আথিরাপল্লি : ভারতবর্ষের নায়াগ্রা ফলস্ নামে খ্যাত জলপ্রপাত

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ভারতের বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এই জলপ্রপাতে

আথিরাপল্লি জলপ্রপাতে অনিন্দ্য সৌন্দর্যের আথিরাপল্লি জলপ্রপাতটি কেরালা রাজ্যে অবস্থিত; ছবি : উইকিপিডিয়া

জনপ্রিয়তা :

আজকে ভারতের যেই জায়গা নিয়ে কথা বলবো, সেখানে বলিউডের বিখ্যাত সব চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে! বহুল আলোচিত 'বাহুবলী' সিনেমার ‘ধিভারা’ গান, 'রাবণ' সিনেমার 'বেহনে দে' গান এবং শাহ্‌রুখ খান অভিনীত 'দিল সে' সিনেমার 'জিয়া জলে' গানগুলোর চিত্র ধারণ করা হয়েছে ভারতের কেরালার রাজ্যের আথিরাপল্লি জলপ্রপাতেই! এছাড়াও আরও অনেক সিনেমার শুটিং হয়েছে মন জুড়ানো এই জায়গাটিতে। এই অনিন্দ্য সুন্দর জলপ্রপাতটি 'ভারতবর্ষের নায়াগ্রা ফলস্‌' নামেও পরিচিত।

অবস্থান :

কেরালার পঞ্চম দীর্ঘতম নদীর নাম চালাকুড়ি নদী। আনাইমালাই রেঞ্জ, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে শুরু হয়ে এই নদী এর্নাকুলাম, থ্রিসুর এবং পালাক্কাদ জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলছে। এই জনপ্রিয় ও অপূর্ব সুন্দর আথিরাপল্লি জলপ্রপাতটি সৃষ্টি হয়েছে, থ্রিসুর জেলার বেশ খরস্রোতা চালাকুড়ি নদী হয়ে।

কেরালা রাজ্যের সবচেয়ে বড় এই জলপ্রপাতটি উচ্চতায় প্রায় ৮০ ফুট। বর্ষার সময় ভরা নদী থেকে জলপ্রপাত এর বহমান স্রোতস্বিনী রূপ দেখতে সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকরা পাড়ি জমান। বর্ষায় আথিরাপল্লি নবযৌবনা রূপ ধারণ করলেও পানির প্রবাহ বেশি থাকায় কিছুটা বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যায়।

যেখানে থাকবেন :

আর গ্রীষ্মের সময় এর আসল রূপ বোঝা যায় না। তাই এই জলপ্রপাতে ঘুরতে যাওয়ার সবচাইতে আদর্শ সময়কাল সেপ্টেম্বর-জানুয়ারি মাস। এই জলপ্রপাতের আশেপাশে কয়েকটি রিসোর্ট/হোটেল রয়েছে যার জানালা/বারান্দা থেকে জলপ্রপাতটির দৃশ্য উপভোগ করা যায়। যদিও এগুলোর ভাড়া তুলনামূলক বেশি।

আথিরাপল্লি জলপ্রপাত প্রায় ৮০ ফুল উচ্চতা হতে এখানে ঝর্ণার স্রোত গড়িয়ে পড়ে; ছবি : উইকিপিডিয়া

 এছাড়াও নদীর পাশেও কিছু হোটেল রয়েছে। এই হোটেলগুলোতে উঠলে সকাল সকাল নদীর ধারে হাঁটতে বের হতে পারবেন। আর অন্যান্য রিসোর্ট/হোটেলে উঠলে রাতের বেলায় ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, পাহাড়ি এলাকার নিঝুম শব্দ বেষ্টিত পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। তবে সন্ধ্যাবেলা যদি রিসোর্ট/হোটেল থেকে আথারিপল্লি জলপ্রপাত দেখা যায়, তবে কলকল করে বয়ে যাওয়া পানির শুভ্র ফেনার উপর পড়ন্ত সূর্যের লালিমা মাখা আকাশের সৌন্দর্য দেখা যাবে সহজেই।

কিভাবে উপভোগ করবেন :

আথিরাপল্লি জলপ্রপাতে ঘুরতে গেলে সকাল দিকে যাওয়াই ভালো। সকালে এসে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়। এরপর সেখান থেকে বাঁশ দিয়ে বাঁধানো মেইন গেইট দিয়ে ঢুকে কিছুটা রাস্তা হেঁটে যেতে হবে। রাস্তায় জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর নানান গাছপালা দেখতে দেখতেই এক প্রান্তে এসে দেখা মিলবে বয়ে চলা নদীর!

 নদীর অপর পাশ থেকে বিভিন্ন রকম বন্য প্রাণী এসে গোসল করে, পানি খায়। আর হাতি তো সেখানে প্রায়ই দেখা যায়। অপূর্ব ও মনোরম এই দৃশ্য পর্যটকদের মন কাড়ে বারবার! এই নদীর পাশ ধরে যেতে থাকলেই পাওয়া যাবে আরেকটি ভিউ পয়েন্ট, আথিরাপল্লি জলপ্রপাতে নিচে যাওয়ার পথ! যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য বেশ রোমাঞ্চকর মনে হবে এই পথটুকু। কারণ, জঙ্গলের মাঝ দিয়ে একদম চিকন রাস্তা দিয়ে নেমে যেতে যেতে মাঝে মধ্যেই দেখা দেয় নানান রকম বন্য প্রাণী। সেখান থেকে জলপ্রপাতের সামনের ভিউটি দেখতে পাবেন।

আথিরাপল্লি জলপ্রপাত বর্ষায় এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে জলপ্রপাতটি; ছবি : উইকিপিডিয়া

 স্বচ্ছ-শুভ্র বয়ে যাওয়া পানির ধারার কলকল শব্দে বসে থাকলে আর সেখান থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। তবে কিছুটা সামনে গেলে রাস্তার পাশে আরও দুটি জলপ্রপাত আছে। এদের নাম চারপা ও ভাজাচাল সেখান থেকেও চাইলে ঘুরে আসা যায়। মনে রাখা ভালো যে, এই জায়গা থেকে সন্ধ্যার আগেই ফেরা উত্তম। তবে যদি আপনার হোটেল/রিসোর্ট কাছাকাছি হয়, তবে শোলারাই, ভাপ্পারাই এবং মালাক্কাপাড়াও ঘুরে দেখতে পারেন।

জেনে রাখুন

১. আথিরাপল্লি জলপ্রপাতের উপর থেকে নিচে নামার পথটা বেশ দীর্ঘ। তাই সাথে করে পানি, কিছু শুকনো খাবার রাখতে পারেন সাথে। আর জুতা অবশ্যই বুঝে শুনে বাছাই করে পড়বেন। এছাড়াও জলপ্রপাত পর্যন্ত যেতে বেশ শারীরিক ধকল যায়। তা বিবেচনা করেই যাবেন।

২.  আথিরাপল্লি-তে যাবার সময় যে টিকিট কাটবেন তা দিয়েই ভাজাচাল এবং চারপা জলপ্রপাতও ঘুরে আসতে পারবেন। সেই বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

৩. কোচিন শহর থেকেও আথিরাপল্লি'তে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে কোচিন থেকে এই জলপ্রপাতের দূরত্ব হবে ৭০ কিলোমিটারের মতো। চাইলে গাড়ি ভাড়া করে সেখানে যেতে পারেন।   


তথ্যসূত্র: ১। https://sobbanglay.com/sob/athirappilly-falls/ ২। https://khabor24.in/nayegra-falls-of-india/