দুই দশকে ১০ বার বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দর
ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : বিশ্ববাসীর কাছে এক বিষ্ময়কর বিমানবন্দর
আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিষ্ময়কর চাঙ্গি বিমানবন্দর। ছবি : ট্রাভেল ডেইলি
আপনি কী জানেন এমন একটি দেশের বিমানবন্দর কতটা জনপ্রিয় হতে পারে? নাক সিঁটকাচ্ছেন? ভাবছেন এরকম একটি বিরক্তকর জায়গাও জনপ্রিয় হতে পারে? জ্বি, হতে পারে। আর এতটাই জনপ্রিয় যে মানুষ শুধুমাত্র বিমানবন্দর দর্শন করতেই কাটিয়ে দেন কয়েকঘন্টা। বলছিলাম সেই বিষ্ময়কর বিমানবন্দরের কথা যাকে তুলনা করা হয় হলিডে ডেস্টিনেশন নামে। বিশ্বসেরা বিমানবন্দরটির নাম চাঙ্গি বিমানবন্দর যা সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
২০০৯ এর সেপ্টেম্বর নাগাদ ৯৬টি এয়ারলাইন্স নিয়ে এই বিমানবন্দরটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ১০০টি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ৩৮০টি শহর ও ১০০টি দেশের সাথে সিঙ্গাপুরের সংযোগ মাধ্যম এই বিমানবন্দরটি।
চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ এই বিমানবন্দরটি পরিচালনা করছে। চাঙ্গি বিমানবন্দর সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স কার্গো, সিল্কএয়ার, টাইগার এয়ারওয়েজ, ভ্যালুএয়ার-এর প্রধান কেন্দ্র। এটি কান্তাস এয়ারওয়েজ-এর দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবছর কয়েককোটি যাত্রী এই বিমানবন্দরে আসেন। বর্তমানে এটি বিশ্বের ২১তম এবং এশিয়ার ৫ম ব্যস্ত বিমানবন্দর। এছাড়া এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম কার্গো বিমানবন্দর। গত ২০বছরে ১০বার বিশ্বসেরা বিমানবন্দরের খেতাব অর্জন করেছে এটি।
ছবি : স্কেপ
সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর বলা হয় হলিডে ডেস্টিনেশন। সিঙ্গাপুর ঘোরার সময় আপনার হাতে না থাকলেও, এয়ারপোর্টে বসেই আপনি দিব্যি আরাম করতে পারেন। বেশকয়েকবার পেয়েছে বিশ্বের সেরা বিমাবন্দরের তকমা। কী কী আছে এই বিমানবন্দরে? জানতে মনে চাচ্ছে অবশ্যই। জানতে হলে কল্পনা শক্তিকে একটু প্রখর করুন।
ভাবুন আপনি বিমানবন্দরের ছাদে। সেখানে বিশাল বড় একটা পুল। সে পুলে পা ডুবিয়ে ডুবিয়ে মাথার উপরে আকাশ দেখছেন যেখানে কিচ্ছুক্ষণ পর পর উড়ে যাচ্ছে একটা উড়োজাহাজ। কল্পনায় যতটা আনন্দ তারচেয়েও বেশি উপভোগ করবেন যখন আপনি বাস্তবে চাঙ্গি বিমানবন্দরে যাবেন। সেখানে ছাদের উপরে রয়েছে সুইমিংপুল। বিমানবন্দরে পুল, কি অবাক হচ্ছেন না? এজন্যই তো ট্রানজিটে কেউ চাঙ্গি বিমানবন্দরে নামলে, হাতে অল্প সময় থাকলেও এয়ারপোর্ট দর্শনের সুযোগটা হাতছাড়া করেনা। মোট চারটি টার্মিনাল রয়েছে এই বিমানবন্দরে। টার্মিনাল-১ এর সামবনে গেলেই দেখতে পাবেন অভূতপূর্ব এক স্থাপত্য। নাম জুয়েল। ডোনাট আকৃতির এই স্থাপত্য তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার। জুয়েল চাঙ্গি এয়ারপোর্টে কেন্দ্রস্থলে বয়ে যাচ্ছে রেইন ভরটেক্স নামে এক কৃত্রিম জলপ্রপাত।
বিমানবন্দরের নানা প্রজাতির অর্কিড গাছের সমারহে অর্কিডের বাগান। ছবি : মাই নিউজ ডেস্ক
রয়েছে অর্কিডের বাগান। টার্মিনাল ২-এর অর্কিডের বাগানে দেখা মিলবে সিঙ্গাপুরের জাতীয় ফুলের। সাথে রয়েছে রঙ বেরঙয়ের নাম না জানা আরো কয়েক জাতের ফুল। দর্শনার্থীদের জন্য সেখানে রয়েছে বিশেষ সেলফি জোন। সারাদিনই এখানটায় তাই ভিড় লেগেই থাকে। বিমানবন্দরের অন্দরে ঢুকতেই চারতলা স্লাইড চোখে পড়বে। যেখানে একবার ঢুকলে আপনি প্রতি সেকেন্ডে ৬ মিটার করে নিচে নামতে থাকবেন।
যারা নিয়মিত বিদেশভ্রমণ করেন তাদের প্রায় সবার কাছে বিমানবন্দর বেশ বিরক্তিকর জায়গা। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকাটা যেন সহ্য হয়না। কিন্তু এখানে এরকম কিছুই আপনার সাথে হবেনা। কারণ বসে থাকতে না চাইলে করে ফেলতে পারেন ফুট ম্যাসাজ। তাও আবার একবারে বিনামূল্যে।বিলাসবহুল চেয়ারে বসে ফুট ম্যাসেজটি আপনার ভ্রমণ ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দিবে।
এছাড়া ছোটদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। খেলাধুলার জন্য রাখা হয়েছে প্লেরুমের ব্যবস্থা। চাঙ্গি বিমানবন্দরে রয়েছে বিশ্বের সমস্ত বড় বড় ব্র্যান্ডের শো-রুম। খরচটা যদিও একটু বেশি। তবে যদি অর্থকড়ির খুব একটা চিন্তা না থাকে তাহলে শপিং করে কাটিয়ে দিতে পারবেন বেশ অনেকটাসময়।
হরেক রকমের প্রজাপতির উড়ে বেরানো দেখা মিলবে চাঙ্গির বাটারফ্লাই গার্ডেনে। ছবি : লেন্ডস্কেপ ইঞ্জিনিয়ারিং
তবে চাঙ্গির সবচেয়ে লোভনীয় দিক হচ্ছে তাদের ফুডকোর্টগুলো। রয়েছে এমন সব খাবারের মেনু যা দেখলেই আপনার মুখে জল আসতে বাধ্য। কি নেই এই বিমাবন্দরে। গাছ আছে, বিশাল ফুলের বাগান আছে। তাহলে প্রজাপতিই বাদ যাবে কেনো। কয়েকশো প্রজাতির প্রজাপতিদের আস্থানা চাঙ্গির বাটারফ্লাই গার্ডেন। দর্শনার্থীদের বেশ পছন্দের স্থান এটি৷ তবে এখানে ছবি তোলা নিষেধ।
যদি বেশ অনেকটাসময় আপনাকে বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হয় তাহলে আপনার জন্যেও রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এই বিমানবন্দরে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার সিনেমা হল। সবথেকে খুশির খবর, আপনাকে সিনেমা দেখার জন্য এক পয়সাও খরচ করতে হবে না।
বিমানবন্দরে বিনামূল্যে সিনামা দেখার ব্যবস্থা। ছবি : দ্যা স্ট্রেট টাইমস
বিমানবন্দরের অন্দরে রয়েছে দ্রুতগতির ফ্রী ওয়াইফাই ব্যবস্থা। যাতে যেকোনো বিপদে যাত্রীরা তাদের সঙ্গী বা যেকারও সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া যেকোনো সহযোগিতার জন্য রয়েছে অনেকগুলো ইনফরমেশন সেন্টার। রয়েছে ফোন চার্জিং স্টেশন। আপনার ভ্রমণবিরতিকে উপভোগ্য করে তোলার জন্য যা কিছু দরকার মোটামুটি সবকিছুই এখানে পাবেন।