের গম্বুজ। গম্বুজের উপরের দিকে রয়েছে সরু শীর্ষ। এছাড়া মসজিদে দরজা রয়েছে তিনটি। প্রতিটি দরজা প্রায় ৪২ ফুট লম্বা এবং ১৬ দশমিক ৮ ফুট চওড়া। মসজিদের চার কোণে রয়েছে চারটি মিনার। মসজিদের নামের পেছনে মজার গল্প প্রচলিত আছে। লোকমুখে শোনা যায়, মনসুর খানের মুখে দাঁড়ি ছিল না। নিদাড়িয়া অর্থাৎ দাড়ি নেই এমন মানুষ এই মসজিদ নির্মাণ করাতে লোকমুখে মসজিদের এই নামটিই প্রচলিত হয়ে যায়।lalmnidhat_nidaria_masjid মসজিদ সংলগ্ন গেট। ছবি : দ্যা ডেইলী স্টার

 পুরো মসজিদের নকশায় রুচিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এখনও আসেন এখানে নামাজ আদায় করতে। সময়ের স্রোতে মসজিদ তার ঐতিহ্য ও জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। যথাযথ সংস্কার করলে মসজিদটি ফিরে পেতে পারে তার পুরনো রূপ। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পন্ন এই মসজিদ আমাদের দেশের সম্পদ। আর এই সম্পদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। লালমনিরহাটে এসে নিদাড়িয়া মসজিদ ঘুরে না গেলে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও পুরনো মসজিদ দেখার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে। মোঘল সুবেদারের নির্মিত এই মসজিদে মোঘল স্থাপনার ছাপ দেখতে ঘুরে আসতে পারেন লালমনিরহাটের নিদাড়িয়া মসজিদ থেকে।

কিভাবে যাবেন : ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে বেশ কিছু এসি ও নন-এসি বাস যাতায়াত করে। কর্ণফুলী পরিবহন, বাবুল এন্টারপ্রাইজ, এসআর ট্রাভেলসের বাসে সরাসরি ঢাকা থেকে লালমনিরহাটে যেতে পারবেন। ট্রেনে করে ঢাকা থেকে লালমনিরহাট আসার জন্য  লালমনি এক্সপ্রেসে সরাসরি আসতে পারবেন। লালমনিরহাট সদর থেকে লোকাল বাসে করে যেতে পারবেন নিদাড়িয়া মসজিদে। এছাড়া অটো কিংবা ইজিবাইকে করেও যেতে পারেন।

যেখানে থাকবেন : লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে নর্থ বেঙ্গল রেস্ট হাউজ, দোয়েল গেস্ট হাউজ অন্যতম। এছাড়া সরকারি আবাসনের মধ্যে রয়েছে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং সার্কিট হাউজ। এসব আবাসনে থাকতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে।

খাবার : লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বিভিন্ন মানের খাবার হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে খান হোটেল ও রেস্তোরাঁ, সুজন হোটেল ও রেস্তোরাঁ, আল মামুন হোটেল ও রেস্তোরাঁ ও সজীব হোটেল ও রেস্তোরাঁ অন্যতম। 


তথ্যসূত্র : https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A6