বাংলাদেশে যে ২৭টি স্থান অবশ্যই ঘুরে দেখবেন
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল: ক্ষুদ্র এই দেশে খুঁজে দেখলে দর্শনীয় স্থানের অভাব হবে না
বাংলা সাহিত্যে অনেক লেখাতেই বাংলাদেশের সৌন্দর্যের কথা বর্ণনা করা আছে। তার কিছু হয়তো ভাষায় লেখা গেছে, বেশিরভাগই যায়নি। নতুন করে দেশের নানা প্রান্তের এই মাধুর্যতা উপভোগ করার জন্য ভ্রমণপিপাসুরাও ছুটে বেড়ান প্রায় সারা বছরই। তবে কিছু জায়গা আছে যেখানে শুধু পরিব্রাজকরাই নন, দেশের নাগরিক হিসেবে একবার অন্তত সবারই যাওয়া উচিত।
ট্রাভেল বাংলাদেশের পাঠকদের সাথে আজ আলোচনা করব এমনই ২৭ জায়গা সম্পর্কে :
১) রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
এই বনের অবস্থান সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে। সিলেট নগরী থেকে দেশের একমাত্র এই সোয়াম্প ফরেস্টের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। জলমগ্ন এই বনে বর্ষাকালে অথৈ জল থাকে চার মাস। পানি থাকার এই সময়টুকু পার হয়ে গেলে ছোট ছোট খালগুলো হয়ে যায় পায়ে হাঁটা পথ। উত্তরে গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর আর মাঝখানে ‘জলার বন’ রাতারগুল। এই মোহনীয় দৃশ্য দেখার জন্য বর্ষাকালই সবচেয়ে উপভোগ্য সময়।
২) সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীব-বৈচিত্র্যের লীলাভূমি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবন। খুলনা শহরে এসে ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহজেই সুন্দরবন ঘুরে আসা যায়। সুন্দরবনের করমজল বন্য ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হারবাড়িয়া ইকো সেন্টার, কটকা, শেখেরহাট টেম্পল, কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার, মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য নামের স্পটগুলোতে কুমির প্রজনন, বানর, হরিণ, গুইসাপ, কাঁকড়া অথবা কুমিরের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যও দেখা যায়।

কুয়াকাটার মূল আকর্ষণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য। প্রকৃতির উপহার দীর্ঘ এই সাগর সৈকত সত্যিই বিস্ময়কর। হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ভিআইপি ডাকবাংলোতে থাকার ব্যবস্থা করা যায়। কম মূল্যে খাবার জন্য কুয়াকাটায় পর্যাপ্ত খাবার হোটেল রয়েছে।
৪) কক্সবাজার
সময় কাটানোর জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের তুলনাই হয় না। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহপরী, সেন্টমার্টিন কক্সবাজারকে করেছে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়। এখানে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন কক্সবাজারের ১২ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হিমছড়ি ও ইনানী বিচেও।

চর কুকরী-মুকরীকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বা দ্বীপকন্যাও বলা হয়ে থাকে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী আর সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে সৌন্দর্যের এক বর্ণিল উপস্থিতি রয়েছে এখানে। প্রায় ৫০০ বছর পুরনো এ চরে আজও সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি। তাই প্রাচীন সময়ের ছোঁয়া নিয়ে এখনও আধুনিক সভ্যতায় দর্শনীয় স্থানে নাম রয়েছে জায়গাটির।
৬) শুভলং ঝরনা
রাঙামাটি জেলার সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর মধ্যে শুভলং ঝরনা একটি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে ঝরনাটি পতিত হয়েছে কাপ্তাই লেকে। শুভলংয়ের কাছে যেতে বাধা নেই, ফলে ঝরনার রূপ মাধুর্য প্রাণভরে উপভোগ করা যায়। রাঙ্গামাটি সদর হতে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে শুভলং বাজারের পাশেই শুভলং ঝর্ণার অবস্থান।
৭) সাজেক ভ্যালি
রাঙামাটিতে এর অবস্থান হলেও মূলত যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা, তারপর বাঘাইহাট হয়ে সাজেক। রাস্তায় যেতে যেতে দেখা মিলবে পথের দুই পাশের লাল-সবুজ রঙের বাড়ির ও পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে অপরূপ মেঘের মেলার।
বান্দরবানে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ এখানে অবস্থিত নাফাখুম ঝর্না। জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত এই ঝর্নাকে বাংলাদেশের অন্যতম জলপ্রপাত হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া বান্দরবানের নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উঁচুতে উঠলে মেঘ ছোঁয়া যায়। দেখার জন্য আরও রয়েছে বগালেক, স্বর্ণ-মন্দির, রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পর্বত।
৯) সিলেট
সিলেটের রাতারগুল ছাড়াও সৌন্দর্য উপভোগের জন্য আরও আছে জাফলং, বিছানাকান্দি। খুব কাছেই রয়েছে উত্তরে ভারতের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়। এ জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি হাওর-বিল রয়েছে। সুনামগঞ্জে আছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর, যেখানে ভ্রমণ করতে যান অনেক ভ্রমণপিপাসু।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সর্ব-দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মাঝে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবস্থান। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এটি। স্থানীয়ভাবে নারকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হলেও অনেকে দারুচিনি দ্বীপ নামেও একে জানেন। চারিদিকে পানি আর মাঝখানে আট বর্গ কিলোমিটারের এই ছোট দ্বীপটি একদিনেই পায়ে হেঁটে ঘুরে আসা যায়।
১১) খাগড়াছড়ি

১২) রাঙামাটি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে থাকা ছোট্ট জেলা শহর আর আশপাশে সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় স্থান। এখানকার জায়গাগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজে। তাই সারা বছরই আপনি এখানে এলে ভালো লাগার দৃশ্য পেয়েই যাবেন।
১৩) পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুড় গ্রামে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০.৩০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত পাহাড়সদৃশ স্থাপনা হিসেবে এটি টিকে রয়েছে। পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। ইতিহাস জানতে চাইলে এখানে ঘুরে আসতেও মন্দ লাগবে না।

ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এই পুরাকীর্তি মহাস্থানগড় বগুড়া জেলার করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। পুণ্ড্রবর্ধনের রাজধানী ছিল বর্তমান বগুড়া মহাস্থানগড়। মৌর্য, গুপ্ত, পাল এবং সেন আমলেও বগুড়ার বিশেষ প্রশাসনিক গুরুত্ব ছিল।
১৫) লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় অবস্থিত। শুরুতে লালবাগ কেল্লার নাম দেয়া হয়েছিল আওরঙ্গবাদ দুর্গ বা আওরঙ্গবাদ কেল্লা। ১৮৪৪ সালে আওরঙ্গবাদ এলাকাটির নাম পরিবর্তন করে লালবাগ রাখা হয়। এলাকার নামের সাথে সাথে কেল্লাটির নামও পরিবর্তিত হয়ে লালবাগ কেল্লা হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
১৬) ষাট গম্বুজ মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটির গায়ে কোনও শিলালিপি নেই। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখে জানা যায় এটি খান জাহান আলী নির্মাণ করেছিলেন। এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটি।

ঢাকা জেলার সবচেয়ে কাছের দর্শনীয় স্থান ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক। জীব-বৈচিত্র্যে ভরা এই পার্কে আছে প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছ, ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণী।
১৮) ইদ্রাকপুর দুর্গ
মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এই দুর্গ। মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে রক্ষার জন্য নির্মিত হয়েছিল এটি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল। বর্ষার সুন্দরী বলা চলে ৩ জেলাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলকে। বর্ষায় কানায় কানায় পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে রূপের পসরা সাজিয়ে বসে।
২০) আহসান মঞ্জিল
বুড়িগঙ্গার পাড়ঘেঁষে কুমারটুলী এলাকায় প্রাচীন এই সাম্রাজ্যের অবস্থান। মঞ্জিলটি রংমহল ও অন্দরমহল দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রাসাদটির উপরে অনেক সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া একটি জাদুঘরও রয়েছে এখানে।
ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে এই মোগল সাম্রাজ্যটির অবস্থান। এখানে রয়েছে পাঁচ পীরের দরগা, প্রাচীন পানাম নগরী, নীলকুঠিসহ আরও অনেক প্রাচীন স্থাপনা।
২২) লাউয়াছড়া বন
ঘন জঙ্গলের বুক চিরে চলে গেছে পাহাড়ি রাস্তা, দুই পাশে সারি সারি গাছ, তার মধ্য দিয়ে মধ্য-দুপুর কিংবা সোনাঝরা সকাল অথবা বিকালের নরম আলো লাউয়াছড়াকে করেছে আরও মোহনীয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত মোহনীয় এই বন।

বরিশালের বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগরে পর্যটকদের জন্য মনোরম পরিবেশ ও অনেক প্রাচীন কীর্তি রয়েছে। এখানকার মাধবপাশায় রাজবাড়ির সম্মুখে ইতিহাসখ্যাত দুর্গাসাগর দীঘি অবস্থিত।
২৪) কুমিল্লা
কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধবিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। কুমিল্লা জেলায় লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, বার্ডসসহ আরও অনেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্থান রয়েছে।

নোয়াখালী জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা হাতিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কোলে জেগে উঠেছে চিরসবুজের দ্বীপ নিঝুমদ্বীপ। মাছ, গাছ, পাখ-পাখালি আর সোনার হরিণের সম্পদ ভাণ্ডার এই দ্বীপ।
২৬) চরগঙ্গামতি
কুয়াকাটার মূল ভূখণ্ডের পূর্বদিকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যটক আকর্ষণের আরেকটি লোভনীয় স্থান চরগঙ্গামতি। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপালি দ্বীপ মনপুরা। এই দ্বীপ দেশের মানুষ ছাড়াও বিদেশিদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা।
নাবিলা বুশরা এস এম
Click Here To See More