মেঘালয়-শিলং ভ্রমণের ক্ষেত্রে উপভোগ করেুন মেঘ-বৃষ্টি, পাহাড়-ঝরনা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : কম খরচে ঘুরে আসুন থেকে ভারতের মেঘালয়-শিলং থেকে

মেঘালয়ে দেখা মিলবে প্রকৃতির রহস্যময়ী স্নিগ্ধ রুপ। ছবি : ভ্রমণ গাইড

বাংলাদেশ থেকে ভারতের যে অংশগুলো সহজেই দেখা যায় তার একটি হলো মেঘালয়। সিলেটের দার্জিলিং-এ গেলেই দূরে যেই ব্রিজটা দেখা যায় সেটাই ভারতের মেঘালয়। মেঘালয় যেমন বাংলাদেশ থেকে কাছে তেমনই অনেক কম খরচে ঘুরে আসা যায় মেঘালয় সেইসাথে ২-১ দিন যোগ করে শিলং ঘুরে আসতেও পারবেন। মেঘালয় ঘুরার সেরা সময় বর্ষাকালের শেষ সময়ে। বর্ষায় প্রচন্ড বৃষ্টি হয় ফলে ঝরনাগুলো হয়ে ওঠে ভয়ংকর তাই কাছ থেকে দেখা যায় না। বর্ষার শেষদিকে বৃষ্টি কমে আসলে ঝরনায় পানি থাকে কিন্তু ঝরনা উত্তাল না থাকায় একদম কাছ থেকে ঝরনা ঘুরে দেখা যায়। আমাদের আজকের লেখা এই মেঘালয় নিয়েই। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা প্লেন যেকোনো উপায়ে প্রথমে আপনাকে যেতে হবে সিলেট। যেহেতু আমাদের এই লেখা লো বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য তাই সেরকম প্ল্যানই দেয়া হবে। রাত ১০টার সিলেটগামী ট্রেনে উঠে পড়তে পারেন।

ভোর ৫টার দিকে নামিয়ে দিবে সিলেটে। এছাড়াও মেইল ট্রেনে যেতে পারেন সেক্ষেত্রে সিলেট নামবেন আরও পরে। রাতের বাসেও চলে যেতে পারেন। সিলেট নেমে জাফলং বা তামাবিলগামী বাসে উঠবেন। ঘন্টা দুয়েক পরে বাস নামিয়ে দিবে তামাবিল বর্ডারের কাছে রাস্তায়। সেখান থেকে হাঁটাপথে ৮-১০ মিনিট লাগবে বর্ডারের কাছে। বর্ডার খুলতে খুলতে ৯টা বাজবে। এরমধ্যে সেখানকার দোকান থেকে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিতে পারেন। তামাবিল বর্ডারে ভিড় খুব বেশি হয় না। তাও সকাল সকাল বর্ডারের কাজ শেষ করে ফেলা ভালো। চাইলে আগে থেকেই ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে আসতে পারেন বা এখানে এসেও দিতে পারেন। বাংলাদেশ বর্ডারের ফর্মালিটিজ শেষ করে সীমানা পার হয়ে কিছুদূর হাটলে ভারতীয় চেকপোস্ট। সেখানে ফর্ম ফিলাপ করে ডাউকি বাজারের দিকে যাত্রা শুরু।

যাত্রার সময় ভারতীয় চেকপোস্টের সকল নির্দেশনা মেনে চলুন। ছবি : বিডি নিউজ ২৪ ডট কম

২০-২৫ মিনিট হাঁটলে ডাউকি বাজার পাবেন। এখান থেকে টাকা রুপিতে ভাঙিয়ে নিতে পারেন। এখানে ডলার ভাঙানো বেশ কঠিন তাই টাকা নিয়ে যাওয়াই নিরাপদ। একটু খোঁজখবর করে যেখানে রেট ভালো পাবেন সেখান থেকে ভাঙিয়ে নিন। এবার ডাউকি বাজার থেকে আপনাদের টিমের লোকসংখ্যা অনুযায়ী প্রাইভেট কার অথবা জিপ ভাড়া করে নিন। ৪ জন বা ৮ জন ট্যুরমেট হলে মেঘালয় ঘুরতে বেশ সুবিধা হয়। অবশ্যই এমএল (ML) লেখা গাড়িগুলো নিবেন কারণ সেগুলো মেঘালয়ের গাড়ি তাই ভাড়া কম হয়। ডাউকি বাজার থেকে গাড়ি নিয়ে নিবেন সারাদিনের জন্য। অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন। গাড়ির সাথে চুক্তি করে নিবেন কোথায় কোথায় ঘুরবে ও কোথায় ড্রপ করবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্পটে আপনি ঘুরতে গেলে গাড়ি অপেক্ষা করবে তাও আগে থেকে জানিয়ে নিবেন তাহলে ওয়েটিং চার্জ করবে না।

বড়হিল ফলস যার অন্য নাম পানথুমাই। ছবি : আদার ব্যাপারী

প্রথমেই বড়হিল ফলস (আমাদের দেশে যেটা পান্থুমাই নামে পরিচিত) সেই সাথে আশেপাশের আরও দুয়েকটি ফলস দেখে নিন। ঝরনায় পানি থাকলে একরকম সৌন্দর্য আর পানি না থাকলে রুক্ষ পাথরের আরেক সৌন্দর্য। শুকনো পাথর দিয়ে ঝরনার বয়ে যাওয়ার পথ দিয়ে নিচে নামতে পারবেন কিন্তু সাবধান থাকবেন কারণ পিচ্ছিল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ঝরনা ঘুরে চলে আসুন মাওলিননং। পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম এটি। গ্রামের সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে বেশ কিছু হোম স্টে আছে। চাইলে সেখানে থাকতেও পারেন যদিও খরচ তুলনামূলক বেশি। দুপুরের খাবার এখানে খেয়ে নিয়ে রওনা দিন লিভিং রুট ব্রিজের দিকে। গাড়ি থেকে নেমে বেশ খানিকটা হাঁটা পথ। প্রকৃতির এক অবাক করা সৃষ্টি এটা। সেইসাথে নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখান থেকে বেশ খানিকটা হাঁটাপথ ধরে বাংলাদেশ ভিউ পয়েন্ট। সেখান থেকে বাংলাদেশের সিলেটের কিছু অংশ দেখা যায়। এই স্থানে যাওয়া-আসা কিছুটা পরিশ্রমের কাজ।

পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিননং। ছবি : স্ক্রল ডট ইন

এসব দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। ফিরে আসুন গাড়িতে। এবার যাত্রা গন্তব্যে। সারাদিনের পরিশ্রমে শরীর নিশ্চয় ক্লান্ত। কিন্তু রাতে যেখানে থাকবেন তা আপনার সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিবে।

মাওলিননং-এর শিকড় ব্রিজ। ছবি : দ্যা ইকোনমিক টাইমস


মেঘালয়ে রাতে অবস্থান ও দ্বিতীয় দিনের ট্যুর প্ল্যান পাবেন আমাদের ২য় পর্বের লেখায়। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের দেশের দুর্নাম হয়।