সাজেকের মানসম্মত রিসোর্ট : আলো রিসোর্ট

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মেঘের রাজ্য সাজেকে আলো রিসোর্ট



আলো রিসোর্ট, সাজেক। ছবি : হোটেল বুকিং ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশের দার্জিলিং মেঘের রাজ্য সাজেকে যাতায়াত ব্যবস্থা হয়তো অনেক উন্নত নয়, দুর্গম রাস্তা তবুও এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণের জন্য সাজেককে বেছে নেয়া হয়। যাতায়াত ব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা হলেও সাজেকে আছে বেশ কিছু মানসম্মত রিসোর্ট। আর সেই রিসোর্টের তালিকায় আছে 'আলো রিসোর্টের' নাম।

আলো রিসোর্ট, সাজেক : আলো রিসোর্টের অবস্থান সাজেকের রুইলুই পাড়ায় । এসিস্টেন্স ফর দি লাইভলিহুড অফ দি অরিজেন্স (আলো) পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি এনজিও, আর এই রিসোর্টটি এই এনজিও-এর নিজস্ব সম্পত্তি। আদিবাসিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যাবে এই রিসোর্টের পরিবেশ থেকে।

আলো রিসোর্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন মনোরম তেমনই এই রিসোর্ট থেকে সাজেকের সৌন্দর্য বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়। তবে এই রিসোর্টের কিছু বিশেষ দিক আছে। আর সে দিকটা হলো রিসোর্টের কিছু নিয়মনীতি। এতে করে পর্যটক এবং রিসোর্ট কতৃপক্ষ উভয়েরই নিরাপত্তা ও আনুষাঙ্গিক কাজে অনেক সহায়তা হয়। তবে এই পর্যায়ে যেনে নেই কি কি আছে আলো রিসোর্টের নিয়মের তালিকায়; সাথে থাকছে বিস্তারিত আরও তথ্য।

রিসোর্টের কিছু নিয়মাবলী :

  • রুমে প্রবেশকালীন প্রমাণ ও নিরাপত্তা স্বরূপ নাম ,ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
  • রুমে ফার্নিচার অথবা রক্ষিত অন্য কোনও জিনিস ব্যবহারকালীন নষ্ট হলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ব্যবহারকারীকে।
  • মূল্যবান মালামাল ও জিনিসপত্র নিজ নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে। হারানো গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ি থাকবে না।
  • রুমে কোনও প্রকার মাদক অথবা নেশাদ্রব্য গ্রহণের অনুমতি নেই। এটি কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিষিদ্ধ।
  • কোনও প্রকার রাজনৈতিক আলোচলা করা যাবে না। এটি কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধ।
  • আগে থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে কোনও বহিরাগত নিয়ে রুমে প্রবেশ করা যাবে না।
  • রাত ১০টার মধ্যে রুমে ফিরে আসতে হবে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার জন্য হৈ চৈ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
  • রুম ছেড়ে দেয়ার সময় ব্যবহার্য জিনিসপত্র ক্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
  • রিসোর্টের সকল মালামাল ও সম্পত্তি সংরক্ষণে অতিথিদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার সার্থে ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে, অপচয় কাম্য নয়।
  • রিসোর্টের চেক ইন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা।
চেক আউট-দুপুর ১২টা।

রুম বুকিং সিস্টেম :



আলো রিসোর্ট এর রুম, সাজেক। ছবি : হোটেল বুকিং ইন বাংলাদেশ
যেহেতু আগে থেকেই রিসোর্টের রুম বুক করে রাখতে হয়, তাই বুকিং এর জন্য পর্যটকদের দেয়া হয়েছে কীভাবে রুম বুকিং করা যাবে তার নির্দেশাবলিও। এতে করে বুকিং সংক্রান্ত তথ্য সহজেই পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়।
  • দুই সপ্তাহ আগে নির্দিষ্ট ফোন নাম্বারে ফোন করে রুম বুকিং করতে হবে । বুকিং এর ৫০ শতাংশ আগেই বিকাশে পাঠাতে হবে, নাহয় বুকিং নিশ্চিত হবে না।
  • পিক সিজনে এক মাস আগে জানাতে হবে।
  • কমপক্ষে ১ সপ্তাহ আগে ফোন করে বুকিং চূড়ান্ত করতে হবে।
  • হরতাল, বিশেষ কোনো অস্থিতিশীল অবস্থা, ব্যক্তিগত বড় ধরনের সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো কারণে বুকিং বাতিল অথবা তারিখ পরিবর্তন করা যাবে না। শুধু উল্লেখ্য সমস্যা বা পরিস্থিতিতেই তারিখ পরিবর্তন করা হবে।
রিসোর্টের সুযোগ-সুবিধা সেবাসমূহ :
  • সাজেকে ২৪ ঘন্টা ইকেট্রিসিটির ব্যবস্থা নেই। তবে রিসোর্টে সোলারের সুবিধা আছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আছে জেনারেটরের সুবিধা, তবে এই সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বাড়ানো যেতে পারে।
  • এক মাস আগে থেকে বুকিং দিতে হবে, বিশেষ করে পিক সিজনে। বুকিং নিশ্চিত করতে ৫০ শতাংশ বুকিং মানি বিকাশে পাঠাতে হবে, নাহয় বুকিং নিশ্চিত করা হবে না।
  • রিসোর্টের বেশিরভাগ অংশই কাঠের তৈরি যা পরিবেশ বান্ধব।
  • সংযুক্ত বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকলেও আছে পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় বাথরুমের ব্যবস্থা।
  • রিসোর্টের রুমগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়।
  • সকল সম্প্রদায়ের অতিথিদের জন্য চাহিদা মাফিক মানসম্মত খাবারের সু-ব্যবস্থা।
রুম ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য :
  • রিসোর্টে মোট রুম আছে ৬টি। এর মধ্যে ডাবল রুম ৪টি, বাকি ২টি সিঙ্গেল রুম।
  • ডাবল রুম : এই রুম গুলোর প্রতিটিতে আছে ২টি করে সিঙ্গেল বেড। এই রুম গুলোতে ৩ জনের বেশি থাকতে পারবে না। ভাড়া-১৫০০ টাকা
  • সিঙ্গেল রুম : এই রুম ২টি তে আছে ১টি ডাবল বেড। রুমে ২ জনের বেশি থাকতে পারবে না। ভাড়া-১০০০ টাকা।
  • গ্রাউন্ড ফ্লোর : এখানে ১৫-২০ থাকতে পারবে। সবার জন্যই প্রয়োজনীয় লেপ, তোষক, বালিশ, মশারি সরবারহের ব্যবস্থা আছে। জনপ্রতি ভাড়া-৪০০ টাকা।
  • কনফারেন্স হল : গ্রাউন্ড ফ্লোরকে কনফারেন্স হল হিসেবে ভাড়া নেয়া যাবে। ভাড়া-১০০০ টাকা।
রিসোর্টের খাবার সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য : রিসোর্টে খাবার গ্রহণ করতে চাইলে নিম্নের নির্দেশগুলো মানতে হবে :
  • রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় খাবার গ্রহণ করতে হলে সেটাও আগে থেকেই জানাতে হবে। এর জন্য খাবার বাবদ ৫০ শতাংশ অগ্রিম প্রদান করতে হবে ।
  • খাবারের মেন্যু অগ্রিম জানাতে হবে।
  • রিসোর্টে সকালের খাবার ব্যবস্থা নেই। এর জন্য স্থানীয় হোটেল কিংবা নিজ থেকে ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে রিসোর্টে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সাজেক কিভাবে যেতে হবে : আরামবাগ : সেন্টমার্টিন পরিহন

ফকিরাপুল : এস আলম, শ্যামলী পরিবহন

গাবতলী : ঈগল পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, শান্তি পরিবহন, হানিফ পরিবহন, ইকোনো পরিবহন, হিমাচল পরিবহন ঢাকা থেকে এই বাস গুলো খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সাজেক পর্যন্ত সরাসরি কোনও বাস সার্ভিস চালু নেই, তাই খাগড়াছড়িগামী বাসে আগে সেখানে পৌঁছতে হবে। তারপর খাগড়াছড়ি থেকে লোকাল বাস, চাঁদের গাড়িতে করে দীঘিনালা আর দীঘিনালা থেকে সাজেক। তবে শান্তি পরিবহন দীঘিনালা পর্যন্ত যায়। এরপর দীঘিনালা থেকে আপনাকে চাঁদের গাড়ি করে যেতে হবে সাজেক ভ্যালীতে।

যোগাযোগের ঠিকানা মাধ্যম : আলো রিসোর্ট রুইলুই পাড়া, সাজেক মোবাইলঃ +৮৮০১৮৬৩৬০৬৯০৬ ( আলো রিসোর্ট) +৮৮০১৭৫৫৫৫৬৬৯৯ ( হেড অফিস)

ফেসবুক পেইজ :  https://www.facebook.com/ALO-Resort-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-869097689818841/

মেসেঞ্জার : https://m.me/869097689818841?fbclid=IwAR33Pr2vOJ-K3Sg0T3C1_FgfCoRT3uH7sPO7wTZjdpD7TRVtmYCa48FvF3g

ই-মেইল : suvachakma4@gmail.com

ওয়েবসাইট : http://alocht.org/?fbclid=IwAR0NmrG1Y3fMGnnYhYXefoyyVy3aK5g6xQwGtRbms5CPcvglVi1IeygvGkE  

তথ্যসূত্র : https://www.facebook.com/ALO-Resort-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF-869097689818841/