লেকশোর রিসোর্ট, কাপ্তাই

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : কাপ্তাইয়ের মনোমুগ্ধকর লেকশোর রিসোর্ট



অনিন্দ্য সুন্দর লেকশোর রিসোর্ট, কাপ্তাই। ছবি : এগোডা

কর্ণফুলী নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট হৃদ এই 'কাপ্তাই লেক/হৃদ'। তবে অসম্ভব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ আর জলাধার মানুষের নজর কেড়েছে শুরু থেকেই। তাই পর্যটকদের সুবিধার্তে কাপ্তাই লেকের কাছেই গড়ে তোলা হয়েছে 'লেকশোর রিসোর্ট'।

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার কাটাখাল আর্মি ক্যাম্পে এই লেকশোর রিসোর্টের অবস্থান। রিসোর্টটি বানৌজা শহীদ নৌ ঘাঁটি দ্বারা পরিচালিত। তাই রক্ষণাবেক্ষণ করে নৌবাহিনী।

বিনোদনের জন্য যা যা আছে :



ছবি : সংগৃহীত

ভাসমান খাবার হোটেল  : পাহাড় ঘেসে সিঁড়ি বেয়ে অনেকটা নিচে নেমে গেলে দেখা মিলবে সাজানো গোছানো ভাসমান রেস্টরেন্টের। বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা আছে এখানে। কাপ্তাই লেকের অসম্ভব সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি হয়ে যাবে কিছু খাওয়া দাওয়া।

বোটে লেক ভ্রমণ : লেকশোর রিসোর্টটি কাপ্তাই হ্রদের সাথে অনেকটা কাছে হওয়ার একটি সুবিধা হলো এখান থেকে বোটে করে কাপ্তাই লেক ভ্রমণ করা যায়। রিসোর্টের ভ্রমণের পাশাপাশি একই সাথে লেকেও ঘুরাঘুরি করা যায়।

নৌবিহার : শুধু নৌকায় লেক ভ্রমন নয় চাইলে পরিবার, বন্ধুদের নিয়ে নৌবিহারে যাওয়ার সুযোগও আছে এই রিসোর্টের। কাপ্তাই লেকের টলমলে জলে আর সতেজ বাতাসে নৌবিহারের আনন্দ যেনো এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে এই রিসোর্টে।

সুইমিংপুল : আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, আপনি এমন এক সুইমিং পুলে সাঁতার কাটছেন যেখান থেকে এক বিস্তর জলরাশি দেখা যাচ্ছে! হ্যাঁ এই লেকশোর রিসোর্ট এমনই এক সুইমিংপুলের ব্যবস্থাও করেছে। একপাশে মার্বেল পাথরে সজ্জিত সুইমিংপুলে কাটছেন সাঁতার, আর ঠিক অন্য পাশে কাপ্তাই এর জল টলমলিয়ে যেনো আপনাকে একটু ছুঁয়ে দিতে চাইছে!

হেলিপ্যাড : লেকশোর রিসোর্টের আছে একটি হেলিপ্যাড। সেখান থেকে মনে হবে কোনো দ্বীপে আছে, যার চারপাশে জলরাশি আর সবুজ পাহাড়।

খেলাধুলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : শুধু ঘোরাঘুরি করে নয়, বিনোদনমুলক বিভিন্ন খেলাধুলা আর অনুষ্ঠানের মতো কার্যকলাপের আয়োজনও করা হয় এই রিসোর্টে। তাই পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বেড়ে  যায়।

পিকনিক স্পট : পিকনিক করতে চাইলে এইখানে তার ব্যবস্থাও করা আছে। পিকনিক স্পট আছে লেকশোর রিসোর্টের, যেখানে আছে সুন্দরভাবে পিকনিক করার সুব্যবস্থা।

সতর্কতা : লেকশোর রিসোর্টে যাওয়ার পথে আছে কয়েকটি এলিফ্যান্ট ক্রসিং। মানে এই রাস্তাগুলো দিয়ে বনের হাতিরা চলাচল করে। তাই সাবধানতার সাথে এই এলিফ্যান্ট ক্রসিংগুলো পার করতে হবে যাতে করে বন্য হাতির কবলে পড়তে না হয়। সাধারণত হাতিরা সন্ধ্যার পর এই রাস্তাগুলোতে বের হয়। তাই চেষ্টা করতে হবে যাতে করে সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই এলিফ্যান্ট ক্রসিং গুলো পার করা সম্ভব হয়।

আরও যা যা করবেন : লেকশোর পিকনিক স্পটের উপরে পাহাড়ে আছে আদিবাসি গ্রাম। বিভিন্ন পূজা-পার্বনে গ্রামগুলো দেখতে অনেক সুন্দর দেখায়। সাথে আপনি জানতে পারবেন তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি। সেখান থেকে চাইলে উলের তৈরি পোশাক, আদিবাসিদের তৈরি করা বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী কিনে নিতে পারেন।

রুম ভাড়া প্যাকেজ : রিসোর্টটিতে আছে থাকার সুযোগও। রিসোর্টে থাকতে হলে প্রতি রাতের জন্য গুণতে হবে ৩,৫০০-৫,৫০০ টাকা মতো।

ডে ট্রিপ রেগুলার :

  • মূল্য : জনপ্রতি ২,৫০০ টাকা।
  • রিসোর্টের চারপাশ ঘুরে দেখার সুযোগ।
  • আছে সুইমিংপুলে জলকেলির সুযোগ।
  • সেট মেন্যু দিয়ে লাঞ্চ করার ব্যবস্থা।
সেট মেন্যু :
  • ফ্রাইড রাইস, চাইনিজ সবজি, ফ্রাইড চিকেন, বিফ চিলিস ও মিষ্টান্ন।
  •  সাদা ভাত, ডাল, মিক্সড সবজি, ভর্তা, বিফ কারি, ফিরনি।
ডে ট্রিপ লাইট :
  • মূল্য : জনপ্রতি ১,৫০০ টাকা।
  • থাকছে রিসোর্টে এন্ট্রি আর সুইমিংপুলের ব্যবস্থা।
তিন বছরের নিচে শিশু বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাবে। ৪-১২ বছরের বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ৫০ শতাংশ ছাড়ে প্রবেশের সুযোগ, আছে পার্কিং করার সুযোগ।

জলেশ্বরী- প্যাকেজ : এটি হলো একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত বাঁশের তৈরি কটেজ। এখান থেকে লেকের বিস্তর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

  • রুম ট্যারিফ : ৭,০০০ টাকা সাথে ভ্যাট সংযোজন করা হবে।
  • ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক থাকতে পারবে।
  • ৪ জনের জন্য কমপ্লিমেন্টরি বুফে ব্রেক ফাস্টের ব্যবস্থা আছে।
  • ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস।
  • ১টি কুইন সাইজ বেড, ২টি সিঙ্গেল সাইজ বাঙ্ক বেড।
  • শাওয়ার কেবিনেট
  • এইচডি স্যাটেলাইট কানেকশনের সাথে ৩২” টিভি
  • এল শেপের বর বারান্দা
  • ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা
  • চা-কফি তৈরি করা যাবে
কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে কাপ্তাই/রাঙামাটিগামী বাসগুলো হলো :
  • শ্যামলী পরিবহন : সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল,আরামবাগ, পান্থপথ থেকে ছাড়ে।
  • এস আলম সার্ভিস : ফকিরাপুল থেকে ছাড়ে।
  • ডলফিন এক্সপ্রেস : কলাবাগান থেকে ছেড়ে যায়।
  • সৌদিয়া : সায়েদাবাদ, গাবতলী, ফকিরাপুল থেকে ছেড়ে যায়।
  • ইউনিক সার্ভিস : গাবতলী, সায়েদাবাদ ও ফকিরাপুল থেকে ছাড়ে।
যোগাযোগের ঠিকানা : লেকশোর রিসোর্ট কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি

মোবাইল : +৮৮০১৮৫৯-৭৭৮০৬৫

মেসেঞ্জার : https://m.me/LakeshoreResortKaptai?fbclid=IwAR2agzFQoRHFIojoL8CJ7Kx9GPmlypHVVqeQYo_oC4vvnCRSmBDk_TJLkQU

ফেসবুক পেইজ : https://www.facebook.com/LakeshoreResortKaptai/

তথ্যসূত্র : https://www.facebook.com/LakeshoreResortKaptai/