সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট : সমুদ্রপাড়ের মানুষের নিত্য জীবন যাত্রা উপলব্ধি করতে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : সন্দীপ যাবার জন্য প্রসিদ্ধ ফেরিঘাটের একটি কুমিরা ঘাট

সীতাকুণ্ডের কুমিরা ঘাট সমুদ্রের বেশ গভীর পর্যন্ত ব্রিজটি যাত্রী উঠানামায় ব্যবহৃত হয়; ছবি : সংগৃহীত

জাহাজ ভাঙা শিল্পের হাত ধরে সীতাকুণ্ড সমুদ্র সৈকত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হলেও এখান থেকে সন্দীপ যাবার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ফেরিঘাট। এরই মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কুমিরা- সন্দীপ ফেরিঘাটে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ জেটি সম্প্রতি হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের জন্য বেশ পছন্দসই জায়গা। জেটি ধরে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় সমুদ্রের ভেতরের দিকে অনেকখানি পথ পার হয়ে সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। এখান থেকে পশ্চিমাকাশে সূর্যাস্ত দেখে সমুদ্রের মাঝে প্রকৃতির অনবদ্য রূপের কিছুটা কাছ থেকে অনুভব করতে পারেন। জোয়ারের সময় সূর্যাস্ত দেখতে পেলে গোধূলি রঙের ঢেউ যে কোন প্রকৃতি প্রেমিককে নিমিষেই মুগ্ধ করে দেবে। এছাড়া জেলে পল্লী, শিপইয়ার্ডের দৈনন্দিন ব্যস্ততা, কুমিরা ব্রিজ থেকে ছেড়ে যাওয়া শিপ কিংবা প্রতিনিয়তের ব্যস্ততা দেখে ফেরার পথে জেলে পল্লী থেকে কেনা তাজা মাছ হতে পারে বাড়তি পাওনা।

এখান থেকে মাছ ধরার বোট ভাড়া করে জনপ্রতি ১৫-২০ টাকায় সমুদ্রের ভেতর থেকে ঘুরে আসা যায়। কুমিরা ঘাট থেকে সন্দীপ যেতে চাইলে গুণতে হবে জনপ্রতি ২৫০-৩০০টাকাইয় পাওয়া যাবে স্পীডবোট। আবার সন্দীপ শহরের ভেতরে যেতে চাইলে ২০০-২৫০টাকায় সিএনজি ভাড়া পাওয়া যাবে। পানি ভালবাসলে সমুদ্রের মাঝে এই

স্পীডবোট যাত্রা মানসপটে গেঁথে থাকবে বহুদিন। চিরন্তন ব্যস্ততায় ছোটখাটো ট্যুরে আদর্শ হতেই পারে কুমিরা ঘাটে একদিন।

 ঢাকা থেকে কুমিরা ঘাট যেতে চাইলে রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুল থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বাস ছেড়ে যায়। যেকোনো বাস ধরে ছোট কুমিরা আসতে লাগতে পারে ৪৮০-৫০০টাকা। এখান থেকে লোকাল সিএনজিতে জনপ্রতি ৫টাকায় যেতে হবে কুমিরা ঘাটঘর। কুমিরা ঘাটঘর থেকে ১০-২০টাকায় স্থানীয় টমটম কিংবা রিক্সায় যেতে পারেন কুমিরা ফেরিঘাট। এছাড়া সীতাকুণ্ডে বেড়াতে এসে কুমিরা ঘাটে যেতে চাইলে মিনিবাসে করে ছোট কুমিরা গিয়ে যেতে হবে কুমিরা ঘাট। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে যেতে চাইলে নগরীর অলংকার বা এ কে খান মোড় থেকে সেফ লাইন সার্ভিসে করে যাওয়া যাবে কুমিরা ঘাট। শহরের নিউমার্কেট থেকেও ৭ নম্বর মেট্রো সার্ভিসে করে আসা যাবে ছোট কুমিরা অবধি। সেখান থেকে ঘাটঘর হয়ে কুমিরা ঘাট

যেখানে থাকবেন ও খাবেন : কুমিরা ঘাটে খাবার ব্যবস্থা তেমন ভাল না হলেও স্থানীয় হোটেলে ভাত, ভর্তা কিংবা ভাজি পাওয়া যাবে। কিন্তু ভাল খেতে চাইলে সীতাকুণ্ডে গিয়ে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ভাল ব্যবস্থা পাওয়া যাবে। এছাড়া কুমিরা ঘাটে থাকার জন্য হোটেল থ্রি স্টার নামে একটি হোটেল থাকলেও সীতাকুণ্ডে গিয়ে হোটেল সৌদিয়া কিংবা সাইমুনে থাকার সিদ্ধান্ত উত্তম। তবে আরও ভাল ব্যবস্থা চাইলে চট্টগ্রামে গিয়ে পছন্দসই থাকার ব্যবস্থা মিলবে খুব সহজেই

সীতাকুণ্ডে আরও যা দেখতে পারেন :  সীতাকুণ্ড প্রাকৃতিক কারণে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় জায়গা। আগে থেকে প্ল্যান করে হাতে সময় নিয়ে গেলে কুমিরা ঘাটের কাছাকাছি সীতাকুণ্ডে আরও অনেক কিছু পাবেন দেখার মত। এর মধ্যে রয়েছে-

  • সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক
  • চন্দ্রনাথ পাহাড়
  • কমলদহ ঝরনা
  • বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
  • সন্দীপ
বি: দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।   
তথ্যসূত্র: ১। vromonguide.com ২। bddarkak.blogspot.com