মসজিদের স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য বলে দেয় নির্মাণকালীন সংস্কৃতি
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভ্রমণে তৎকালীন ইসলামিক জীবন ব্যবস্থার সাথে পরিচিত হওয়া যায়
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গুঠিয়া মসজিদ। ছবি : প্রবাসী দিগন্ত
বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। এদেশে মুসলিম সাম্রাজ্যের বিস্তার হয় ষোল এবং সতেরো শতাব্দিতে। ঠিক সেই সময়টিতে মোঘল সাম্রাজ্যের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে মসজিদের বিস্তার ঘটে।আর মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে মোঘলরা তাদের নিজস্ব স্থাপত্যকলার ব্যবহার করে। দিল্লীর জামে মসজিদ দেখতে অনেকটা পেঁয়াজ আকৃতির সূঁচালো শীর্ষ বিশিষ্ট গম্ভুজ যা কিনা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মোঘলদের এই স্থাপত্যরীতি ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের অনেক পুরাতন মসজিদের ক্ষেত্রে বেশ প্রভাব রাখে। নিত্যনতুন কৃষ্টি ও স্থাপত্যশৈলীর ধারক হয়ে মসজিদগুলো অমাদের ঐতিহ্যে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
নূর মানিকচর জামে মসজিদ :
ছবি : টুরিস্ট আই
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সবচেয়ে পুরনো মসজিদ নূর মানিকচর জামে মসজিদ। এটি প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি নির্মাণ করেছিলেন সৈয়দ নূর আহমেদ কাদের পীর। মসজিদে সাতটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং প্রস্থ ৫ ফুট। সম্পূর্ণ মসজিদটি চুন সুরকি দিয়ে নির্মাণ করা। কুমিল্লা থেকে ১৮ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে দেবিদ্বারে নূর মানিকচর জামে মসজিদ অবস্থিত।
লালবাগ শাহী মসজিদ :
লালবাগ শাহী মসজিদ, ঢাকা। ছবি : শেয়ার বিজ
লালবাগ দুর্গের দক্ষিণ-পূর্বে নির্মিত এই মসজিদটি মুঘল আমলের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। এখানে প্রায় একসাথে ১৫০০ জন মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। এটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ফররুখ সিয়ার ১৭০৩ থেকে ১৭০৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। পাকিস্তানি আমলে মসজিদটির সাথে একটি মিনারাত সংযুক্ত করা হয়েছিল। মসজিদের পাশে অষ্টকোণাকৃতির চমৎকার টাওয়ার রয়েছে।
জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ :
ছবি : সংগৃহীতলালবাগ শাহী মসজিদের খুব কাছে এটি অবস্থিত। বিখ্যাত কয়েকজন ইসলামিক শিক্ষিত পণ্ডিতগণ এটি নির্মাণ করেছিলেন। ১৯৫০ সালে এর নির্মাণ কাজ হয়েছিল। এটা স্থাপন করার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন হাফেজী হুজুর। এখানে বেশ ভালো মানের শিক্ষা দেয়া হয়। বর্তমানেও যা অব্যাহত আছে। একসাথে প্রায় ১২০০ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে থাকে।
খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ :
ছবি : আর্কনেট
এটি ঢাকার লালবাগ দুর্গের কাছেই অবস্থিত। এটি নির্মাণ করেছিলেন ফররুখ সিয়ার ১৭০৪ সালে। ভূমি থেকে অনেকটা উঁচুতে এই মসজিদ অবস্থিত। ২৫টি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে মসজিদে পৌঁছাতে হয়।
তারা মসজিদ :
ছবি : পিন্টারেস্ট
ঊনিশ শতকের প্রথম দিকে তারা মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৩৪ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৯৮ মিটার। মির্জা ঘুলাম পীর এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন প্রথম, যখন মসজিদে তিনটি গম্বুজ ছিল। পরে পুনরায় আলিজান বেপারী নামের একজন বণিক সুন্দর রং ও নকশা করে পুণঃসংস্করণ করেন। তিনি নতুন বারান্দা তৈরি করেন, জাপান ও অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকে টাইলস নিয়ে এসে মসজিদটি আরও সুন্দর করে তোলেন। এখন এখানে ৫টি গম্বুজ রয়েছে। ১৯৮৭ সালে আরো দুইটি গম্বুজ সংযুক্ত করা হয়েছিল।