মিশরের ঐতিহাসিক খুফু পিরামিড ভ্রমণ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : খুফু পিরামিড


আইফেল টাওয়ারের আগে এটাই ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ মানবসৃষ্ট স্থাপত্য

খুফু পিরামিড

খুফু পিরামিড, মিশর। ছবি : ব্রিটানিকা


পিরামিডের দেশ। এই শব্দ দুটি শুনলেই আমাদের যেন একটি দেশের নাম মনে চলে আসে। মিশর। নীলনদের তীরে অবস্থিত এই দেশ প্রাচীন ইতিহাসে সমৃদ্ধ। মূলত এই প্রাচীন ইতিহাস এবং স্থাপনা যুগ যুগ ধরে অসংখ্য ভ্রমন পিপাসু এবং ইতিহাসবিদদের মনে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। রহস্যে আবৃত পিরামিড আপনার মিশর ভ্রমণের অন্যতম এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে ।

ইতিহাস

পিরামিড ত্রিভুজাকার জ্যামিতিক আকৃতি যা বহুভুজাকার ভুমির ওপর দাড়িয়ে আছে। পুরো মিশরে প্রায় ১৩৮টি পিরামিড রয়েছে। তবে, সবচেয়ে বড় এবং প্রাচীন পিরামিড হচ্ছে গীজার খুফুর পিরামিড। এটি প্রাচীন সপ্তাশ্চার্যেরও একটি। খ্রিস্টপূর্ব ২ হাজার ৫৬০ সালে ফারাও রাজা খুফু এই পিরামিড নির্মান করেন। তার নামানুসারেই একে খুফুর পিরামিড বলা হয়।


খুফু পিরামিড

খুফু পিরামিড, মিশর। ছবি : সংগৃহীত


 এটি নির্মানে বড় বড় পাথড়ের ২৩ লাখ চাইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল যেগুলোর এক-একটির ওজন ছিল ২ থেকে ১৫ টন। পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছে পাথরের সাথে পাথর জোড়া দিয়ে যেখানে এক অংশও ফাকা নেই। আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে এর নির্মানশৈলি এখনও এক অজানা রহস্য। কারন, কেও জানে না বিশাল এই পাথর গুলো কীভাবে কয়েকশো ফুট উপরে তোলা হয়েছিল আর কীভাবেই বা পাথরগুলো এতো মসৃন ভাবে কাটা হয়েছিলো। গ্রিক দার্শনিক হেরাডোটাস এর মতবাদ অনুযায়ী পিরামিড নির্মানে ১ লাখ লোকের ২০ বছর শ্রম দিতে হয়েছিলো! অপার এক বিস্ময়ের সাক্ষী হয়ে পিরামিড গুলি যুগ যুগ ধরে দড়িয়ে আছে।


খুফু পিরামিড, মিশর

খুফু পিরামিড, মিশর। ছবি : আইবি টাইমস


খুফুর পিরামিডে কি কি আছে

খুফুর পিরামিডের অভ্যন্তরে তিনটি কক্ষ রয়েছে। দুটি রাজা ও রানির সমাধি কক্ষ এবং অন্যটি ধারণা করা হয়ে থাকে যে, পরজগতে প্রজারা ফেরাউনের সাথে দেখা করতে এলে এখানে বসবে। এই কক্ষ গুলোতে প্রবেশের জন্য বেশ কিছু গোলক ধাধার মাঝে দিয়ে যেতে হতো। সমাধিগুলোতে নানা ধরনের প্রতীক, ছবি, নতুন জীবনের সব উপাদান দেয়া থাকত। রুমগুলোর একদম কেন্দ্রে ছিলো স্বর্ণমন্ডিত ফারাও রাজার শবাদার। এই বৃহৎ পিরামিডের সামনে স্ফিংস নামক এক মূর্তি আছে। এর মাথা মানুষের এবং দেহ সিংহের। এটির উচ্চতা প্রায় ৬৬ ফুট।


খুফু পিরামিড, মিশর

খুফু পিরামিড, মিশর। ছবি : সংগৃহীত



মজার কিছু তথ্য

এই পিরামিড নিয়ে বেশ কিছু মজার ব্যাপার রয়েছে। তার মাঝে একটি হচ্ছে, ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় চার হাজার চারশত বছর এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উচু স্থাপনা। আইফেল টাওয়ার নির্মানের পর পিরামিড তার গৌরব হারায়। পূর্বে খুফুর পিরমিডের শীর্ষে যাওয়ার অনুমতি থাকেলেও এখন আর সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পর্যটক এবং পিরামিড উভয়ের জন্যই এটি বিপদজনক।  খুফুর পিরামিডের সাথেই অন্য দুটো পিরামিড হচ্ছে খাফরে এবং মেনকৌরের পিরামিড। কিন্ত উচ্চতা এবং বিশালত্ত্বের দিক দিয়ে খুফুর পিরামিড সেরা।


মিশর

খুফু পিরামিড, মিশর। ছবি : সংগৃহীত


  প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত ফারাও রাজারা তাদের দেবতা। মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী জীবনের জন্য মমিকৃত মৃতদেহের সাথে প্রচুর পরিমানে ধন সম্পদ এবং দাস-দাসীদের সমাধি দেয়া হতো যাতে পরবর্তী জীবনে সেবা-যত্নের কোন অভাব না হয়। আর তাদের এই সমাধির নিরাপত্তার জন্যই এর উপর গড়ে তোলা হতো এই পিরামিড আকৃতির কাঠামো। খুফুর পিরামিডটি প্রায় ৪৮১ ফুট উচু। গিজা কিংবা কায়রো থেকে অনেক দূরে গেলেও একে দেখা যায় সগৌরবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যেন এর অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।  

খালিদ বিন জামান   এস এম