মারায়ন তং পাহাড় : বান্দরবানের স্বর্গরাজ্য নামে অভিহিত রোমাঞ্চকর পাহাড়

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সম্প্রতি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই স্থান

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল সম্প্রতি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এই স্থান

ক্যাম্পিং-এর জন্য প্রসিদ্ধ ছবি : কালের কন্ঠ

 বান্দরবান জেলার আলিকদম উপজেলার মিরিঞ্জা রেঞ্জে অবস্থিত মারায়ন তং পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৬৪০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়টি আবার কারও কাছে মেরাই থং জাদি, মারাইং ডং বা মারায়ান তং সহ আরও অনেক নামে পরিচিত। অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের কাছে রোমাঞ্চকর এই পাহাড়টিতে একরাত ক্যাম্পিং ও করে আসার সুযোগ রয়েছে। মারায়ন তং পাহাড় যেন এক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে আপনাকে প্রায় ঘন্টা দুয়েক পায়ে পথ চলতে হবে। এক্ষেত্রে সৌন্দর্যের কাছে আপনার ক্লান্তি পরাজিত হবেই। যত উপরে উঠতে থাকবেন ততই যেন মুগ্ধতা আপনাকে গ্রাস করবে। পাহাড়ি ঢালের আঁকাবাকা পথ বেয়ে  চলতে চোখে পরবে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকা সবুজময় পাহাড়, আর সাপের মতো পাহাড়ের ঢালে বেয়ে চলা স্বচ্ছ মাতামুহুরি নদী। চলতে চলতে শুনতে পারেন পাহাড়ি  ঝিঁঝি পোকার ঝিরিঝিরি ডাক, অথবা পাখির কিচিরমিচির শব্দ।

ছবি : গো হলিডেজ ডট কম

 মারায়ন তং পাহাড়ের ভাঁজে  ভাঁজে  রয়েছে মুরং দের পাড়া। পাহাড়ের নিচের অংশে জায়গা করে নিয়েছে মারমা আদিবাসি গোষ্ঠী ।এছাড়াও দেখতে পাবেন ত্রিপুরা আদিবাসী গোষ্ঠী। এমনি পুরো পাহাড়ের আনাচে-কানাচে দেখতে পাবেন আদিবাসীদের বসবাস। মাটি থেকে কিছুটা উপরে মাচা করে ঘর বানায় আদিবাসিরা। ঘরের নিচে নিজেদের জীবন ধারনের জন্য পালন করে গরু, ছাগল, শূকর, মুরগিসহ অনেক বন্য পশু। পথ চলতে গিয়ে আদিবাসিদের জীবনধারা সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালিরাও নিজেদের জীবিকা উপার্জনে পাহাড়ে আসেন মুলি বাঁশ সংগ্রহের করতে। এসব কিছু যেন মারায়ন তং পাহাড়ের একটি অংশ। পাহাড়ের এই অংশটাতে দেখতে পাবেন তামাকের চাষ। মুলত পাহাড়ি আদিবাসি বা বাঙ্গালিরা নিজেদের উপার্জনের জন্য তামাক চাষ করে থাকেন।

সবুজের বুকে এক অনন্য রুপ মারায়ন তং পাহাড়ে।  ছবি : লোকাল গাইডস কানেক্ট

 পাহাড় বেয়ে যত উপরে উঠবেন মনে হবে মেঘ যেন আপনার কাছে ধরা দিচ্ছে। পাহাড়ের গায়ের গন্ধ মেশানো ঠান্ডা বাতাস  মনকে সতেজ করবে অবশ্যই। পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে একটি বৌদ্ধ  উপাসনালয়। বৌদ্ধ  ধর্মালম্বীদের নিকট স্থানটি খুব পবিত্র। পাহাড়ের চূড়াটি সমতল। পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে দেখা সূর্যোদয় কিংবা সূর্যোস্ত হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অনুভূতি। রাতের মারায়ন তং পাহাড়  ধারন করে এক অন্য রুপ! ক্যাম্পিং-এ  রাতের পাহাড়ের স্নিগ্ধতা, রাতের আকাশে মিটিমিটি তারা, চাঁদ কিংবা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারেন আপনিও। যেহেতু পাহাড়ে পানি পাওয়াটা সম্ভব নয় তাই পাহাড়ে ওঠার আগেই প্রয়োজনীয় পানি এবং খাবার সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে নেয়াই শ্রেয়। ক্যাম্পিং-এর জন্য দরকারি প্যাকিং সাথে নিতে ভুলবেন না! পাহাড়ের চূড়ায় রাতের খাবার হিসেবে করতে পারেন বারবিকিউ, খিচুড়ি বা আপনার সাধ্যমতো ব্যবস্থা।

এভাবেই ক্যাম্পিং করে থাকতে পারবেন নয়নাভিরাম এই পাহাড়চূড়ায় এভাবেই ক্যাম্পিং করে থাকতে পারবেন নয়নাভিরাম এই পাহাড় চূড়ায়। ছবি : গ্রিন বেল্ট

 যেভাবে যাবেন এবং যেখানে থাকবেন: ঢাকা থেকে বান্দরবানের আলিকদমগামী সরাসরি বাস সার্ভিস রয়েছে। এই রুটে কোনো এসি বাস চলাচল করে না। নন-এসি বাসের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ ইত্যাদি। জনপ্রতি টিকিট ভাড়া পরবে ৮০০-৯০০ টাকা। আলিকদম বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছার পূর্বেই আপনাকে নেমে যেতে হবে আলিকদম আবাসিকে। সেখান থেকে মারায়ন তং পাহাড়ের রাস্তা ধরে হেঁটে যেতে হবে পাহাড়ের  উদ্দেশ্যে। পাহাড়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২ ঘন্টা বা তারও বেশি। এছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে চকোরিয়া নেমে জিপে আলিকদম পৌঁছাতে পারেন খুব সহজেই। মারায়ন তং পাহাড়ে মুলত পর্যটক ক্যাম্পিং করতেই যায়। তবুও আলিকদমে থাকার জন্য পাবেন আপনার সাধ্য অনুযায়ী আবাসিক হোটেল।

ভ্রমণ পরামর্শ এবং সতর্কতা :

  •  যেহেতু পাহাড়ে পানি পাওয়াটা অসম্ভব তাই প্রয়োজনীয় পানি, শুকনা খাবার সাথে রাখুন।
  • পাহাড়ের পথ পাড়ি দিতে সাবধানতা অবলম্বন  করুন। বৃষ্টি মৌসুমে পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল হয় এক্ষেত্রে মৌসুম বিবেচনা করে ভ্রমন সময় নির্ধারণ করুন।
  • ক্যাম্পিং করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাথে নিন এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে ভুলবেন না।
  • আদিবাসিদের সাথে ভালো আচরণ করুন এবং ছবি তুলতে চাইলে অবশ্যই অনুমতি সাপেক্ষে তুলুন।
  • মারায়ন তং পাহাড়ের চূড়ায় যেহেতু ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে তাই সেখানে নিজের ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে।
  • চাইলে সাথে গাইড রাখতে পারেন।