সেন্ট পল'স : কোলকাতায় অবস্থিত এশিয়ার সর্বপ্রথম ক্যাথিড্রাল গির্জা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে অন্যতম পুরনো গির্জা সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রাল চার্চ

st-paul-s-cathedral-kolkata  নকশা করা চমৎকার সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রাল চার্চ।  ছবি : কলকাতা ট্যুরিজম 

খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীদের উপাসনালয় গির্জা। ১৮১০ সালে ব্রিটিশ শাসনের সময় ইউরোপীয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের চার্চে অনুসারীদের জন্য জায়গার অভাব হওয়ায় নতুন আরেকটি গির্জার প্রয়োজন হয়। তারই প্রেক্ষিতে ১৮৩৯ সালে কোলকাতায় এশিয়া মহাদেশের প্রথম ক্যাথিড্রালের ভিতের সূচনা করা যায়। কাজ শেষ হতে লেগে যায় আটটি বছর। পরে ক্যাথিড্রাল বানানোর জন্য সাত একর জমি হাতে পেয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

গির্জার নকশার কারিগর ছিলেন উইলিয়াম নেইন। গির্জার চূড়া ও শিখরের নকশা করেন আরেকজন স্থপতি। তার নাম সি কে রবিনসন। গির্জা বানানো শেষে ক্যাথিড্রালটিকে উৎসর্গ করার  অনুষ্ঠানকে বিশেষ করে মনে রাখার জন্য রাণী ভিক্টোরিয়া উপহার পাঠিয়েছিলেন। উপহারটি ছিল রুপার তৈরই দশটি পাত। এটি একটি অ্যাংলিকান ক্যাথিড্রাল গির্জা। কোলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে অবস্থিত গির্জাটি সেন্ট পলকে উৎসর্গ করে নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর নামেই গির্জার নাম-সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রাল। সেন্ট পল ছিলেন খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারক।stpal বিশেষ দিনে বর্ণিল সাঁজে সজ্জিত সেন্ট পল ক্যাথেড্রালে। ছবি : জি বাংলা

সেন্ট পল ক্যাথিড্রালে যাওয়ার পথে সামনে পড়ে একটি লোহার গেট। গেটের দু-দিকে রয়েছে দুটি সাদা রঙের স্তম্ভ। প্রতিটি স্তম্ভে রয়েছে ক্রুশের চিহ্ন। সদর দরজা পেরিয়ে পিচ ঢালা রাস্তার দু-ধারের সবুজ গাছপালা দেখতে দেখতে সামনাসামনি দেখা মেলে কলকাতার সবচেয়ে বড় গির্জার। গির্জার স্থাপত্যশিল্পে ইন্দো-গথিক ভাবধারা দেখতে পাওয়া যায়।

পুরো গির্জাটি বিশেষ ধরনের ইট, ইস্পাত, লোহা, চুন দিয়ে বানানো হয়েছে। গির্জার সবচেয়ে উপরের শীর্ষদেশ ২০১ ফুট উঁচু এবং এটি ৮১ ফুট চওড়া ও ২৪৭ ফুট লম্বা। এখানে একসাথে ৮০০-১,০০০ জন উপাসনা করতে পারে। ১৮৯৭ সালের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পে গির্জাটি কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। সংস্কারের পর ১৯৩৪ সালের ভূমিকম্পে  গির্জার চূড়া ভেঙ্গে গেলে নতুন নকশায় আবার সংস্কার করা হয়। st-paul-s-cathedral ছবি : কোলকাতা ট্যুরিজম

প্রত্যেক ক্যাথিড্রাল গির্জায় একজন বিশপ থাকেন। এই গির্জায়ও বিশপ হিবারের মূর্তি স্থাপন করা আছে। কোলকাতার দ্বিতীয় বিশপের মূর্তির নির্মাতা ছিলেন ফ্রান্সিস লেগেট চ্যান্ট্রি। এই গির্জায় প্রতিদিন খিস্টান ধর্মের অনুসারীরা এসে উপাসনা করেন। বিশেষ করে বড় দিনে লোক সমাগম বেশি হয়।

সময় : সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রাল সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৯-দুপুর ১২টা এবং দুপুর ৩টা-সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রবিবারে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে ঢুকতে কোনো টিকিট লাগবে না।

কিভাবে যাবেন : সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রালে যেতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ থেকে কোলকাতায় যেতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ভিসা এবং পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ থেকে বাস, ট্রেন এবং বিমানে চড়ে যেতে পারবেন প্রমোদ নগরী কোলকাতায়। বাসে চড়ে কোলকাতায় যেতে শ্যামলী এন আর পরিবহন, গ্রিন লাইন, সোহাগ পরিবহণ, সৌহার্দ্য পরিবহন ইত্যাদি বাসে সরাসরি ঢাকা-কোলকাতা যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে নন-এসি বাসে ভাড়া ৮০০-১,০০০ টাকা এবং এসি বাসে ১,৭০০-২,০০০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে করে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোলকাতায় যেতে পারবেন। ট্রেনে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুবিধাজনক উপায় হল মৈত্রী এক্সপ্রেস। সপ্তাহে চারদিন ( শুক্র, শনি, রবি,বুধ) মৈত্রী এক্সপ্রেসের ট্রেন ঢাকা-কোলকাতা যায়। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে সকাল আটটা দশ মিনিটে ট্রেন ছাড়ে। তবে কোলকাতা খুব সহজে এবং কম সহজে যেতে চাইলে বিমানে যেতে পারেন।

বাংলাদেশ বিমান, রিজেন্ট এয়ারলাইনস, নভো এয়ার, এয়ার ইন্ডিয়া, জেট এয়ারওয়েজের বিমানে যেতে পারবেন কোলকাতা শহরে। কোলকাতা থেকে লোকাল বাস, মেট্রো ট্রেন কিংবা ট্যাক্সিতে করে সেন্ট পল'স ক্যাথিড্রালে যাওয়া যায়।

যেখানে থাকবেন : আশেপাশে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের মধ্যে হোটেল আরিয়া ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল এস্টিম, গ্লেনবার্ন টী এস্টেট, হোটেল হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশনাল, চৌধুরী এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড, দ্য অ্যাস্টর উল্লেখযোগ্য।

খাবার : এখান থেকে কাছাকাছি দূরত্বে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে। যেমন : সাবিরের হোটেল, দাওয়াত রেস্তোরাঁ, সুফিয়া রেস্তোরাঁ, ফুড অ্যারোমা হোটেল উল্লেখযোগ্য।