১৯০৮ সালে খননকৃত বিবির পুকুর, বরিশাল

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিবির পুকুরকে ঘিরেই একসময় এই নগরীর প্রসার ঘটে



বিবির পুকুর, বরিশাল

বরিশাল নগরীর কেন্দ্রে অবস্থিত বিবির পুকুর; ছবি : ডেইলি নয়াদিগন্ত


 ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বরিশাল শহরের 'বিবির পুকুর'। এই পুকুরের বিশেষত্ব এই যে, এটি বরিশাল নগরীর কেন্দ্রে অবস্থিত এবং একে ঘিরেই এই নগরটি বিকশিত হয়েছে। বাংলাদেশের অন্য কোন বিভাগ এরকম কোন পুকুরকে ঘিরে প্রসার পায় নি। এই ব্যাপারটি বিবির পুকুরকে করেছে অনন্য। এই পুকুর নির্মাণের ইতিহাস বেশ সুন্দর। বলা হয়ে থাকে, উইলিয়াম কেরি জিন্নাত বিবিকে পর্তুগিজ জলদস্যু থেকে রক্ষা করেন। উইলিয়াম কেরিকে বাংলা মুদ্রণ সাহিত্যের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। পরবর্তীতে উইলিয়াম কেরির পালিত কন্যা জিন্নাত বিবি সাধারণ মানুষজনের পানির কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে এই পুকুরের খনন কাজ শুরু করেন ১৯০৮ সালে।

আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধু উদ্যান, বরিশাল : কীর্তনখোলার তীরের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক

শত বছরের পুরনো এই পুকুরটি জিনাত বিবির নাম অনুসারে বিবির পুকুর নামে পরিচিত হয়। পুকুরটি নগরের সদর রোডের পূর্ব পাশে অবস্থিত। এটি দৈর্ঘ্যে ৪০০ ফুট এবং প্রস্থে ১৮৫০ ফুট। বরিশাল নগরের অন্যতম সুন্দর এই স্থানটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে সংস্কার করা হয়েছে। পুকুরের চারপাশে রয়েছে ঝুলন্ত পার্ক। এছাড়াও পুকুরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রয়েছে বেঞ্চ, গ্রিলসহ বিভিন্ন রকমের লাইটিং। পানির খেলা উপভোগের জন্য পুকুরের মাঝে ফোয়ারা স্থাপন করা হয়েছে। হিরন স্কয়ার নামে উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে ঠিক পুকুরের পাশেই। মজার ব্যাপার এই যে, এই পুকুরে একসময়ে নদীর মত নিয়মিত জোয়ার ভাটা হতো। কারণ, পুকুরের সাথে কীর্তনখোলা নদীর দুটি সংযোগ ছিল।

আরও পড়ুন : কীর্তনখোলা নদীর সাথে সংযোগ থাকায় বিবির পুকুরে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হতো;


বরিশাল নগরে এটি অন্যতম প্রধান নাগরিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। অসংখ্য মানুষ এখানে সময় কাটাতে আসেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় অনেক রাত পর্যন্ত মানুষের আনাগোনা দেখতে পাবেন এখানে। পুকুরের চারপাশ এবং হীরন স্কয়ার সংলগ্ন এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মজার ব্যাপার এই যে, এই পুকুরে একসময়ে নদীর মত নিয়মিত জোয়ার ভাটা হতো। কারণ, পুকুরের সাথে কীর্তনখোলা নদীর দুটি সংযোগ ছিল। চটপটি, ফুচকা, পিয়াজুসহ অনেক ধরনের খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন এখানে দোকানীরা। পুকুরের পাশে বসে এসব খাবারের পাশাপাশি এখানের সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবে আপনি উপভোগ করতে পারবেন।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা-বরিশাল যাতায়াতে আপনার পছন্দ মত লঞ্চ কিংবা বাসে যেতে পারেন। গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে বরিশালগামী বাস ছেড়ে যায়। বিভিন্ন পরিবহনের এসি কিংবা নন-এসি বাস ঢাকা বরিশাল রুটে যাতায়াত করে। বাসে বরিশালে পৌছাতে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগে। বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যেয়ে আপনি বাস থেকে নামবেন। এছাড়াও লঞ্চে আপনি বরিশাল যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে আপনাকে বরিশালগামী লঞ্চে উঠতে হবে। সাধারণত রাত ৮-৯ টায় বরিশালগামী লঞ্চ যাত্রা শুরু করে এবং পরেরদিন ভোরে এসব লঞ্চ বরিশালে যেয়ে পৌছায়। লঞ্চ ঘাট অথবা বাস টার্মিনাল থেকে রিক্সাতে বা অটোতে করে বিবির পুকুরে যেতে পারবেন।

আরও পড়ুন : অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, বরিশাল

যেখানে থাকবেন :

থাকার জন্য বরিশাল জুড়ে বেশ ভালো মানের হোটেল রয়েছে। আপনি আপনার সুবিধামত যেকোনো হোটেলেই রাত কাটাতে পারবেন।

যেখানে খাবেন : বরিশালে বিভিন্ন মানের খাবার হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট পাবেন। আপনি আপনার পছন্দমত খাবার সহজেই পেয়ে যাবেন এসব হোটেল বা রেস্টুরেন্ট থেকে।  

মোঃ খালিদ বিন জামান   এস এম