বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পিঠাপুলি। ছবি : ওয়ার্ল্ড টেকনোলজি ব্লগার
পিঠাপুলি বাঙালির একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বাংলার অঞ্চলভেদে তৈরি করা হয় ভিন্ন স্বাদের পিঠা। আসুন জেনে নেয়া যাক বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলির গল্প।
নোয়াখালীরপান্তুয়াপিঠা :
নোয়াখালীর পান্তুয়া পিঠা। ছবি : রকমারি রান্না শিখুনপান্তুয়া পিঠা নোয়াখালির ঐতিহ্যবাহী একটি পিঠা। এই পিঠার তৈরি প্রণালী খুবই সহজ। এর তৈরি প্রণালি অনেকটা আমাদের সবার পরিচিত পাটি সাপটা পিঠার মত। দুধ, ডিম, ময়দা এবং চিনি দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করে নেয়া যায় এই পিঠা। তবে মজার ব্যাপার কি জানেন? এই পিঠা তৈরির জন্য আমাদের পিঠাপুলির মাস অর্থাৎ শীতকালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। যেকোনো মৌসুমে বিকেলের নাস্তা হিসেবে তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে এটি।
পান্তুয়া পিঠা স্বাদে মিষ্টি হয়ে থাকে। খুব স্বাভাবিক! চিনি দিলে তো মিষ্টি হবেই। তবে, আপনি যদি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে থাকেন, অথবা আপনার যদি মিষ্টি খেতে কোনও নিষেধাজ্ঞা থেকে থাকে তবে আপনি চিনির পরিবর্তে লবণ ব্যবহার করেও বানিয়ে নিতে পারেন। তবে এটি আপনার জন্য আরও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। পান্তুয়াপিঠারতৈরিপ্রণালি খুব সহজেই ইউটিউবে পেয়ে যাবেন।
নোয়াখালীরখোলাজালিপিঠা :
খোলাজালি পিঠা। ছবি : টুইটারনোয়াখালীর আরেকটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা হচ্ছে খোলাজালি পিঠা। এটিকে অনেকে আবার পাতলা চিতই পিঠাও বলে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে সাধারণত এ পিঠা মাটির খোলায় তৈরি করা হয়। তাই মূলত এটিকে খোলাজালি পিঠা বা খোলাজা পিঠাও বলা হয়। তবে এ পিঠা গ্যাসের চুলায় ফ্রাইপ্যানেও তৈরি করা যায়। অনেক অঞ্চলে এ পিঠাকে আবার ডিমের পাতলা চিতই পিঠা বা চিতল পিঠাও বলে থাকে।
চালের গুঁড়া, লবণ এবং ডিম মিলিয়ে খুব সহজেই তৈরি করে নেয়া হয় এ পিঠা। শুধু পিঠা হিসেবেই নয়, রুটি হিসেবেও খেয়ে নিতে পারবেন এটি। বরং রুটি বানানোর চেয়েও সহজ এর তৈরি প্রণালি। খোলাজালি পিঠা স্বাস্থ্যসম্মত এবং সুস্বাদু। মাংসের ঝোল বা আপনার পছন্দের ভর্তা দিয়ে মজা করে খেয়ে নিতে পারেন পিঠাটি। খোলাজা পিঠার তৈরি প্রণালি উপকরণের তালিকা এবং ভিডিও আপনি খুব সহজেই ইউটিউবে পেয়ে যাবেন।
ফুলঝুড়িপিঠা :
দুধ, ডিম, চিনি এবং চালের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় ফুলঝুড়ি পিঠা। এই পিঠাকে আবার সাঁজের পিঠাও বলা হয়ে থাকে। ফুলঝুড়ি পিঠা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রেখে খাওয়া যায়। মুচমুচে এই পিঠাটি প্রায় সকলের পছন্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। ফুলঝুড়ি পিঠার তৈরি প্রণালি খুব সহজেই ইউটিউবে দেখে তৈরি করে নিতে পারেন।
নরসিংদীরঐতিহ্যবাহীনকশীপিঠা
রসে ভরা নকশী পিঠা। ছবি : দ্যা ডেইলি ইত্তেফাকগুড়ের রসে ভেজানো নকশী পিঠা খেতে ভালবাসে না এরকম মানুষ কমই পাওয়া যাবে। নরসিংদীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পিঠা এটি। কেবল মাত্র চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি করা হয় এ পিঠা। উপকরণ কম হলেও এর তৈরি প্রণালি একটু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রতিটি পিঠায় ফুটিয়ে তোলা হয় সুন্দর সুন্দর নকশা। উঠানো উঠানো নকশা করলে বেশি মুচমুচে হয়।
নকশী পিঠা তৈরি প্রণালি খুব সহজেই অনলাইন থেকে দেখে নিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন।
৫।মাছপিঠা :
মাছ পিঠা। ছবি: দ্যা উইকি হাউঅল্প উপকরণেই তৈরি করা যায় মজাদার মুচমুচে ঝাল মাছ পিঠা। এই পিঠাটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু।ভাবছেন, মাছের তৈরি পিঠা, এ আবার কেমন পিঠা? দেখতে মাছের মতো হলেও এর ভেতরে আপনি আপনার পছন্দমতো পুর দিয়ে তৈরি করে নিতে পারবেন মাছ পিঠা। আলু, মাংসের কিমা বা মাছ দিয়েও তৈরি করতে পারেন মাছ পিঠা। বিকেলের নাস্তা হিসেবে এ পিঠার প্রচলন বেশি।
খিরসাপুলিপিঠা :
খুব সহজেই ময়দা এবং সুজি দিয়ে তৈরি করে নেয়া যায় খিরসা পুলি পিঠা। এ পিঠা তৈরি প্রণালী অনেকটা পুরি তৈরির মত। তবে পুরির ভেতরে যেমন আলু অথবা ডালের পুড় ব্যবহার করা হয়, ঠিক একই প্রণালীতে আলু বা ডালের পরিবর্তে কেবল সুজি ব্যবহার করা হয়। এরপর ডুবো তেলে ভেজে নিতে হয়। পিঠাটি খেতে উপর দিয়ে মচমচে এবং ভেতরে নরম তুলতুলে হয়। বিকেলের নাস্তায় খুব সহজেই তৈরি করা যেতে পারে। এর রেসিপি খুব সহজেই অনলাইনে পেয়ে যাবেন।
বিক্রমপুরেরবিবিখানাপিঠা :
পিঠাপুলির জন্য বিক্রমপুরের সুনাম রয়েছে সে অনেক কাল ধরে। বিক্রমপুরের অধিবাসিরা আজ অব্দি ধরে রেখেছে সেই ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী পিঠার নাম বিবিখানা পিঠা। বাদশাহি নামের পিঠাটি স্বাদেও বাদশাহি। আতপ চালের গুঁড়ো, নারিকেল, দুধ, ডিম এবং চিনি দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করা যায় এই পিঠা। অতিথি আপ্যায়নে মূলত এই খান্দানি পিঠা তৈরি করা হত। অনেকটা কেক তৈরির পদ্ধতিতে পিঠাটি তৈরি করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই পিঠাটি খুব সহজেই অনলাইন থেকে রেসিপি দেখে তৈরি করে নিতে পারেন।
তেজপাতারপিঠা :
তেজপাতার পিঠা। ছবি : বিডি সংসারশীতকালে গরম গরম পিঠা খেতে কে না ভালবাসে? ডিম, চিনি, ময়দা এবং তেজপাতা দিয়ে খুব সহজে ঘরেই তৈরি করে নেয়া যায় তেজপাতা পিঠা। শীতের বিকেলের নাস্তা হিসেবে এ পিঠার বিকল্প নেই। তবে শীতকাল ছাড়াও যে কোনও সময় অতিথি আপ্যায়নেও তৈরি করা যেতে পারে।