পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ : ১১ বছরে পাড়ি দিয়েছিলেন ৬৪টি দেশ

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ ঃ ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ করা জঁ বেলিভো। ছবি : ডেইলি মেইল


খেয়ালের বশে আমরা অনেকেই অনেক সময় অনেক স্বপ্ন দেখে থাকি, দিনশেষে যার বেশিরভাগ অস্পৃশ্যই থেকে যায়। যারা ঘুরতে পছন্দ করেন, অনেক সময় তাদের ক্ষেত্রে একটা বড় বিপত্তি হয়ে দাঁড়ায় খরচ। যাতায়াত খরচ যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলেই দেখা যায়। মাঝেমাঝেই মনে হয় পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে পারলে নেহাত মন্দ হত না। এই চিন্তা কিন্তু নেহাত দূরের কিছু নয়। ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের আজ এমন একজনের পরিচয়ই দেয়া হবে এই ব্লগে, যিনি পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণের এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। কানাডার মন্ট্রিল শহরের বাসিন্দা জঁ বেলিভো। বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যবসায়ে লস হবার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।


বিশ্বভ্রমণ শুরু হয় ২০০০ সালে

ঠিক করে নিলেন পিছুটান না থাকার এই সুযোগ কাজে লাগাবেন বিশ্বভ্রমণে বেড়িয়ে। জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় থেকে মুক্তি পেতেই বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে ২০০০ সালের ১৮ই আগস্ট নিজের ৪৫তম জন্মদিনে ঘর ছাড়লেন জঁ বেলিভো। স্যুটকেসে তখন জিনিসপত্র বলতে স্লিপিং ব্যাগ, কিছু জামাকাপড় আর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আর ৪০০০ কানাডিয়ান ডলার। উদ্দেশ্যহীন এই ভ্রমণে তিনি জানতেন না কোথায় থাকবেন, কি খাবেন। শুধু হেঁটে চলেছেন অন্তহীন। তার এই ভ্রমণের স্থায়ীত্ব ছিল প্রায় ১১ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ও আটলান্টা হয়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ৬৪টি দেশ যা প্রায় ৭৫ হাজার কিলোমিটার। এর মাঝে ভীষণ ভালো লেগেছিল মেক্সিকো, তাই প্রায় নয় দিন অবস্থান করেন সেখানে। সুদানে পৌঁছে মুখভর্তি দাড়িগোঁফ রেখে নতুন বেশ নিয়েছিলেন। আফ্রিকায় তার খাবার তালিকায় যোগ হয়েছিল পোকামাকড়, চীন এবং কোরিয়াতে সাপ আর কুকুর খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপাইনে তাকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছিল সশস্ত্র সেনাদল। পথে যে একেবারেই বিপদে পড়তে হয়নি তা নয়। আলজেরিয়ায় গিয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বেলিভো, ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকায়। ইথিওপিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই আটক করা হয় তাঁকে। পর দিনই অবশ্য মুক্তি পেয়ে যান। এই দীর্ঘ পদযাত্রার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি কানাডায় ফিরে আসেন। এ যাত্রায় জ্যঁ বেলিভোর বন্ধু লুস আর্শাম্বো বেলিভোকে ঘরে থেকেই বিভিন্নভাবে উৎসাহ যুগিয়েছেন। ওয়াক ডট অর্গ নামে একটি ওয়েবসাইটও বানিয়েছিলেন তিনি, যেখানে ওয়াক শব্দটিতে তিনটি W ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদযাত্রাকে শান্তি ও অহিংসার বাণী প্রচারের লক্ষে কাজে লাগানোর জন্য বেলিভোকে উৎসাহিত করেছিলেন তিনি। তবে অবসাদগ্রস্ত এক মধ্যবয়সী মানুষের এই যাত্রা যে এতো জনপ্রিয় হবে বেলিভো নিজেও হয়ত তা ভাবতে পারেন নি। এখন অবধি বিশ্বের দীর্ঘ পদযাত্রার রেকর্ডের দখলদারও জ্যঁ বেলিভো।  


জোহরা মহসীন   এস এম


Click Here To See More