ভোজনরসিক বাঙ্গালি : কোলকাতার সেরা ১০ রেস্তোরাঁ

কোলকাতা মহানগরীকে বলা হয় ‘সিটি অফ জয়




ছবি : সংগৃহীত



বাঙ্গালি মানেই আরামপ্রিয় এবং ভোজনরসিক, সেই আদি আমল থেকে শুরু করে বাঙ্গালির খাবারেও একটা বাঙ্গালিয়ানা চলে এসেছে। ভ্রমণপ্রিয় বাঙ্গালিরা যেখানেই যায় সেখানকার সেরা, ঐতিহ্যবাহী খাবার না খেলে যেন পূর্ণতাই আসে না। ১৯৪৭ দেশভাগ করে দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করতে পারলেও বাঙ্গালির এই ভোজন সংস্কৃতি আলাদা করতে পারেনি। দুই বাংলার খাবারের স্বাদেও তাই মিল পাওয়া যায়। ভারতের কোলকাতা মহানগরীকে বলা হয় ‘সিটি অফ জয়’। এই শহরটিতে একাধারে বহু মানুষের বাস, তেমনই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য বাঙালি রেস্তোরাঁ। বাংলাদেশের যেসব ভ্রমণপ্রেমীরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে ভ্রমণে যায়, তাদের সিংহভাগ যায় ভারতে।

ভারতে যাওয়ার অধিকাংশই যায় কোলকাতায়। কেউ বা কাজে, কেউ আবার স্বজনদের কাছে যায়, নয়তো ঘুরতে কিংবা চিকিৎসা করাতে। কারন যাই হোক, কোলকাতা গেলে এসব বাঙ্গালি রেস্তোরাঁয় একবার ঘুরে আসা উচিৎ, চেখে দেয়া উচিৎ সেখানকার বিখ্যাত সব খাবার। ভোজন রসিকদের জন্যেই আজকের এই লেখা। কোলকাতা শহরের এসব বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় প্রতিনিয়ত মানুষ বাঙালি খাবার খেতে যায়। কখনও অফিস টাইমের লাঞ্চে, আবার কখনও বা দরকারে। তাহলে চলুনন জেনে নিই কোলকাতার মধ্যে এমনই কিছু সেরা বাঙালি রেস্তোরাঁর নাম।

ভজহরি মান্না

কোলকাতা শহরের প্রথমেই যে রেস্তোরাঁর কথা শোনা যায়, তা হলো ‘ভজহরি মান্না’র কথা। এই রেস্তোরাঁর নাম শুনলেই মনে পরে যায় বিখ্যাত গায়ক মান্না দে’র গান ‘আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না’। এটি কলকাতার সেরা বাঙালি হোটেলের মধ্যে অন্যতম একটি হোটেল।

যেভাবে যাবেন : ১৮/১ এ, হিন্দুস্থান রোড, গড়িয়াহাট, কোলকাতা। এছাড়াও হাজরা, কালিয়া রোড, সল্ট লেক সেক্টর ১, স্টার থিয়েটার (হাতিবাগান), কসরা-রুবি এবং এসপ্ল্যানেডেও রয়েছে।

বিশেষ আকর্ষণ : নারকেলের শাঁস, দুধ এবং সর্ষে দিয়ে তৈরি ডাব চিংড়ি এবং খাসির কষা মাংস।

খরচ : দুজনের জন্য প্রায় ১০০০ টাকা।

সপ্তপদী

ভারতীয় বাংলা সিনেমার কালজয়ী জুটি উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সপ্তপদী’ চলচ্চিত্রের নাম অনুযায়ী এই রেস্তোরাঁর নাম রাখা হয়েছে ‘সপ্তপদী’। বাঙ্গালি খাবারের সাথে এখানে পাওয়া যাবে পুরনো দিনের অভিনেতা অভিনেত্রীদের নানান ছবি এবং সাথে পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করা পুরনো গান।

যেভাবে যাবেন : ৪৯ বি, পূর্ণ দাস রোড, হিন্দুস্থান পার্ক, কোলকাতা এবং জি ৪০ এ বাঘা যতীন, গাঙ্গুলি বাগান পোস্ট অফিস এর কাছে।

বিশেষ আকর্ষণ : কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মাংসের ঝোল।

খরচ : দুজনের জন্য প্রায় ১০০০ টাকা।

কস্তুরি

কোলকাতায় প্রথম যে রেস্তোরাঁর হাত ধরেই ঢাকাই বাংলাদেশী খাবারের প্রচলন ঘটে, তা হলো কস্তুরি। ঢাকায় একাধিক স্থানে এই রেস্তরাঁর দেখা মিলবে, এবার কোলকাতাতেও সেই পরিচিত নামের রেস্তোরাঁ পেয়ে যাবেন উদরপুর্তির জন্যে।

যেভাবে যাবেন : ৭এ, মুস্তাক আহমেদ স্ট্রীট, নিউ মার্কেট কোলকাতা, ১১/এ, ডোভার লেন, হিন্দুস্থান রোড, কলকাতা। যাদবপুর, বালিগঞ্জ এবং নাগেরবাজারেও শাখা রয়েছে।

বিশেষ আকর্ষণ : ভাপা চিংড়ি কচু পাতায় মোড়ানো।

খরচ : দুজনের জন্য প্রায় ৬০০ টাকা।

বোহেমিয়ান

কোলকাতা শহরের বালিগঞ্জের এই রেস্তোরাঁয় পাবেন বাঙালি খাবারের সাথে সাথে অবাঙালি খাবারও। নিরামিষ-আমিষ খাবারের আমেজও পাবেন।

যেভাবে যাবেন : ৩২/৪ ওল্ড বালিগঞ্জ প্রথম লেন, কলকাতা।

বিশেষ আকর্ষণ : রয়্যাল বেঙ্গল মটন রোস্ট।

খরচ : দুজনের জন্য প্রায় ২০০০ টাকা।

লোকাহার

ভারতের প্রাণের শহরে সম্প্রতি গড়ে ওঠা একটি রেস্টুরেন্ট। এটি রেস্তোরাঁর মালিকের নিজের বাড়ির নীচের অংশ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

যেভাবে যাবেন : ৫৩৩ যোধপুর পার্ক, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড।

বিশেষ আকর্ষণ : মটন ডাক, মোচা চিংড়ি, ধোঁকার ডালনা, পোস্ত বড়া।

খরচ : দুজনের খরচা প্রায় ৫০০ টাকা।

বাঙালির লাঞ্চ ইয়ং বেঙ্গল রেস্তোরাঁ

প্রায় ৮৭ বছর পুরনো এই রেস্তোরাঁটিতে বাঙালির ঘরে ঘরে যে সমস্ত খাবার তৈরি হয়, সেই সব খাবারই এখানে পাওয়া যায়। তবে তা ভিন্ন স্বাদের। কোলকাতায় গেলে এখানে তাই যাওয়া যেতেই পারে। যেভাবে যাবেন : ১৬/২, কার্ল মার্কস সরণী, খিদিরপুর, কোলকাতা।

বিশেষ আকর্ষণ : মাছের ঝোল ভাত, সবজি ভাত।

খরচ : দুজনের জন্য খরচ পড়বে ৪০০ টাকা।

আমিনিয়া রেস্তোরাঁ

কোলকাতার যে স্থানটিতে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি যাওয়া হয় তাহচ্ছে নিউ মার্কেট এলাকা। আর সেই এলাকার আমিনিয়া রেস্তোরাঁটি বিখ্যাত বিরিয়ানির জন্য। এখানকার বিরিয়ানির স্বাদ এমনই যে, এখানে শুধুমাত্র বিরিয়ানি খাবার লোভেই অনেক মানুষের আগমন ঘটে।

যেভাবে যাবেন : ৬ এ,এস এন ব্যানারজি রোড, নিউ মার্কেট এরিয়া, কোলকাতা।

বিশেষ আকর্ষণ : বিরিয়ানি এবং চিকেন রেজালা।

খরচ : একজনের জন্য ১০০০ টাকা।

গোলবাড়ি রেস্তোরাঁ

গোলবাড়ির নাম শুনলেই প্রত্যেক বাঙালির জিভে জল আসে। আসাটাই স্বাভাবিক। এখানকার খাবারের স্বাদ মানুষকে এখানে টেনে আনে।

যেভাবে যাবেন : ২১১, এ.পি.সি. রোড, শ্যাম বাজার, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড, ফরিয়া পুকুর, কলকাতা।

বিশেষ আকর্ষণ : মটন কষা এবং রুটি।

খরচ : দুজনের ৬০০ টাকা।

আরসালান

কোলকাতার বিখ্যাত এক এলাকা পার্ক স্ট্রিট, আর সেখানেই আরসালান হোটেলের প্রচুর শাখা আছে। এখানে সাধারণত পূজা অথবা রমজান মাসে বেশি ভিড় থাকে।

যেভাবে যাবেন : ১৯১, পার্ক স্ট্রিট, ৭ পয়েন্ট ক্রসিং এর কাছে, পার্ক সার্কাস এরিয়া, কোলকাতা।

বিশেষ আকর্ষণ : বিরিয়ানি এবং চিকেন রেজালা।

খরচ : দুজনের জন্য খরচ হবে ১০০০ টাকা

সিরাজ

বাঙ্গালির অত্যন্ত প্রিয় এক খাবারের নাম বিরিয়ানি। কোলকাতার সিরাজের বিরিয়ানি সেখানকার সেরা বিরিয়ানির একটা। এখানকার বিরিয়ানি যে খেয়েছে তিনি জানেন যে, এখানকার বিরিয়ানি কতটা সুস্বাদু।  

যেভাবে যাবেন : ১ম ক্রস রোড। ব্লক এইচ-এ, সেক্টর ৩, সল্ট লেক সিটি, কলকাতা, ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭০০০৩৯।

বিশেষ আকর্ষণঃ এখানকার বিরিয়ানি।

খরচঃ দুজনের জন্য ১০০০ টাকা।  

নাবিলা বুশরা   এস এম