পঞ্চগড়ের চা বাগান : উত্তরবঙ্গের সমতল ভূমিতে চা পাতার সবুজ গালিচা
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : দেশের অর্গানিক চা'র বাগান, কাজী এন্ড কাজী'র চা বাগানও এখানেই
সমতল ভূমির চা বাগানে দেখা মিলবে দেশের সর্বোত্তরের এই জেলাটিতে। ছবি : দা ডেইলি স্টার
চা বাগান আর সিলেট যেন একই সুতোয় বাঁধা। সিলেট আর চট্টগ্রামের স্তরে স্তরে সাজানো চা বাগান কার না মন কাড়ে! কিন্তু পঞ্চগড়ের চা বাগান ঠিক মুদ্রার উল্টো পিঠ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পাহাড় কিংবা টিলায় নয়, চা চাষ করা হয় সমতল মাটিতে। এখানে দেখা মেলে সমান মাটিতে সবুজ চা পাতার মেলার। আর এখানেই দেখা মিলবে বিশ্ব দাপানো 'অর্গানিক চায়ের'। পুরো চা বাগানজুড়েই যেন সবুজ পাতার ঢল। কতকটা বড় গাছও দেখতে পাওয়া যায়। চা পাতার মাথার উপরে ছায়া দিতে দাঁড়িয়ে আছে এরা। আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগেও এখানে এত সবুজের সমারোহ ছিল না। তেঁতুলিয়া থেকে দার্জিলিং মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে। অথচ ওপারে ছিল চায়ের বাগান, আর এপারের জমি পড়ে থাকত অবহেলায়। কারণ, এই মাটিতে অন্য ফসল ভালো হতো না।
পঞ্চগড়ের চা বিপ্লবের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে; তৎকালীন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পঞ্চগড়ে চা চাষের জন্য প্রথম পরিকল্পনা করা হয় ১৯৯৯ সালে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ চা বোর্ডের বিজ্ঞানীদের উদ্যোগে মাটি পরীক্ষা করা হয়। মাটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, পঞ্চগড়ে চা চাষ করার মত প্রায় ৪০ হাজার একর জমি আছে। মাটি পরীক্ষার পর শুরু হল গাছ লাগানোর পরীক্ষা। প্রথমে টবে এবং পরে মাটিতে চা গাছ লাগানো হয়। বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে। চা চাষে প্রথম এগিয়ে আসেন 'কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট' (Kazi & Kazi Tea Estate)-এর কর্ণধার কাজী শাহেদ আহমেদ। তিনি চা চাষের জমি, সার ও অন্যান্য যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। পঞ্চগড়ে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট এর হাত ধরেই দেশে 'অর্গানিক চা' চাষের শুরু।
বাণিজ্যিকভাবে চা চাষে এগিয়ে যাচ্ছে পঞ্চগড়ের চা বাগান। ছবি : সংগৃহীত
৬২৭ একর জমিতে শুরু হয় অর্গানিক চা চাষ। এই চা ‘মীনা চা’ নামেও পরিচিত। সেই শুরু এখনও চলমান রয়েছে। সেদিনের সেই চারাগাছ থেকে এখন পঞ্চগড়ে সবুজের সমারোহ। অর্গানিক চায়ের সাথে সাধারণ চায়ের কিছু পার্থক্য রয়েছে। অর্গানিক চা চাষে কোন কৃত্রিম সার কিংবা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। তাই অর্গানিক চা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়া চা পাতার পাশাপাশি চাষের জমি, পরিবেশের যত্নের কথা মাথায় রাখা হয়। ফলে পরিবেশেরও ক্ষতি হয় না। শুধু বাংলাদেশই নয়, অর্গানিক চা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিদেশেও। দুবাই,জাপান ও আমেরিকায়ও রপ্তানি হচ্ছে আমাদের দেশের অর্গানিক চা। এছাড়া লণ্ডনের হ্যারোড অকশন মার্কেটে দেখা মিলবে এই চায়ের। পঞ্চগড়ে কাজী টি এস্টেট ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি চা বাগান রয়েছে। যেমন : আগা টি এস্টেট, করতোয়া চা বাগান, ডাহুক চা বাগান, ময়নাগুড়ি চা বাগান ইত্যাদি। শুধু চা বাগান নয়, পঞ্চগড়ে তিনটি চা প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রও রয়েছে। কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, তেঁতুলিয়া চা কোম্পানী, করতোয়া চা বাগান ইত্যাদি। পঞ্চগড়ে বড় চা বাগান বাদেও ক্ষুদ্র চাষীরাও জমিতে চা চাষ করে থাকেন। সরকারী প্রশিক্ষণ এবং বড় অংকের লাভ হওয়ায় চাষীরাও চা চাষে এখন আগ্রহী। চাষীরা নিজেদের ছোট জমিতেও চা চাষ করছেন। এছাড়া প্রতি সাত দিন পর সবুজ পাতা কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন।
ছবি : কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট
একসময়ের মঙ্গাপীড়িত জেলাকে এখন 'দুইটি পাতা, একটি কুঁড়ি'-দুই মুঠো খাবারের যোগান দিচ্ছে দুই হাত ভরে। সময় করে ঘুরে আসতে পারেন এই সমতলের চা বাগান থেকে। চারিদিকের সবুজ অবশ্যই আপনাকে মুগ্ধ করবে।
কীভাবে যাবেন : বাসে করে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ৪৯৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। হানিফ পরিবহণ, নাবিল পরিবহণ, শ্যামলী পরিবহণে করে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসতে পারবেন সহজেই। ট্রেনে আসতে চাইলে দ্রুতযান কিংবা একতা এক্সপ্রেসে যেতে পারেন। পঞ্চগড় নেমে এখান থেকে স্থানীয় বাস কিংবা সিএনজি নিয়ে তেঁতুলিয়া যাওয়া যায় সহজেই।
আবাসন : তেঁতুলিয়াতে থাকতে হলে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, উপজেলা পিকনিক কর্ণারে থাকতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া তেঁতুলিয়া না থাকতে চাইলে পঞ্চগড়ের আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেন। যেমন : মৌচাক আবাসিক হোটেল, ইসলাম আবাসিক হোটেল, মুন স্টার হোটেল ইত্যাদি।
খাবার : পঞ্চগড়ের বেশ কিছু আবাসিক হোটেল আছে যেখানে আপনাকে খাবারের কথা আলাদা ভাবতে হবে না। যেমন : মৌচাক আবাসিক হোটেল, ইসলাম আবাসিক হোটেল ইত্যাদি। এছাড়া, শুধুমাত্র খাওয়ার জন্য বিভিন্ন হোটেল পঞ্চগড়ে পেয়ে যাবেন সহজেই।
তথ্যসূত্র : http://www.panchagarh.gov.bd/site/top_banner/0a23c95b-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%9A%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8 http://www.panchagarh.gov.bd/site/top_banner/0a23c95b-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%9A%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8 http://www.panchagarh.gov.bd/site/page/28af067c-18fd-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%93-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8- http://panchagarhsadar.panchagarh.gov.bd/site/view/hotel/%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%93-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%A8 https://www.kalerkantho.com/print-edition/priyo-desh/2017/12/31/583728 http://www.panchagarh.gov.bd/site/page/28aeea22-18fd-11e7-9461-286ed488c766/site/view/%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF