কম বাজেটে লং ট্যুর দেয়ার উপায়

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : লং ট্যুর ম্যানেজমেন্টে করে ফেলুন সঠিক পরিকল্পনা

ছবি : ড্রিমটাইমস ডট কম

 সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্যুর হলো লং ট্যুর। দুই বা তিনদিনের বা ক্ষেত্রবিশেষে আরো বেশিদিনের ট্যুরকে লং ট্যুর বলে। বেশিরভাগ মানুষই সময় পেলে লং ট্যুর করে থাকেন। বাংলাদেশের বিখ্যাত জায়গাগুলো ঘুরার জন্য দুই/তিনদিনের লং ট্যুর বেশ আদর্শ। সিলেটের জাফলং, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, লালাখাল, রাতারগুল, সিলেট শহর কিংবা বান্দরবানের নীলগিরি, নীলাচল, স্বর্ণ মন্দির, মেঘলা, চিম্বুক, শৈলপ্রপাত এই স্থানগুলো ঘুরে দেখতে সাধারণত ২ দিন লাগে। অন্যদিকে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সাজেক, চট্টগ্রাম, নিঝুম দ্বীপ, বরিশাল ইত্যাদি বিখ্যাত স্থান মোটামুটি ঘুরে দেখতে ২/৩ দিন লাগে। যেহেতু লং ট্যুর ২/৩ দিনের হয় তাই ম্যানেজমেন্ট হয়তো একটু কষ্টসাধ্য হতে পারে। কিন্তু আগ থেকেই পরিকল্পনা করে গেলে বেশ সহজেই ম্যানেজ করা সম্ভব।

১। লং ট্যুরে কোথায় যাবেন ঠিক করার পর সেই স্থানের কোথায় কোথায় ঘুরবেন তা ঠিক করে ফেলুন। সব জায়গায় হয়তো ২/৩ দিনে ঘুরা সম্ভব হবে না। তবে ট্যুরের সময় বাড়ালে হয়তো করা যাবে।

২। এবার দেখুন যাতায়াতের বিষয়। বাজেট অনুযায়ী বাস, ট্রেন বা লঞ্চ ঠিক করুন। উড়োজাহাজে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যেই এলাকায় যাবেন তার আশেপাশের কোন এলাকায় এয়ারপোর্ট আছে তা জেনে নিন ও সেখান থেকে আপনার নির্ধারিত স্থানে কীভাবে যাবেন ঠিক করে নিন।

৩। আগে থেকেই থাকার হোটেল ঠিক করে ফেলতে পারলে ভালো। এতে ট্যুরে গিয়ে কষ্ট কম হবে। সেইসাথে হোটেলের সাথে কথা বলে বা নিজে আগে থেকে যোগাযোগ করে অভ্যন্তরীন যানবাহন ঠিক করে ফেলতে পারেন।

৪। ২/৩ দিনের ট্যুর হলে কোনদিন কোথায় কোথায় যাবেন তা ঠিক করে ফেলুন। এক্ষেত্রে অনলাইন থেকে তথ্য নিতে পারেন বা অভিজ্ঞ কারও সাথে পরামর্শ করতে পারেন। এমনভাবে পরিকল্পনা করুন যাতে ২/৩ দিনে সর্বোচ্চ পরিমাণ স্থান ঘুরতে পারেন।

৫। ছুটির দিনগুলোতে লং ট্যুর দিলে হোটেল ও যানবাহন পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যায় তাই ছুটির দিনে ট্যুর প্ল্যান করলে আগে থেকেই হোটেল বুকিং ও যানবাহনের টিকিট কেটে ফেলতে হবে।

৬। সাধারণত বিভিন্ন উৎসবের সময় টুরিস্ট স্পটগুলোতে প্রচন্ড ভিড় হয় ও খরচও বেড়ে যায়। তাই ঈদ, পূজা বা অন্য কোন বড় ছুটির সময়ে ট্যুর প্ল্যান করলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।

৭। লং ট্যুরও কম বাজেটে করা যায়। সেক্ষেত্রে থাকা-খাওয়ার মান কিছুটা কমিয়ে আনতে হবে ও যাতায়াতের খরচও কমিয়ে আনতে হবে।

ছবি : ট্রাভেল ডেইলি

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানগুলোতে ২,৫০০-৫,০০০ টাকায় ঘুরে আসা যায়। বাজেট কম হলে টাংগুয়ার হাওড়, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট এসব স্থান আর কিছুটা বেশি বাজেট থাকলে বান্দরবান, সাজেক, সেন্টমার্টিন ঘুরে আসতে পারেন। ঠিকঠাক পরিকল্পনা করলে কম পরিশ্রমে, মোটামুটি খরচে সহজেই ঘুরে ফেলতে পারবেন প্রাণের বাংলাদেশ। আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।