রংপুরের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন লাল দিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : নান্দনিক নকশা করা এই প্রাচীন লাল দিঘি মসজিদটি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল
নন্দনিক নকশা করা এই প্রাচীন লাল দিঘি মসজিদটি
লালদিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ বাইরে থেকে। ছবি : উকিপিডিয়া কমনস
দেশের উত্তরবঙ্গের জেলা রংপুরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে লাল দিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ অন্যতম। রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলায় দেখা মিলবে এই প্রাচীন মসজিদের। নয়টি গম্বুজ থাকায় এটি নয় গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত। আবার লাল দিঘি নামের জায়গায়-এর অবস্থান হওয়ায় মসজিদের নাম হয়েছে লাল দিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ। মসজিদটি কে কবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ইতিহাস এখনও অজানা। তবে জনৈক দিলওয়ার খান এটি তৈরি করেছেন বলে ধারণা করা হয়। আগে একসময় এই মসজিদটি অবহেলায় পড়ে ছিল। কেউ জানতো না যে এখানে কোনো মসজিদ আছে। ব্রিটিশ আমলে এই মসজিদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। সংস্কারের পর থেকে এখনও পর্যন্ত স্থানীয় লোকজনরা এই মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। রংপুরের অন্যতম সুন্দর মসজিদ এটি। মসজিদে যাওয়ার পথে বড় একটি তোরণ দেখতে পাওয়া যায়। তোরণ পেরিয়ে আরও কিছুদূর এগোতে দেখা মেলে মসজিদের। মসজিদের সামনে বেশ ফাঁকা জায়গা রয়েছে। মসজিদের প্রধান প্রবেশদ্বার খুবই দৃষ্টিনন্দন। প্রবেশদ্বারের সবুজ-সাদা দেয়ালের উপর দুই দিকে রয়েছে পানিতে ভাসমান গোলাপি শাপলা ফুলের ছবি। গোলাকার খিলান প্রবেশদ্বারের উপরে রয়েছে আরবি হরফের লেখা। লাল দিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ একটি উঁচু ভিতের উপরে অবস্থিত। ভিতটি ১ মিটার উঁচু। ধারণা করা হয়, এই উঁচু ভিতটি মসজিদ এবং আযান দেয়ার জন্য বানানো বানানো হয়েছিল। মসজিদে ঢোকার জন্য উঁচু ভিতের সামনে রয়েছে সিঁড়ি।
লালদিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ বারান্দা সম্মুখ ভাগ। ছবি : উকিপিডিয়া কমনস
পুরো মসজিদে রয়েছে মোট ৯টি গম্বুজ। একেকটি গম্বুজের দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। এছাড়া গম্বুজের পাশে কয়েকটি ছোট মিনার দেখতে পাওয়া যায়। মসজিদের ভেতরে রয়েছে ঘেরাও দেয়া বড় বারান্দা। বারান্দার মাঝে মাঝে রয়েছে বেশ কয়েকটি নীল রঙের স্তম্ভ। বারান্দার ছাদ টিনের তৈরি হলেও মসজিদের মূল কক্ষটি টিনের নয়। মসজিদটি ইট, সুড়কি ও চুন দিয়ে বানানো। মসজিদের ভেতরের দেয়াল হালকা সবুজ রঙের। দেয়ালে সুন্দর নকশা দেখতে পাওয়া যায়। মসজিদের ভেতরে দেয়ালের গায়ে সবুজ, নীল, গোলাপি বিভিন্ন রঙের নকশা ও কারুকাজ দেখতে পাওয়া যায়। মসজিদের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি করে প্রবেশ পথ রয়েছে। প্রবেশপথগুলোর মধ্যে মাঝেরটি বড়, বাকি দুইটি ছোট। মসজিদের ভেতরে রয়েছে তিনটি মেহরাব। এদের মধ্যে মাঝেরটি সবচেয়ে বড়। মসজিদের মূল কক্ষের ভেতরে রয়েছে বেশ কয়েকটি মোটা স্তম্ভ। এগুলো যেন ছাদকে মজবুত করে রেখেছে এত বছর পরেও।
ছবি : সংগৃহীত
ভেতরে ও বাইরে নানা রঙে রঙিন এই সুন্দর মসজিদটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা রকম কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে। অনেকে বলেন, এখানকার দিঘি এবং এই মসজিদটি এক রাতে বানানো হয়েছিল। তবে এসব কল্পকথার কোন সঠিক ভিত্তি নেই।
কিভাবে যেতে হবে : ঢাকা থেকে রংপুর রুটে হানিফ পরিবহণ, শ্যামলী পরিবহণ এবং নাবিল পরিবহণের বাসে আসতে পারবেন সরাসরি। এছাড়া ট্রেনে আসতে চাইলে সরাসরি ট্রেনেও আসতে পারবেন। এক্ষেত্রে রংপুর এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেসে আসতে পারবেন। এছাড়া বিমানেও সরাসরি রংপুরে আসতে পারবেন। বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, জেট এয়ারের বিভিন্ন ফ্লাইট রয়েছে ঢাকা-রংপুর রুটে সরাসরি যাতায়াতের জন্য। রংপুর থেকে বদরগঞ্জগামী রাস্তায় বাস, ইজিবাইক কিংবা সিএনজিতে করে এই মসজিদে যাওয়া যায়।
যেখানে থাকবেন : বদরগঞ্জে থাকার জন্য তেমন ভালো কোনো হোটেল নেই। তবে বদরগঞ্জের পৌরসভার পাশে অবস্থিত একটি সরকারি ডাক বাংলোতে থাকা যাবে। তবে সেজন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া বদরগঞ্জে না থাকতে চাইলে রংপুরের বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি হোটেলে থাকতে পারবেন। সরকারি হোটেলের মধ্যে রয়েছে : পর্যটন মোটেল, টি টি কলেজ, বন বিভাগ ইত্যাদি ডাকবাংলো ও রেস্ট হাউজে অনুমতি নিয়ে থাকা যাবে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য বেসরকারি হোটেল হলো : হোটেল নর্থ ভিউ, হোটেল কাপসিয়া, হোটেল শাহ আমানত জাহাজ কোম্পানি মোড় ইত্যাদি।
খাবার : রংপুরে বেশ কিছু ভালো মানের খাবারের হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে নর্থ ভিউ হোটেল, খালেক হোটেল, বৈশাখী, নেহালের হোটেল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এছাড়া রংপুর এলে নিরঞ্জনের মিষ্টিমুখ, জলযোগ, মৌবনের খাবার খেতে কিন্তু ভুলবেন না।
তথ্যসূত্র : https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%98%E0%A6%BF_%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%97%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%9C_%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A6 http://www.badargonj.rangpur.gov.bd/site/top_banner/09a6d162-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%80%E0%A6%A8-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%98%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A6