বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট : শূন্য থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : হিমালয়ের কোলঘেঁষে বাংলাদেশের সর্বোত্তরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট
বাংলাদেশের সীমানার সূচনাকারী বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। ছবি : উইকিপিডিয়া
শূন্য বা জিরো থেকে যেমন সংখ্যার শুরু হয়। ঠিক তেমনই 'বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট' থেকে বাংলাদেশের সীমানা শুরু হয়েছে। তেঁতুলিয়ার ১নং ইউনিয়ন বাংলাবান্ধা। আর এই বাংলাবান্ধায় বাংলাদেশের সীমানার সূচনাকারী 'বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট' অবস্থিত। বাংলাবান্ধাই একমাত্র স্থলবন্দর যা তিনটি প্রতিবেশী দেশের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে। এই তিনটি প্রতিবেশী দেশ হল : ভারত, নেপাল, ভুটান। তেঁতুলিয়া থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর অবস্থিত। বন্দরের পাশেই বয়ে গেছে মহানন্দা নদী। তেঁতুলিয়া থেকে বাংলাবান্ধা, দূরত্ব যত কমে ততই যেন দাঁড়িয়ে থাকা শুন্য চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। পরপর স্তরে সাজানো রয়েছে গোলাকার ভিত।
একদম উপরের ছোট গোলাকার ভিতের উপরে চারকোণা আরেকটি ভিত। এর উপর দাঁড়িয়ে আছে 'জিরো'টি। ভারত সীমান্তের কাছাকাছি ১০ একর জমির ওপর বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরটি অবস্থিত। এছাড়া বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টেই এন-৫ রাস্তাটি শেষ হয়েছে। আর এইখানে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেরই পতাকা রয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বিপরীতে রয়েছে ভারতের ফুলবাড়ি স্থল বন্দর। নেপালের সাথে বাণিজ্যের সুবাদে স্থলবন্দরটি প্রথম খোলা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ভারতের সাথে পণ্য আদান-প্রদানের জন্য এই স্থল বন্দরটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু তখনও এই বন্দরের কার্যক্রম ভালোভাবে শুরু হয়নি।
ছবি : অবজার্ভ বিডি
এরপরে ৬ বছর পর বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে দুই দেশই এই বন্দরের মাধ্যমে নেপাল ও ভুটানের পণ্যবাহী যান চলাচলে সহযোগিতা করবে এমন কথা উল্লেখ ছিল। এরপরের বছরই স্থল বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের পণ্য আদান-প্রদান শুরু হয়। এই স্থলবন্দর থেকে ভারত, নেপাল ও ভুটান সীমান্তের দূরত্ব খুবই কম। এই জন্য এই বন্দর বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানের সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি এই স্থলবন্দর দিয়ে ভুটান থেকে পাথর আমদানি করা হয়। এরপর ২০১৬ সালে অভিবাসন সেবা চালু হওয়ার পর থেকে এই বন্দরে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। পাসপোর্ট, ভিসা নিয়ে পায়ে হেঁটেই মানুষ সীমান্তের ওপারে পাড়ি দিতে পারছে। এছাড়া দার্জিলিং, নেপাল, ভুটানের পর্যটকের জন্যও বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করা সহজ করেছে এই স্থলবন্দর। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বন্দর হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও বাংলাবান্ধা দারুণ জনপ্রিয়। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের নানা মানুষ ভিড় করেন এই স্থলবন্দরে।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট-এর প্রস্তর ফলক। ছবি : ম্যাপিও ডট নেট
একদিন মহানন্দার শীতল বাতাস গায়ে লাগিয়ে ঘুরে আসুন বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে। নিজের দেশের সীমানার শুরুটা দেখে আসুন নিজের চোখে।
কীভাবে যাবেন : বাসে করে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে ৪৯৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। হানিফ পরিবহণ, নাবিল পরিবহণ, শ্যামলী পরিবহণে করে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসতে পারবেন সহজেই। ট্রেনে আসতে চাইলে দ্রুতযান কিংবা একতা এক্সপ্রেসে যেতে পারেন। পঞ্চগড় নেমে এখান থেকে স্থানীয় বাস কিংবা সিএনজি নিয়ে তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়। এরপর তেঁতুলিয়া থেকে লোকাল বাসে কিংবা সিএনজিতে করে বাংলাবান্ধা যাওয়া যায়। এছাড়া পঞ্চগড় থেকে লোকাল বাস কিংবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে সরাসরি বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে আসা যায়। এজন্য প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে।
আবাসন : তেঁতুলিয়াতে থাকতে হলে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, উপজেলা পিকনিক কর্ণারে থাকতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া তেঁতুলিয়া না থাকতে চাইলে পঞ্চগড়ের আবাসিক হোটেলে থাকতে পারেন। যেমন : মৌচাক আবাসিক হোটেল, ইসলাম আবাসিক হোটেল, মুন স্টার হোটেল ইত্যাদি।
খাবার : তেঁতুলিয়া বাজারে কিছু খাবার হোটেল আছে। যেমন : বাংলা হোটেল, শাপলা হোটেল ইত্যাদি। এখানে খেতে না চাইলে আপনাকে পঞ্চগড়ে হোটেল খুঁজতে হবে খাওয়ার জন্য। পঞ্চগড়ের বেশ কিছু আবাসিক হোটেল আছে যেখানে আপনাকে খাবারের কথা আলাদা ভাবতে হবে না। যেমন : মৌচাক আবাসিক হোটেল, ইসলাম আবাসিক হোটেল ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র : http://www.panchagarh.gov.bd/site/tourist_spot/1fabd675-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE%20%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%20%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F http://www.panchagarh.gov.bd/site/top_banner/0a24bdb3-18ff-11e7-9461-286ed488c766/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%AA%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE_%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B2_%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0 http://www.bsbk.gov.bd/site/page/126806bc-5c31-4190-9560-9c9df35e95a3/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0