অভিজাত অর্চার্ড রোড : সিঙ্গাপুর শহরের নিজস্ব ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ঘুরে আসুন অভিজাত এই সড়কে

গভীর রাতেও ঘুমহীন অর্চার্ড রোড। ছবি : দ্যা হানিকম্বার্স

আলো ঝলমলে সিঙ্গাপুর শহরের নিজস্ব ঐশ্বর্যের বড় একটি দিক লুকিয়ে আছে অর্চার্ড রোডে। বহু আগে ১৮৩০ সালে সাধারণ একটি ফলের বাজার হিসেবে যাত্রা শুরু করে অর্চেড রোড। অর্চার্ড শব্দের বাংলা ফলের বাগান। এ থেকেই এই সড়কের ইতিহাস অনেকটা আঁচ করা যায়। ফলের বাজার ছাড়াও কিছু নার্সারি এবং গোলমরিচের খামারও ছিল।

১৯৫৮ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী সি.কে.টাঙ  সর্বপ্রথম এখানে মুদি দোকান স্থাপন করেন। টাঙস নামের সেই মুদি দোকান বিগত ৬ দশকে সুপারমার্কেট হয়েছে। সেইসাথে অনুপ্রেরণা দিয়েছে আরো অনেক ব্যবসায়িকে। ১৮৩০ সালের অর্চার্ড রোড এখন সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় শপিং এলাকা। বর্তমানে অর্চার্ড রোড খুচরা বাজারের একটা স্বর্গরাজ্য বলা যায়। সেই সাথে আছে অসাধারণ সব খাবার দোকান। প্রায় ৫,০০০ দোকানে আপনি পাবেন লাইফস্টাইল থেকে শুরু করে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মত সব কিছুই।

খুচরা বাজারের স্বর্গ :

খুচরা বাজারের স্বর্গ অর্চার্ড রোডে ভ্রমণ। ছবি : হোটেলস্ ডট কম

অর্চার্ড রোডে ভ্রমণের শুরু করতে পারেন আদিকালের সেই টাঙস থেকেই। তবে টাঙস এখন আর সেই একটি দোকান নেই। এখন টাঙস একটি সুপারমার্কেট। এখানে একই ছাদের নিচে আপনি এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দরতম কিছু সংগ্রহ দেখতে পাবেন। আছে নামি সব বৈশ্বিক ব্রান্ডের শো-রুম বা আউটলেট।

এছাড়া সুভ্যেনির সংগ্রহ করার জন্যেও টাঙস-এর ব্যপক সুনাম আছে। এই শপিং সেন্টার তার নির্মাণশৈলী দিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানোর দারুণ একটি চেষ্টা করেছে। এর সবুজ রঙের জেইড প্যাগোডার ছাদ আর লাল রঙের পিলারগুলো সিঙ্গাপুর সহ পূর্ব এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে।

আইওএন অর্চার্ড :

সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ শপিং কমপ্লেক্স, আইওএন অর্চার্ড। ছবি : আইওএন অর্চেড ডট কম

খানিক হেঁটে যেতে পারেন আইওএন অর্চার্ডে। এটি সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ শপিং কমপ্লেক্স। এখানে এসে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের চরম রূপ আপনি দেখতে পাবেন। আট তলার ওপর থেকে শুরু হওয়া এই শপিং কমপ্লেক্সে আপনি সাধারণ দোকান থেকে ব্র‍্যান্ডের আউটলেট এবং চিত্তবিনোদনের জায়গাও খুজে পাবেন। আইওএন অর্চার্ডে ৫ম তলায় গ্র‍্যান্ড হুইস্কি কালেকশন দেখে আসতে পারেন।

এই জাদুঘর বিশ্বের সবচেয়ে দূর্লভ আর পুরাতন সব ওয়াইনের সংগ্রহ আছে। এছাড়া আছে গিফটশপ যাতে স্কটিশ আর জাপানের পণ্যের আলাদা এক মাধুর্য চোখে পড়বে। শপিং থেকে খানিকটা সময় বিরতি চাইলে আইওএম আর্ট গ্যালারিতে যেতে পারেন। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রদর্শনী আপনার মনকে নিমিষেই ভাল করে দিতে পারে। এছাড়া ফার ইস্ট প্লাজায় থাকছে সাধারণ সব দোকান। এখানে চাইলে দরদাম করতে পারবেন।

এপিকুরিয়ান ইনডালজেন্স :

এপিকুরিয়ান ইন্ডালজেন্সে লোভনীয় খাবারের বাহার। ছবি : টুইটার

ভোরে হোক বা গভীর রাতে এপিকুরিয়ান ইন্ডালজেন্সে বিশ্বের নানা দেশের এবং আন্তর্জাতিক মানের খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন। বিশেষ করে আপনি যদি কফির ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে ওরিওল কফি এবং বারে আপনাকে যেতেই হবে। এখানে ন্রেকফাস্ট এবং এক কাপ কফি আপনার সারাদিনের শুভসূচনা ঘটাবে। বিভিন্ন চাষীদের কাছ থেকে বাছাই করা শ্রেষ্ঠ কফি বিন থেকেই এখানে কফি তৈরি করা হয়।

মাংসের স্বাদ পেতে হলে চলে যেতে পারেন মান্দারিন গ্যালারির 'ওয়াইল্ড হানি'তে। এই ছোট জায়গাতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিজস্ব কিছু মাংসের রান্না আপনি পাবেন। এক ছাদের নিচেই পাবেন বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাদ। এছাড়াও দারুণ সব স্যান্ডউইচ থাকছে আপনার জন্য। ইতালি, তুর্কি কিংবা মেক্সিকোর মত দেশ থেকে আমদানি করা সেরা মানের মাংস আর সালাদ আপনাকে নিশ্চিতভাবেই তৃপ্ত করবে।

ছবি : এসজে ম্যাগাজিন

এছাড়া জুস কিংবা ককটেলের স্বাদ নিতে চাইলে রিজেন্ট হোটেলের পাশেই ম্যানহাটন বারে যাওয়া যেতে পারে। ২০১৮ সালে এশিয়ার ৫০টি শ্রেষ্ঠ বারের তালিকায় এই ম্যানহাটন বার ছিল শীর্ষস্থানে।

ধূমপানমুক্ত এলাকা : ২০১৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে পর্যটকদের কথা বিবেচনায় অর্চার্ড রোডকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যেসব পর্যটক ধূমপান করতে চান তাদের জন্য পুরো এলাকায় অল্পকিছু জায়গা রাখা হয়েছে। সরকারি এই সিদ্ধান্ত পর্যটকদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।