বুকিত ললাং : সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মিশে আছে যেখানে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ইন্দোনেশিয়ার একটি ছোট্ট ও সুনসান গ্রামে ভ্রমণ

যেন সবুজ দিয়ে সাঁজানো, বুকিত ললাং। ছবি : বুকিং ডট কম

বুকিত ললাং ইন্দোনেশিয়ার ছোট, সুন্দর একটি গ্রাম। ইন্দোনেশিয়ার এই গ্রামটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও বেশ পরিচিত। ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার রাজধানী শহর মদন থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই গ্রামটি। বুকিট ললাং পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ১৯৭৩  সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল অরঙ্গুয়ান জনসংখ্যা সংরক্ষণ করা। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বন্ধ হয়ে যায় এই কার্যক্রম। কারণ জায়গাটি পশু পুনর্বাসনের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয় গ্রামটির। পর্যটন রিসোর্ট থেকে শুরু করে পুরো গ্রামটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়। ২০০৪ সালের জুলাইয়ে পুনর্নির্মাণ করে আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়। মানুষ বেকারত্ব এবং গৃহহীনতার মুখোমুখি হয়েছিল।

বিশেষত সরকার থেকে সীমাবদ্ধ আর্থিক সহায়তায় একটি শহর পুনর্নির্মাণ করা কঠিন কাজ। তবে বুকিত ললাং-এর জনগন গ্রামটিকে সাজিয়ে তুলতে কার্পন্য করেনি। ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সেরা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলতেই যেন তাদের সার্থ্যকতা। গ্রামটি অনেক ছোট, সুনসান ও সুন্দর। আর ইন্দোনেশিয়ার ওই অঞ্চলের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য মিশে আছে গ্রাম জুড়ে। সেখানে গিয়ে যেমন সৌন্দর্যের এক লীলাভুমিতে পদার্পণ করা যায় তেমনই জানা যায় একটি দেশের জনগোষ্ঠী সম্পর্কে। এবার জানিয়ে দিচ্ছি বুকিত লরাং গ্রামটিকে পুরোপুরিভাবে উপলব্ধি করার উপায়গুলো :

গ্রাম ভ্রমণ : পর্যটকেরা মুলত এই গ্রামটিতে ভ্রমণে যায় পুরো গ্রামটি দেখার জন্য। স্থানীয় লোকেরা কীভাবে বাস করে এবং কাজ করে, ধানের ক্ষেত এবং রাবারের বাগান, ব্রাউন সুগার বা টফু কীভাবে তৈরি হয়। স্থানীয় স্কুল এবং বাজারগুলোতে স্থানীয়দের কাজ প্রত্যক্ষ করার জন্য পুরো গ্রামটি ভ্রমণের বিকল্প কিছু হতে পারে না।

নদীতে সাঁতার : গ্রামের নদীগুলোতে স্থানীয় বাচ্চারা সাঁতার কাটে এবং বিভিন্ন  খেলার আয়োজন করে। পর্যটকেরা এসবের সাক্ষী হতে ভিড় জমায় নদীর পাড়ে। চাইলে তাদের আনন্দে সামিলও হওয়া সম্ভব।

স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা : প্রতি শুক্রবার পার্শ্ববর্তী গোটং রায়ংয়ের স্থানীয় বাজার বসে। তাজা ফল, কাপড় বা খেলনা এখানে বেশ ভালো পাওয়া যায়। এছাড়া গহনা, কাঠের ফ্রেম, নারকেল দিয়ে তৈরী বিভিন্ন জিনিস, বাশের তৈরী বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী পাওয়া যায়।

হাতি দর্শন :

ছবি : সুমাত্রা ইকো ট্রাভেল

 গ্রামটিতে অনেক পোষা হাতি দেখতে পাওয়া যায়। তারা যেন গ্রামের সৌন্দর্যের একটি অংশ। বিশাল বিশাল হাতিগুলো দেখতেও অনেকে এই গ্রামে বেড়াতে আসে।

রাতের নাচ-গানের আসর : গ্রামটিতে রাতে স্থানীয়রা নাচ-গানের আসর বসায় মাঝে-মধ্যেই। চাইলেই সাক্ষী হওয়া যায় এই আসরের।

ট্রেকিং :

ছবি : ফাইনেমো ডট কম

 বুকিট ললাং-এর ভ্রমণ গুনুং লিউজার জাতীয় উদ্যানে ট্রেকিং ব্যতিত  অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ট্রেকিং-এর মাধ্যমে আরঙ্গুটান এবং অন্যান্য প্রাণী দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে  জঙ্গলে রাত কাটানোরও সুযোগ রয়েছে।

থাকা এবং খাওয়া :

অনিন্দ্য সুন্দর থাকার জায়গা বুকিত ললাং-এ। ছবি : বুকিং ডট কম

 গ্রামে বুকিত ললাং হিল রিসর্ট, জঙ্গল ইন, স্যাম এর, জঙ্গল ট্রাইব, গার্ডেন ইন, ইন্দ্রা ভ্যালি ইন ও ট্রেকিং, রেইন ফরেস্টসহ আরও অনেক হোটেল রয়েছে রাত্রি যাপানের জন্য। সুবিধা এবং চাহিদা অনুযায়ী সহজেই পাওয়া যায় হোটেলগুলো। প্রায় প্রতিটি গেস্টহাউসে একটি রেস্তোঁরা থাকে যা ভাল স্থানীয় এবং পশ্চিমা খাবার পরিবেশন করে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন  রেস্তোরাঁ এবং খাবার দোকান রয়েছে আশেপাশেই। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-ইউসরি ক্যাফে, ল্যায়াং ক্যাফে, টনি'র রেস্তোঁরা, রোজা রেস্তোঁরা।

যেভাবে যাবেন : ইন্দোনেশিয়ার মেদান থেকে সরাসরি উবারে যাওয়া যায়। বুকিত ললাং-এ যাবার জন্য কোনো পাবলিক বাস নেই। ছোট ছোট বাস রয়েছে যেগুলো প্রতি ১৫ মিনিট পর পর যাত্রা  করে। এছাড়া মোটরবাইকেও যাওয়া সম্ভব।

গুরুত্বপূর্ন তথ্য :

  • বৃষ্টি মৌসুমে এখানে অনেক বৃষ্টি হয় এবং বজ্র-বাতাস বয়।
  • গ্রামটিতে বিদ্যুৎতের ভরসা করা একেবারেই বোকামি আর নেটওয়ার্ক যেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
  • এখানে নগদ অর্থ আদান প্রদান করা হয়। কোনো প্রকার কার্ড ব্যবহার করা যায় না।
  • ট্রেকিং বা ভ্রমনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম  সাথে নিয়ে যাওয়া ভালো।
  • অরঙ্গুতান ট্রেক ভ্রমনের আগে অবশ্যই আবহাওয়া এবং তথ্য জেনে নেয়া উচিত।
  • গ্রামে শালীন পোষাক পরিধান করা আবশ্যক।
  • স্থানীয়দের সাথে ভদ্র ব্যবহার করুন এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হোন।
  
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া, উইকি ট্রাভেল