রহস্যেঘেরা পৃথিবীর যত ভয়ঙ্কর দ্বীপ
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : শরীরে কাঁপন ধরানো একেকটা দ্বীপ

পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মোহিত করলেও রয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। তা স্বত্তেও মানুষ ভ্রমণ করতে চায়, রোমাঞ্চের স্বাদ গ্রহণ করতে চায়। আর সেটাই কারো কারো জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কেউ হয়তো জীবনের মহামূল্যবান কিছু হারিয়ে আসে, আবার কেউ কেউ জীবনটাই হারিয়ে ফেলে। সেসব ভয়ঙ্কর দ্বীপগুলো নিয়েই কথা বলছি যেখানে ঘুরতে যাওয়ার আগে আপনাকে ভাবতে হবে হাজারবার।
১. ইলা দে কুইমাদা গ্রান্দে, ব্রাজিল :

এই দ্বীপে কয়েক প্রজাতির সাপ বাস করে। গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার্স, বিশ্বের অন্যতম বিষধর প্রজাতির সাপই যার মধ্যে বেশী পাওয়া যায়।
স্নেক আইল্যান্ডের সাপগুলো অন্যান্য সাপের চেয়ে পাঁচগুণ বেশী বিষধর হয়ে থাকে। শুধুমাত্র ব্রাজিলিয়ান নেভিদেরই এই দ্বীপটিতে যাওয়ার অনুমতি আছে। কথিত আছে, বহুকাল আগে এই দ্বীপে একটি বাতিঘর বানানো হয়। যেখানে একজন ব্রাজিলিয়ান নেভি সপরিবারে থাকতেন। সাপের দংশনে পুরো পরিবারটি মারা যায়। তারপর থেকে জনসাধরাণের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় দ্বীপটি।

জাপানের ইজু দ্বীপপুঞ্জগুলোতে অবস্থিত মিয়াকেজিমা দ্বীপটির বৈশিষ্ট্যটি হল সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। মাউন্ট ওয়ামা নামের আগ্নেয়গিরিটি বিগত ৫০০ বছরে ১৩ বার বিস্ফোরিত হয়েছে। ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের ফলস্বরূপ ১৭,৫০০ বার ভূমিকম্প হয়েছে দ্বীপটিতে। সর্বশেষ বিস্ফোরণের পরে, ২০০৫ সালে, আগ্নেয়গিরি থেকে ক্রমাগত বিষাক্ত গ্যাস বের হচ্ছে, যার ফলে বাসিন্দাদের সর্বদা গ্যাস মাস্ক ব্যবহার করতে হয়।

৪. বিকিনি এটোল, মার্শাল আইল্যান্ড :
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ মতে এই দ্বীপরি দুটি কারণে বিপজ্জনক: পারমাণবিক বিকিরণ এবং হাঙ্গর। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে ২০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার স্থান ছিল এটি। ১৯৯৭ সালে এই দ্বীপকে 'নিরাপদ' হিসাবে ঘোষণা করা হলেও - আদি বাসিন্দাদের অনেকেই ফিরে আসতে অস্বীকার করেছিল। বিস্ফোরণের কারণে জায়গাটি এতটাই বিষাক্ত যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
৫. গ্রুইনার্ড আইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড :
স্কটল্যান্ডের উত্তরদিকে অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হয়েছিলো ব্রিটিশ সরকারের জৈবিক যুদ্ধ পরীক্ষার জন্য। অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের প্রতিষেধক পরীক্ষণের জন্য দ্বীপটি ব্যবহার করা হয়। জনশূন্য দ্বীপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর ফলে শত শত ভেড়া মারা গিয়েছিল।
পরবর্তীতে দ্বীপটিতে জনমানব প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। আশির দশকে এই দ্বীপটিকে পুনরুদ্ধার করা হয়। শত শত টন ফর্মালডিহাইড ব্যবহার করা হয়-যা দ্বীপটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ তুলে।
৬. ফারাল্লন আইল্যান্ড, ইউএসএ :
১৯৪৬ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে স্যানফ্রান্সিসকো উপকূলে ফারালন দ্বীপপুঞ্জের চারপাশের সমুদ্রকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যে ফেলার জায়গা হিসাবে ব্যবহৃত হত। আনুমানিক ৪,৭৫,০০৫০ গ্যালন (প্রায় ২৮০ লিটার) ইস্পাত ড্রামগুলো এখানে ফেলে দেয়া হয়েছিল তবে তাদের সঠিক অবস্থান এবং তা পরিবেশের ঠিক কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

৭. রামরি আইল্যান্ড, মিয়ানমার :
মায়ানমারের উপকূলে অবস্থিত এই দ্বীপটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হয়ে রয়েছে। ১৯৪৫ সালে, ব্রিটিশ এবং জাপানি সেনাদের মধ্যে লড়াইয়ের পরে, আনুমানিক ৪০০ জন জাপানী সৈন্যকে দ্বীপটির আশেপাশের জলাভূমিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিলো। আর সেখানে ছিলো লবণাক্ত জলের কুমিরের বিশাল গোষ্ঠীর বাস। গিনেস বুক অফ রেকর্ডস অনুসারে, ঘটনাটি হল প্রাণী আঘাতে দ্বারা বিশ্বের ভয়ানক মৃত্যু।
