জেনে নিন জাপানের বিখ্যাত কয়েকটি প্রাসাদ সম্পর্কে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের ইতিহাস সমৃদ্ধ প্রাচীন প্রাসাদ



Distance View of Himeji Castle, Japan (প্রাসাদ-জাপান)

হিমেজি ক্যাসল। ছবি : রিমোট আইল্যান্ড ডট কম


অর্থ, বিত্ত, কাজ কিংবা প্রযুক্তি ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্যই জাপান বিশ্ববিখ্যাত। সূর্যোদয়ের দেশ জাপান প্রায় ৩,০০০ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। ইতিহাসের দিক থেকে জাপান বেশ প্রাচীন একটি দেশ। খ্রিস্টপূর্ব ৩,০০০ থেকে জাপানের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়। প্রাচীন ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই জাপানে একসময় পাঁচ হাজারের অধিক দুর্গ এবং রাজপ্রাসাদ ছিল। তবে কাঠ এবং পাথর দিয়ে নির্মিত এই প্রাসাদগুলি দেখতে ইউরোপের প্রাসাদ থেকে বেশ ভিন্ন। বর্তমানে জাপানে প্রায় ১০০টির মতো এরকম প্রাসাদ টিকে আছে । জাপানের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে জানার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এক মাধ্যম হতে পারে এই প্রাসাদ গুলিতে ভ্রমণ। চলুন জেনে নেয়া যাক জাপানের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু প্রাসাদ সম্পর্কে।

আরও পড়ুন : ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট : এশিয়া মহাদেশ (জাপান পর্ব)


হিমেজি ক্যাসেল :

View of Himeji Castle, Japan

আকাশ থেকে সাদা বকের মতো দেখায় বলে এটিকে হোয়াইট হেরন ক্যাসেল নামেও ডাকা হয়, হিমেজি ক্যাসেল। ছবি : ছবি : উইকিপিডিয়া


সামন্ততান্ত্রিক যুগের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্য এই ক্যাসেলটি। কোবে শহরের পশ্চিমাংশে এটি অবস্থিত। মজার বিষয় এই যে, সাদা সাদা দেয়ালের জন্য আকাশ থেকে একে দেখতে সাদা বকের মত লাগে। এ জন্যই এই ক্যাসেলকে হোয়াইট হেরন ক্যাসেল নামেই বেশি ডাকা হয়। ১৬০১ সালে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত এই ক্যাসেলটির নির্মাণশৈলী এতোই নান্দনিক যে এই প্রাসাদটির ৮৩ টি কাঠামো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। হিমেজি শহরের যে কোন প্রান্ত থেকেই এই শহরের দেখা মিলবে। জেমস বন্ড সিরিজের 'ইউ ওনলি লিভ টুয়াইস' এবং টম ক্রুজের 'দ্যা লাস্ট সামুরাই' মুভিতে এই প্রাসাদকেই দেখানো হয়েছিলো।

আরও পড়ুন : জাপানের ব্যতিক্রমী আন্ডার ওয়াটার পোস্ট বক্স

মাতসুমোতো ক্যাসেল :

View of matsumoto castle, japan(প্রাসাদ-জাপান)

ক্রো ক্যাসেল খ্যাত মতসুমতো ক্যাসল । ছবি : ট্যুরিস্ট ইন জাপান ডট কম


টোকিও শহরের উত্তরে পাহাড়ি এলাকায় এই প্রাসাদটি অবস্থিত। পাথুরে নির্মিত এই ক্যাসেলটির চারপাশ পরিখা খনন করে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। ১৫৯০ সালে নির্মিত এই ক্যাসেলের দেয়াল কালো রঙের। এ জন্য এর আরেক নাম 'ক্রো ক্যাসেল'। ক্যাসেলটি থেকে হিজরি কোগেন পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্যের দেখা মেলে। এটিকে দুর্গ হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছিল। তীরে আগুন লাগিয়ে নিক্ষেপ কিংবা বড় পাথর খণ্ড ফেলে আক্রমণকারী হতে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল দুর্গটিতে।


মাতসো ক্যাসেল :


View of Matsue Castle (প্রাসাদ-জাপান)

সান’এন শাসনামলের সর্বশেষ নিদর্শন এই মাতসো ক্যাসল। ছবি : ফান জাপান ডট কম


 জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত এই ক্যাসেলটি সান’এন শাসনামলের সর্বশেষ নিদর্শন। মজার ব্যাপার এই যে, এটি দুর্গ হিসেবে নির্মিত হলেও এটি কখনো আক্রমণের শিকার হয়নি। মূলত ওয়াচ টাওয়ার হিসেবেই একে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৬১১ সালে নির্মিত এই দুর্গ ১৯৫০ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর চারপাশের খননকৃত পরিখায় ভ্রমণকারীরা নৌকায় করে ঘুরতে পারেন।

আরও পড়ুন : চেরি উৎসবের জন্য জাপানের সেরা পাঁচটি জায়গা


হিকোনে ক্যাসেল :

View of hikno castle (প্রাসাদ-জাপান)

বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ক্যাসলে সি আমলের বাদ্যযন্ত্র, অস্ত্র-সম্ভার, রত্ন সংরক্ষিত আছে। ছবি : জাপান গাইড ডট কম


জাপানের ক্যাসেল সম্পর্কে পুর্নাঙ্গ ধারণা পেতে হলে হিকোনে ক্যাসেল ভ্রমণের বিকল্প নেই। দরজা, বাগান কিংবা দালান অত্যন্ত সাবধানতার সাথে সংরক্ষিত করা হয়েছে। এর নির্মাণ সামগ্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ১৬২২ সালে নির্মিত এই ক্যাসেল বর্তমানে জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে সি আমলের বাদ্যযন্ত্র, অস্ত্র-সম্ভার, রত্ন সম্ভারের সতর্কতার সাথে সংরক্ষিত হয়ে আছে।


হিরোসাকি ক্যাসেল :

View of Hirosaki castle covered with cherry

পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট প্রবেশদ্বারের জন্য এই ক্যাসেল সুবিখ্যাত। ছবি : উইকিমিডিয়া

পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট প্রবেশদ্বারের জন্য এই ক্যাসেল সুবিখ্যাত। এর সুপরিসর পরিখা এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে বহুগুণ। ১৬১১ সালে এর নির্মাণকাল সম্পন্ন হলেও ১৬২৭ সালে প্রাসাদটিতে আগুন লাগার জন্য পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়। এর বাগান অত্যন্ত সুন্দর। প্রায় ২,৫০০-এর অধিক চেরি গাছ লাগানো এই বাগানটিতে। বসন্তের জাপানের সবচেয়ে বড় চেরি ব্লসম ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত হয়। অনেকেই এই উৎসবের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যান। জাপানের মানুষদের ব্যবহার ও অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ। আপনার ভ্রমণ জীবনে জাপান ভ্রমণ অনেক সুন্দর এক অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবিই হয়ে থাকবে বলা যায়।  

মোঃ খালিদ বিন জামান   এস এম