‍চিন্তা যখন বিদেশী টুরিস্ট ম্যানেজ নিয়ে

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ফরেন টুরিস্ট ম্যানেজ করতে হলে জানতে হবে কিছু টেকনিক

ছবি : ট্রাভেলিং উইথ ট্রেসি

ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে হোক কিংবা অন্য কোনোভাবে, আমাদের মধ্যে অনেকেরই পরিচিত বাইরের দেশের বন্ধু আছে। তারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আসে। কেউ আসে ঘুরতে, কেউ আসে কাজে। অনেক সময় তাদের সূত্র ধরেও বিদেশী টুরিস্ট আসে বাংলাদেশে। ফরেন টুরিস্ট নিয়ে কাজ করলে যেমন বিভিন্ন দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা, মানুষ নিয়ে জ্ঞানার্জন হয় সেই সাথে ক্ষেত্রবিশেষে ছাত্রজীবন বা কর্মজীবনে অনেক সময় একটা বাড়তি ইনকামের পথ খুলে দেয়। সম্পর্ক ভালো হলে তাদের সাহায্য বাইরের দেশগুলোতেও পরবর্তীতে ঘুরতে যাওয়া যায়। ফরেন টুরিস্ট ম্যানেজমেন্ট একই সাথে বেশ মজার ও কিছুক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য কাজ। বিশেষ করে বাংলাদেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি, খাদ্য, পরিবেশ সব মিলিয়ে একজন ভিনদেশী পর্যটককে মানিয়ে নিতে সম্পূর্ণ সাহায্য করতে হবে আপনাকেই। আশা করি এই ব্যাপারে আমাদের লেখা আপনাদের সাহায্য করবে।

১। যিনি বা যারা আসছেন তাদের সাথে আসার আগেই যতটুকু সম্ভব কথা বলে নিন। তারা থাকা-খাওয়ার কেমন ব্যবস্থা চাচ্ছে, কতদিন থাকবে, কোথায় কোথায় ঘুরবে, তাদের পরিকল্পনা কি এসব জেনে নিন। প্রয়োজনে আপনার পরামর্শ দিন তাদের পরিকল্পনা ঠিক করতে।

ছবি : ট্রিপ এডভাইজর

২। তাদের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয় থাকলে আগে থেকেই সেটা ঠিক করে নিন, নাহলে পরবর্তীতে এর ফলে সমস্যা ও সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। আপনার কাজ কতদিনের ও পরিশ্রম অনুযায়ী আপনার এমাউন্ট ঠিক করে নেন।

৩। টুরিস্টরা কবে কীভাবে আসবে সে সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখুন। দেশে আসার পর তারা হোটেল বা রিসোর্ট যেখানেই থাকবে তা আগে থেকেই বুকিং দিয়ে দিন। যাতায়াতে কি ব্যবহার করবেন তাও ঠিক করে রাখুন। যদি ফরেন টুরিস্ট আপনার কাছের কেউ বা বাজেট ট্রাভেলার হয় সেক্ষেত্রে বিষয়গুলো শিথিলযোগ্য।

৪। পূর্বেই করে রাখা পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি তাদের পরিচালনা করুন। যেখানে তারা যেতে চায় সেখানে যাওয়া-আসার, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে রাখুন।

৫। টুরিস্টদের মধ্যে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও অভ্যাসের লোক থাকবে তাদের সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে রাখুন। কেউ নিরামিষভোজী হলে তার খাবারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। কারও কোনো নির্দিষ্ট খাবারে সমস্যা থাকলে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। আমাদের দেশের খাদ্যাভাসের সাথে তারা মানিয়ে নিতে নাও পারে সেক্ষেত্রে রেস্টুরেন্ট কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে খাবারের আয়োজন করতে হবে।

৬। আবহাওয়ার কারণে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে তারজন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা রাখতে হবে। চাইলে আপনার কোনো বন্ধুকে আপনার সাথে রাখতে পারেন যে এই ধরণের বিষয়গুলো সামাল দিবে আর আপনি নিজে পারলে তো হয়েই গেল।

৭। দেশে নামার পর ও কোথাও যাওয়ার আগে সংক্ষেপে সে সম্পর্কে একটা ধারণা তাদের দিবেন। সেইসাথে যাওয়ার পর বিস্তারিত তো বলবেনই।

৮। আপনাকে অবশ্যই যেসব জায়গায় যেতে হবে সেসব সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। ইংরেজি ভাষাতে দক্ষ হতে হবে যাতে আপনি সহজেই কোনো কিছু ব্যাখ্যা করতে পারেন। টুরিস্ট যদি অন্য ভাষাভাষী হয় আর আপনি সেই ভাষা পারলে তো হয়েই গেল আর না পারলে সেই ভাষার কিছু দরকারী শব্দ শিখে নিতে পারেন এতে টুরিস্টরা আপনাদের আপন মনে করবে।

৯। ঘুরতে গিয়ে কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা তার খোঁজখবর রাখবেন। তাদেরকে আমাদের দেশ ও আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো একটা ধারণা দিতে চেষ্টা করবেন। হোক সেটা পোশাক, খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন বা কোন সিনেমা/নাটকের মাধ্যমে।

১০। সর্বোপরি তারা যেই উদ্দেশ্যে এসেছে তা পূর্ণ হয়েছে কিনা, আপনার কোনও কাজে বা কথায় তারা কষ্ট পেয়েছে কিনা এসব বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিবেন। তাদের বিদায় দেয়ার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সার্ভিসটা তারা যাতে পায় সেই চেষ্টা করবেন।

ছবি : সংগৃহীত

ফরেন টুরিস্টদের মাধ্যমে আমাদের দেশের পরিচিতি বাইরে ছড়ায় তাই কোনোভাবেই দেশের অপমান হয় এমন কিছু করবেন না। সেইসাথে তাদের সাথে কোনও প্রকার ঝামেলায় জড়ানো যাবে না। আমাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তাদেরকে দেখানোটাই আমাদের কর্তব্য।

 আমাদের 'ট্যুর ম্যানেজমেন্টের আদ্যোপান্ত' সিরিজের পরবর্তী লেখাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ট্যুর ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে আলাদা আলাদা করে আলোচনা করা হবে। কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ফেলে নোংরা করবেন না। আমাদের দেশ আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।