মেঘালয়-শিলং ভ্রমণ : একসাথে দেখুন প্রকৃতির চমৎকার সব দৃশ্য
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শিলংয়ের অমায়িক রুপ এবং কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য
শিলং-এর অন্যতম আকর্ষণ চেরাপুন্জি। ছবি : ভ্রমণ গাইড
ডাউকি বাজার থেকে শিলং যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা থেকে চার ঘন্টা। যেতে যেতে সন্ধ্যা পার হয়ে রাত হয়ে যাবে। তবে ডাউকি থেকে একটু আগেই রওনা দেয়া ভালো নাহলে শিলং দেরিতে পৌঁছলে হোটেল পেতে সমস্যা হতে পারে। গাড়ি আপনাকে নামিয়ে দিবে পুলিশ বাজার বা শিলং-এর সেন্টার পয়েন্টে। গাড়ি থেকে নেমে দেরি না করে হোটেল খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের হোটেল দিতে চায় না অনেক হোটেল। সেক্ষেত্রে পছন্দমতো হোটেল অনেক সময় নাও পেতে পারেন। এরকম পরিস্থিতিতে আপনার জন্য সেরা হোটেল হলো মেঘা স্টে ইন। পুলিশ বাজার বা সেন্টার পয়েন্ট থেকে নিচের দিকে একটা রাস্তা নেমে গেছে। সেই রাস্তায় পাবেন এই হোটেলটি। মোটামুটি কম খরচে থাকতে পারবেন এখানে।
সীমিত খরচে থাকতে পারবেন শিলং-এর বিভিন্ন হোটেলে। ছবি : ট্রিপএডভাইজর
হোটেলে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে পরুন। চাইলে আশেপাশের কোন হোটেলে খেতে পারেন কিংবা সেন্টার পয়েন্টজুড়ে বসা বিশাল স্ট্রিট ফুডের পসরা থেকেই ডিনার সেরে নিতে পারেন। নুডলস, আলুর দম-লুচি, মম, মাংসের বেশ কিছু আইটেমসহ অনেক ধরণের খাবার পাওয়া যায় এখানে। দামও অনেক কম। রাতে এই রাস্তার পাশ দিয়ে ছোট ছোট কিছু অস্থায়ী দোকান বসে। এখান থেকে অনেক কম দামে জ্যাকেট, চাদরসহ নানান প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন।
রাতে শিলং-এর ফাঁকা রাস্তাঘাটে ঘুরতে পারেন। খুবই ভালো লাগবে। রাতে বেশি দেরি না করে আগে আগে শুয়ে পরুন। সকালে একটু দ্রুত বের হয়ে পরুন। রাতে যেই এলাকা ফাঁকা দেখেছেন সেখানে দেখবেন প্রচুর ভিড়। প্রচুর ট্যাক্সি, প্রাইভেট কারের আনাগোনা। এখান থেকে দামাদামি করে ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে নিন কোথায় কোথায় ঘুরবেন। এরা ভাড়া অনেক চাইবে আপনাকেও তাই সেভাবে দামাদামি করতে হবে। কোথায় কোথায় যাবেন ও কতক্ষণ থাকবেন তা আগেই কথা বলে নিন।
ভাড়া করা হয়ে গেলে নাস্তা করতে চলে যান আর ড্রাইভারকে জানিয়ে যান আপনাদের কখন পিক করবে। এক্ষেত্রে আপনার অপশন দুটি হতে পারে। আপনি কয়েকটি স্পট ঘুরে সেদিনই ডাউকি চলে আসতে পারেন অথবা সেদিন কিছু স্পট ঘুরে শিলং এসে অবস্থান করে পরদিন আরও কিছু স্পট ঘুরে এরপর ফেরত আসতে পারেন। তবে অন্তত দুইদিন না ঘুরলে অনেক ভালো ভালো স্পট মিস হয়ে যাবে।
সেভেন সিস্টারস ফলস। ছবি : হ্যালো ট্রাভেল
নাস্তা করে দেরি না করে বের হয়ে পরুন। এক দিনে বেশি সময় নষ্ট না করে ঘুরলে চেরাপুঞ্জি ভালো মত ঘুরে ফেল সম্ভব। নোহকালিকাই ফলস, ইকোপার্ক, সেভেন সিস্টারস ফলস, মৌসমাই কেভ, আরওয়াহ কেভ, ডেইন্ঠেলেন ফলস, ওয়াকাবা ফলস এগুলো হল দেখার মত স্থান। সব হয়তো ঘুরে কুলানো নাও যেতে পারে। তবে ড্রাইভার ভালো হলে ও আগে থেকে আপনাদের পরিকল্পনা ঠিকঠাক থাকলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশিরভাগ স্পটই ঘুরে দেখতে পারবেন। এসব স্পটের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সারাদিন ভ্রমণের পর সন্ধ্যায় ফিরে আসুন শিলং শহরে। আগের রাতের মতই ডিনার করে শুয়ে পরুন। চাইলে আগেরদিনের ট্যাক্সিকেও পরেরদিনের জন্য বলে রাখতে পারেন। এইদিন যেহেতু আপনার ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা তাই নাস্তা করে যদি কেনাকাটা করতে চান তাহলে দ্রুত বের হয়ে পরুন। শিলং-এর দোকানপাট রবিবার ছাড়া অন্যদিন বেশ সকাল-সকালই খুলে যায়। তাই প্রয়োজনীয় শপিং শেষে ১১টার মধ্যেই বের হয়ে যান হোটেল থেকে।
যাওয়ার পথে এলিফ্যান্ট ফলস, লাইটলুম গ্রান্ড ক্যানিয়ন এই দুটি স্পট ঘুরে দেখতে পারেন। তবে বর্ডার যেহেতু ৫টার দিকে বন্ধ হয়ে যায় তাই সেভাবে সময় মাথায় রেখে ঘুরবেন। বেশি দেরি করলে বর্ডার পার হতে সমস্যায় পড়বেন।
আকাশ পাড়ি দিয়ে মেঘের দেশে, লাইটলুম গ্রান্ড ক্যানিয়ন। ছবি : সেভেন ডায়েরি
চকলেট বা এই জাতীয় টুকিটাকি জিনিসের জন্য ডাউকি বাজার ভালো। শিলং থেকে দামও বেশ কম এখানে। তাই ছোটখাটো জিনিস ডাউকি বাজার থেকেই নিতে পারেন।
যদি আগে আগে ডাউকি বাজার পৌঁছে যান ও বর্ডার পার হওয়ার সময় থাকে তাহলে এখান থেকেও শপিং করে নিতে পারেন। এরপর ইন্ডিয়ান ও বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন পার হয়ে সিলেটগামী বাসে চড়ে বসুন। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের দুর্নাম হয়।