স্কুবা ডাইভিং এর জন্য সেরা কিছু জায়গা

ট্র্যাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সমুদ্রের নিচের আশ্চর্যময় জীববৈচিত্র্য উপভোগের সেরা জায়গা সমূহ


ভ্রমণে স্কুবা ডাইভিং বেশ এডভেঞ্চারমূলক কাজ। নতুন আরেক পৃথিবী দেখার সুযোগ হয় যেন স্কুবা ডাইভিং এর মাধ্যমে। সাগরতলের বিচিত্র জীবন, বৈচিত্র্যময় জলজ উদ্ভিদ উপভোগের সবথেকে ভালো উপায় এই স্কুবা ডাইভিং। চলুন জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর সবথেকে সেরা কিছু স্কুবা ডাইভিং এবং তাদের স্থান সম্পর্কে।


দ্য ব্লু হোল

স্কুবা ডাইভিং

স্কুবা ডাইভিং এর জন্য পৃথিবীর সেরা দ্যা গ্রেট ব্লু হোল; ছবি : ট্রিপ স্যাভি ডট কম


বেলিজে অবস্থিত ব্লু হোল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান স্কুবা ডাইভিং এর জন্য। সুন্দর এই জায়গাটি অসংখ্য জীব-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এটি ১২৫ মিটার গভীর এবং ৩০০ মিটার বিস্তৃত। এখানের পানি একদম স্বচ্ছ। রিফ শার্ক, বুল শার্ক এবং হ্যামারহেডের দেখা পাওয়া যায় এখানে।

আরও পড়ুন : গ্রেট ব্লু হোল: অতল সমুদ্রের মাঝে আশ্চর্য নীল গহ্বর


থাইল্যান্ড



থাইল্যান্ডের সিমিলান আইল্যান্ড; ছবি : বোলড ট্র্যাভেল ডট কম



থাইল্যান্ডে বেশ কিছু বিখ্যাত ডাইভিং সাইট রয়েছে। এখানে ফুকেট, কো টাও, সিমিলান আইল্যান্ড এবং সুরিন আইল্যান্ড বেশিই জনপ্রিয়। তবে কো টাওতে স্কুবা ডাইভিংয়ে খরচ কম। এজন্য হয়তো এখানে বেশ ভালো পর্যটক সমাগম হয়ে থাকে। এখানে বিগিনার কিংবা এক্সপার্ট উভয়ের জন্য আলাদা আলাদা স্কুবা প্যাকেজ দিয়ে থাকে কোম্পানিগুলো। আপনি আপনার সুবিধামত প্যাকেজ গ্রহণ করতে পারেন।


গিলি আইল্যান্ড

গিলি আইল্যান্ডের পানির নিচের ভাস্কর্য;

গিলি আইল্যান্ডের পানির নিচের ভাস্কর্য; ছবি : ম্যাড মানকি ট্রাভেলস


 ইন্দোনেশিয়ার গিলি কয়েক বছর যাবত বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। এখানের প্রবাল প্রাচীর এবং নীলাভ পানি মূলত জনপ্রিয়তার কারণ। বালির থেকে খরচ কম হওয়ায় এখানে পর্যটকদের আনা গোনা বেশি স্কুবা ডাইভিং করার জন্য। এই দ্বীপটির চারপাশ প্রকাণ্ড প্রবাল দ্বারা সংরক্ষিত।


আরও পড়ুন : লাক্ষাদ্বীপ : নীলাভ জলের মাঝে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা


সিপাডান

স্কুবা ডাইভিং

পৃথিবীর সেরা পাঁচটি স্কুবা ডাইভিং স্থানের একটি সিপাডান; ছবি : রিমোট ল্যান্ডস ডট কম


এটি মালয়েশিয়ায় অবস্থিত। পৃথিবীর সেরা পাঁচটি স্কুবা ডাইভিংয়ের জায়গার তালিকা করলে এটি নিঃসন্দেহে সেই তালিকায় স্থান পাবে। এখানে স্কুবা ডাইভ করলে আপনি প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরপুর সাগরতলের প্রাণীদের দেখা পাবেন। কচ্ছপ, উজ্জ্বল কোরাল,ডলফিন ইত্যাদি সবকিছুই দেখতে পাবেন এখানে। দেখার পাশাপাশি এখানে এদের প্রাচূর্যতা এবং প্রকারভেদ আপনাকে মুগ্ধ করবে। মালয়েশিয়া ভ্রমণে এটি মিস করা একদমই উচিত নয়।


গ্রেট বেরিয়ার রীফ



পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম প্রবাল সৈকত গ্রেট বেরিয়ার রীফ স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়; ছবি : বিজনেস ইনসাইডার ডট কম


 অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত এই প্রবাল সৈকত পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম। পৃথিবীর সব ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা এখানে পাওয়া যায়। এটি এতোটাই বড় যে মহাশূন্য থেকেও এর দেখা মেলে। প্রতি বছর ২০ লক্ষ মানুষ এখানে ভ্রমণ করতে আসেন। ক্রমবর্ধমান পরিবেশ উষ্ণতার জন্য এটি আস্তে আস্তে ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে। সুতরাং এটি পুরোপুরি বিনষ্ট হওয়ার পূর্বেই আপনি এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

আরও পড়ুন : পৃথিবীর বুকে মঙ্গলগ্রহ : সমুদ্র ও মরুভূমি যেখানে একসাথে মিশেছে


হাওয়াই

স্কুবা ডাইভিং

আমেরিকার সবচেয়ে বড় বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঞ্চল হাওয়াই এ স্কুবা ডাইভিং এ দেখা মিলবে তিমি কিংবা শার্কের মতো প্রাণীর; ছবি : লোনলি প্ল্যানেট


হাওয়াই স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য বেশ সুন্দর এক জায়গা। এই আইল্যান্ড সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপমালা নিয়ে গঠিত। সে জন্যই স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়। এখানের সাগরতলের প্রাণীদের জীবন বেশ বৈচিত্র্যময় এবং সমৃদ্ধ। ডিসেম্বর থেকে মে তে ভ্রমণ করলে আপনি তিমি কিংবা শার্কের দেখা পাবেন এখানে। আমেরিকার সবচেয়ে বড় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা এটিই। সুযোগ পেলে এখানে ভ্রমণ একদমই মিস করা উচিত নয়।



মাইক্রোনেশিয়া

স্কুবা ডাইভিং মাইক্রোনেশিয়া Micronesia

ব্লু ওয়ালের মতো ডাইভ স্পট মাইক্রোনেশিয়াকে জনপ্রিয় করে তুলেছে; ছবি : কারাডোনা ডট কম


এখানে বেশ রঙ্গিন কোরালের দেখা পাবেন। এছাড়াও ব্লু ওয়ালের মতো ডাইভ স্পট একে করেছে বেশ জনপ্রিয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বেশ কিছু ধ্বংস্তুপের দেখা মেলে এখানে। বেশ কম খরচে প্রিস্টিনে অবস্থিত এই মাইক্রোনেশিয়া থেকে ঘুরে আসতেই পারেন। স্কুবা ডাইভিং বেশ অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। এটি আরেক পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দেয় যেন। সময় এবং সুযোগ পেলে অবশ্যই স্কুবা ডাইভিং করা উচিত।  

মোঃ খালিদ বিন জামান   এস এম