পাহাড় আর ঘন গাছপালা মিলে ঘোর লাগা সৌন্দর্য সন্ধানে : বড়ইতলী ঝর্ণায়

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার বড়ইতলী ঝর্ণা

পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে বড়ইতলী ঝর্ণা।  ছবি : ইউটিউব

কক্সবাজার বা বান্দরবান অনেকেই ঘুরতে যান। দেশের পর্যটকদের কাছে এই দুইটি স্পট খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এই কক্সবাজার কিংবা বান্দরবানের আনাচে কানাচে এমন অনেক স্থান আছে যা আমাদের কাছে খুব বেশি পরিচিত না। কিন্তু এসব স্থানের সৌন্দর্যের সামনে সাধারণ কোন ট্যুরিস্ট স্পট তেমন কিছুই না। আজকে আমরা জানবো খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, দামতুয়া এসব বিখ্যাত ঝর্ণার তুলনায় কম পরিচিত ঝর্ণা বড়ইতলী নিয়ে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তে নাইক্ষ্যাংছড়িতে অবস্থিত এই ঝর্ণা। প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হয় এই ঝর্ণা থেকে ঘুরে আসতে। আমাদের আজকের লেখা এই ঝর্ণা নিয়ে। কক্সবাজার থেকে যেতে চাইলে সি এন জি বা জীপ ভাড়া করে চলে আসতে পারেন নাইক্ষ্যাংছড়িতে। ঘন্টাখানেক সময় লাগে এখানে আসতে। মেরিন ড্রাইভ বা রামু যেকোন দিক দিয়েই আসতে পারবেন। বান্দরবান থেকে কক্সবাজার দিয়ে এদিকে আসা সোজা। একটা ছোট্ট ব্রীজ দিয়ে আলাদা হয়েছে এই দুই জেলা। এই ব্রীজ পার হয়ে কিছুদূর গেলে শুরু হবে ট্রেইল।

ছবি : আদার ব্যাপারী

শুকনো মৌসুমে সি এন জি বেশ খানিকটা ভিতরে যেতে পারে কিন্তু বর্ষাকালে আপনাকে মূল রাস্তা থেকেই হাঁটা শুরু করা লাগবে। রাস্তার পাশে দোকান ও একটা বৌদ্ধ উপাসনালয় আছে। নিজের জিনিসপত্র এখানে রেখে যেতে পারেন। পোশাকও পরিবর্তন করে নিতে পারবেন এখানে। হাঁটার জন্য বাঁশ কিনে নিতে পারবেন এখান থেকেই। সাথে অবশ্যই শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে নিন নাহলে এতটা পথ যেতে আসতে বেশ কষ্ট হবে। প্রথমে কিছুদূর নিচের দিকে নামবেন এরপর সোজা রাস্তা ধীরে ধীরে উপরে উঠতে থাকবে। এভাবে বেশ খানিকটা রাস্তা হাঁটলে দেখা পাবেন ঝিরি পথের। এখান থেকে চাইলে ট্যুরিস্ট গাইড নিতে পারেন আবার বেশ কিছুদূর পরপর পাহাড়ীদের ঘর আছে সেখান থেকেও খোঁজ নিতে পারেন। তবে এখান থেকে মায়ানমার খুব কাছে হওয়ার ফলে এই রাস্তা দিয়ে অনেক সময় মাদক চোরাচালানকারীরা চলাচল করে তাই সাবধানতা অবলম্বন করবেন। ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না কিছুটা ভেতরে গেলেই তাই আগে থেকেই কাউকে জানিয়ে আসতে পারেন কারণ বিপদ তো বলে আসে না।

বন্ধুদের সাথে সহজে ঘুরে আসতে পারেন বড়ইতলী ঝর্ণায়। ছবি : সংগৃহীত

ঝিরিপথ ধরেও হাঁটতে পারেন আবার এরপাশ দিয়ে মাটির রাস্তা দিয়ে চলতে পারেন। কিছুক্ষণ পর একটা রাস্তা পাবেন বেশ খারাপ। এই রাস্তা বাদ দিয়ে একটু ঘুরপথে ঝিরিপথ দিয়েও যেতে পারেন। এরপর বেশ খানিকটা সময় সোজা রাস্তা। কিছুক্ষণ পর শুরু হবে পাথুরে রাস্তা। রুক্ষ, শুষ্ক পাথরে সাবধানে চলতে হয়। নাহলে ভেজা পায়ে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা কিংবা পড়ে গেলে বড় যখম হতে পারে। ঝিরিপথের কিছু জায়গায় পানির স্রোত বেশ শক্তিশালী। সাবধানে এসব জায়গা পার হবেন।

ছবি : প্রথম আলো

যেতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগবে। মূল ঝর্ণার যত কাছাকাছি যাবেন ঝিরিপথ তত বড় হতে থাকবে। পাহাড় আর ঘন গাছপালা মিলে এক ঘোর লাগা সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়। মূল ঝর্ণার আগে ৩ টা ছোট ছোট ঝর্ণা পড়বে। মূল ঝর্ণার কাছে জায়গাটা বেশ ছোট। একসাথে ৪-৫ জনের বেশি দাঁড়ানো যায় না আর পানির চাপও অনেক। অনেক উপর থেকে পড়া পানি প্রচন্ড বেগে নেমে আসে। সেই হিসেবে নিচের ঝর্ণাগুলোতে পানির চাপ কম হলেও জায়গা বেশ বড়। মূল ঝর্ণা নেমে এসেছে উঁচু পাহাড় থেকে। নিচের ঝর্ণাগুলো থেকে মূল ঝর্ণায় পৌঁছানো কিছুটা কঠিন কাজ। তবে ঝর্ণার শীতল পানি সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। অনেক সাহসী ট্রেকার মূল ঝর্নার পাহাড় বেয়ে উঠতে চায় তবে এটা প্রচন্ড ঝুকিপূর্ণ কাজ। প্রয়োজন না থাকলে এই ঝুঁকি না নেওয়াই উত্তম। ঝর্ণা দেখে ফিরে আসতেও দেড় থেকে দুই ঘন্টা লাগবে। তবে আসার পথে যাওয়ার থেকে স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট কম হয়।

অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে আলো থাকতে থাকতে ফিরে আসতে পারেন। আলো চলে গেলে এই অচেনা জায়গায় বিপদে পড়বেন। যারা এডভেঞ্চার ভালোবাসেন তাদের জন্য বড়ইতলী আদর্শ জায়গা। একদিনে ঘুরে আসার মত জায়গা। কক্সবাজার গেলে একদিন সময় বাড়িয়ে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এখানে। সকাল সকাল বের হলে ঝর্ণাঘুরে ফেরার পথে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।   কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।