ষাইট্টা বটগাছ এর দুয়ারে একদিন, সাভার

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ষাইট্টা বটগাছ


একদিনের ট্যুরের জন্য আকর্ষণীয় একটি জায়গা হতে পারে সাভারের ষাইট্টা বটগাছ। এর সাথে হাতে সময় থাকলে কাকরানের কুমোরপাড়া। সাভারের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে লেগুনায় করে যাওয়া যাবে ধামরাই এর ধানতারা বাজার। এখান থেকে অটো নিয়ে যাওয়া যাবে ষাইট্টা বটগাছ দেখতে। ধামরাই বাজার থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ষাইট্টা বটগাছ।

ষাইট্টা বটগাছ 

আনুমানিক ৪০০ কিংবা ৫০০ বছরের পুরনো এই বটগাছ জুড়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য শ্রুতিবাক্য। এখানে আসার পথে বেশ দূর থেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এই গাছ। বিশাল জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছ ক্ষণিকের মধ্যেই নিজ সৌন্দর্যে আপনার মন কেড়ে নিতে পারে। বটগাছের ঠিক পাশেই ঘাঁটি গেড়েছে শতবর্ষী পাকুড় গাছ। শোনা যায়, দেবীদাস বংশের পূর্বপুরুষেরা এই গাছ রোপণ করেছিলেন। সনাতন ধর্মমতে পাকুড় পুরুষের প্রতীক এবং বট মেয়ের। এরপরে এই দুই গাছকে তারা স্বামী স্ত্রী রূপে পূজা করে যা এখনো প্রচলিত রয়েছে।


ষাইট্টা বটগাছ

বয়সী বটের একাংশ। ছবি : তাসমিয়া তাবাসসুম, ট্রিপ জোন


এছাড়াও একপাশে জায়গা করে নিয়েছে একটি মন্দির। এই মন্দিরে বিভিন্ন পূজার আয়োজন চলে সারাবছর। এই পুরানো বটের নিচে পহেলা বৈশাখ এর মত বছরের বিভিন্ন পার্বণের অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এই গাছ সংক্রান্ত বেশ কিছু কথা প্রচলিত রয়েছে। এই গাছের ডাল কাটা নিষেধ বলে আগে থেকেই সাবধান করে দেয়া হয়ে থাকে। জনশ্রুতি রয়েছে, বিভিন্নজন বিভিন্ন সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছের ডাল কাটার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মারাও যায়। অসুস্থ ব্যক্তি মন্দিরে পুজা না দিলে সুস্থ হতে পারেনা বলেও শোনা যায়। ডাল না কাটার ফলে প্রশস্তে বেড়ে প্রায় পাঁচ বিঘা জায়গা দখল করে দাঁড়িয়ে আছে এই পুরনো বটগাছ। এখানকার ঠান্ডা বাতাস, স্নিগ্ধ আবহাওয়া আর পাখপাখালির ডাক আর শান্ত সবুজ ভাব মনকে পরিপূর্ন করে দিতে যথেষ্ট। শহুরে একঘেয়েমি দূর করতে এই জায়গা হতে পারে অনন্য যার রেশ রয়ে যাবে বেশ কিছুদিন।

কাকরান গ্রামের কুমোরপাড়া 

ষাইট্টা আসার আগে যেতে পারেন কাকরান গ্রামের কুমোরপাড়া। ধামরাই বাজার থেকে রিকশা বা অটো নিয়ে যাওয়া যাবে কাকরান গ্রামে। হাঁড়ি, কলসি, ফুলদানী, দেয়াল সাজাবার টেরাকোটা ছাড়াও বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরী হয় এখানে। দেখা যায় মাটির তৈরী জিনিসপত্র সারি দিয়ে রোদে শুকাতে দেয়া কিংবা মাটির ঢিবির মত চুলায় পুড়ে লাল হচ্ছে এসব জিনিস। কুমোরদের মতে, মাটির জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগই পৈতৃক এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় স্থায়ী হয়েছেন। অনেকে পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে পূর্বপুরুষদের দেখানো পথে এখনো মাটি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে ঘর সাজাবার জন্য ইদানীং মাটির ছাঁচে তৈরী বিভিন্ন ছবির কদর বেড়েছে। বি:দ্র: গাছপালা অমূল্য সম্পদ। শতবর্ষী ষাইট্টা বটগাছ এখানকার পরিবেশের জন্য আরো অধিক গুরুত্বপূর্ন। তাই গাছের কোটরে নাম লেখা বা পরিবেশ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 


পড়ুন ঃ অবসরে ঘুরে আসুন প্রকৃতির নিবিড় ছায়ায় জিন্দাপার্কে,নারায়নগঞ্জ

জোহরা মহসীন  এস এম