মিলন শীলের সেলুন লাইব্রেরি : খুলনা

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : মিলন শীলের সেলুন লাইব্রেরি



মিলন শীলের সেলুন লাইব্রেরি

ছবি : সংগৃহীত


মানুষের সখ বিচিত্র রকমের। আর যদি সখের বিষয় হয় বই, তাহলে তো আর কথাই নেই। কেউ পছন্দ করেন বই সংগ্রহ করতে, কেউ পড়তে কেউবা নিজে পড়ার পাশাপাশি অন্যকেও পড়তে উৎসাহিত করতে আগ্রহী হয়ে উঠে। আর এর জন্য দেখা যায় তাদের নিজস্ব কিছু পন্থা। এই যেমন খুলনার বালিয়াঘাটা বাজারের সেলুন মালিক মিলন শীলের কথাই ধরা যাক। বই নিয়ে তাঁর ভালোবাসার প্রকাশ দেখা যায় কষ্টার্জিত টাকায় নিজস্ব সেলুনেই গড়ে তোলা লাইব্রেরি দেখে। উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার থেকে পাওয়া এই সেলুনে নিজের কাজের হাতেখড়ি শুরু হয় মাত্র ৪র্থ শ্রেণীর পরই। আর্থিক অনটনে পড়াশুনাটা আর চালিয়ে যেতে পারেন নি। ২০০৬ সাল থেকে মিলন শীল কাজ করে চলছেন এই সেলুনে।

এই বাজারে এক সারিতেই কয়েকটি সেলুন। জরাজীর্ণ সেলুন গুলোর মাঝে বাড়তি কোন সাজ সজ্জা নেই। তবে কয়েকটি কাঠের আলমিরায় সাজানো বই নিয়ে ব্যতিক্রম হয়ে আছে মিলন শীলের সেলুনটি। পড়াশোনা চালিয়ে না যেতে পারা মিলন শীল যখন কাজ শুরু করলেন সেলুনে, পড়ার আগ্রহ তাঁর তখনও হারিয়ে যায় নি। সেলুনে তখন নিয়মিত পত্রিকা রাখা হতো। অবসরে বসে বসে পড়তেন পত্রিকা। পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে নিয়মিত। এক সময় কাছের এক বন্ধুর কাছ থেকে পেয়ে যান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মেজদিদি'। পড়ে ভালো লেগে যায় তাঁর। পড়ার অভ্যাস ও বাড়তে থাকে নিয়মিত। আর সংগ্রহ হতে থাকে বিখ্যাত লেখকদের বিভিন্ন বই। এক সময় সেলুনেই নিয়ে আসেন সংগ্রহের সকল বই। আর গড়ে তোলেন লাইব্রেরি।

মিলন শীলের সেলুন লাইব্রেরি

ইন্টারনেটের এই যুগে কেউ বইয়ের প্রতি মানুষের উদাসীনতা সত্ত্বেও অনেকেই চুল কাটাতে এসে অপেক্ষার সময়টা এখানে বই পড়ে কাটান। অনেকেই আবার শুধু মাত্র বই পড়ার উদ্দেশ্যেই এখানে আসে। খাতায় নাম লিখিয়ে নিয়ে যেতে পারে বাসাতেও। লাইব্রেরিটিতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন লেখকের ৩০০ এর বেশি বই। প্রথমে নিজ উদ্যোগেই বই কিনে সংগ্রহ করেছেন মিলন। তার আগ্রহ দেখে এক সময় বন্ধুবান্ধবরাও বই উপহার দিতো। বই নিয়ে তাঁর এমন ভালোবাসার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৬ সালে ঘুম ভাঙ্গানিয়া নামের স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিলন শীলকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের ভয়েস আর্টিস্ট মাজহারুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। তিনি মিলন শীলের হাতে এই স্বারকটি তুলে দেন। শুধু অন্যকেই পড়তে আগ্রহী করতে থেমে থাকেন নি মিলন, নিজের পড়াশুনার আক্ষেপটাও গুছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চতুর্থ শ্রেণীর পর আর পড়াশুনা না চালিয়ে যেতে পারলেও এখন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেছেন এসএসসি। স্থানীয়রাও মিলনের এই লাইব্রেরীকে সাদরে গ্রহণ করে এবং তার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রশংসা করে। এই উপজেলায় কোনো পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে না ওঠায় মিলনের ক্ষুদে লাইব্রেরীটা সেখানে কিছুটা হলেও ঘাটতি পূরণ করছে, উৎসাহ যোগাচ্ছে অন্যদের।  

আরো পড়ুন  ঃ রহস্য ও বিস্ময়ে ঘেরা প্রাচীন বিশ্বের ঐতিহাসিক সেরা ৫ স্থাপত্য 

সাখাওয়াত হোসেন   এস এম