ফ্লোরেস দ্বীপ : ১৫৪৪ সালে আবিষ্কৃত একটি দ্বীপ

ট্রাভেল বাংলাদেশ স্পেশাল : ফুলের দ্বীপ নামে পরিচিত ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপ

যেন হাতে আঁকা ছবি, ফ্লোরেস দ্বীপ। ছবি : দ্যা ক্রেজি ট্যুরিস্ট

 ফ্লোরেস দ্বীপ ইন্দোনেশিয়ার সুমবাওয়া ও কমোডো দ্বীপের পূর্বে এবং লেম্বাটা দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে তিমুর। এই দ্বীপটি দশম বৃহত্তম জনবহুল এবং ইন্দোনেশিয়ার দশম বৃহত্তম দ্বীপ। ১৫৪৪ সালে একটি পর্তুগিজ বণিক জাহাজে করে এসে দ্বীপটি আবিষ্কার করেছিলেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন 'ক্যাবো দে ফ্লোরেস'। সেই থেকে দ্বীপটির নাম ফ্লোরেস যদিও এখানে তেমন ফুলের ছোয়া দেখা যায় না। ইন্দোনেশিয়া এবং মালেতে এই দ্বীপটিকে 'পুলাউ বুঙ্গা' (ফুলের দ্বীপ) বলা হয়। ফ্লোরেস দ্বীপটি নুসা টেঙ্গারার অংশ। এটি বালির দক্ষিণ-পূর্ব দ্বীপগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। ৩৫৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬৬ কিলোমিটার প্রস্থের এই দ্বীপটি আয়তনে ১৩ হাজার ৫৪০ বর্গকিলোমিটার।

পোকো মান্দাসাও অঞ্চলটির সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অঞ্চলটিতে পাহাড়,আগ্নেয়গিরিসহ দেখার মতো আরো অনেক কিছু রয়েছে। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকেরা পাড়ি জমান এই দ্বীপটিতে। ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য স্থানের চেয়ে এই দ্বীপটির মুগ্ধ করার ক্ষমতা কোনো অংশেই কম নয়। ফ্লোরেস দ্বীপ ভ্রমণব্যতীত ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

ফ্লোরেসা দ্বীপে রোমান ক্যাথলিক জনগোষ্ঠী। ছবি : সংগৃহীত

 এই অঞ্চলে প্রায় ২ মিলিয়ন বসবাসকারীদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি রোমান ক্যাথলিক। এছাড়া দ্বীপের পশ্চিম এবং লাবুয়ান বাজোর মতো বন্দর শহরগুলোতে বসবাসকারী স্থানীয়রা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তাদের মধ্যে এখনও পুরনো বিশ্বাসগুলো পুরোপুরি দমন করা যায়নি। অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলোতে মেগালিথিক সংস্কৃতি এবং অ্যানিমিস্ট রীতিনীতি বিদ্যমান রয়েছে এখনও। এই অঞ্চলের মধ্যে প্রায় প্রতিটি গ্রামে সামান্য ভাষাগত পার্থক্য রয়েছে। আর এজন্য এই দ্বীপে বহুত ভাষা প্রচলিত। ফ্লোরেসা দ্বীপের বসবাসকারীদের ঘরগুলো অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়। আকারে ছোট, দেখতে সুন্দর ঘরগুলোতে একটি করে পরিবার বাস করে। এই অঞ্চলে প্রধান খাদ্য ফসল ভুট্টা। তাছাড়া আরো অনেক ফসলের চাষাবাদও করা হয়। তবে উপকূলীয় অঞ্চলে নারকেল এবং পাহাড়ে কফি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা হয়। জানা যাক ফ্লোরেস দ্বীপে ভ্রমণের জায়গাগুলো সম্পর্কে :

কমোডো দ্বীপ :

কমোডো ড্রাগনের মিলবে কমোডো দ্বীপটিতে।  ছবি : দ্যা গার্ডিয়ান

 কমোডো দ্বীপটি ফ্লোরেসের সবচেয়ে বিখ্যাত ভ্রমণ জায়গা। এখানে একটি জাতীয় উদ্যান রয়েছে যেখানে দেখা মেলে কমোডো ড্রাগনের।

কেলিমুটুর হ্রদ : ফ্লোরেসে অন্যতম আকর্ষণ হল কেলিমুটুর হ্রদ। এটি আসলে একটি আগ্নেয়গিরি। হ্রদটিকে অনেক সময়  লাল, নীল বা সবুজ বর্নের দেখায়।

লাভ হিল :

লাভ হিল। ছবি : ট্রিপ এডভাইজর

 লাবুয়ান বাজোরে লাভ হিল অবস্থিত। এই পাহাড়টি থেকে ফ্লোরেসকে দেখা যায়। জায়গাটি সুর্যাস্ত দেখার জন্যও বিখ্যাত।

সেরায়া দ্বীপ : সেরায়া দ্বীপ ফ্লোরসের অন্যতম বিখ্যাত দ্বীপ।

হবিট গুহা : ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় এই গুহাটিকে লিয়াং বুয়া নামে ডাকা হয়। গুহার পাশেই রয়েছে একটি জাদুঘর, যেখানে সংরক্ষিত আছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

পদার আইল্যান্ড :

বুনাকেন মেরিন পার্ক। ছবি : সারাহ বেকমানস্

এই জায়গাটিতেও পর্যটকের আনাগোনা সারা বছর চলেই থাকে। এই দ্বীপে রয়েছে সৈকত। এছাড়াও দেখার মতো রয়েছে : কানওয়া দ্বীপ, ব্লু স্টোন বিচ, বিদাডারি দ্বীপ, ওয়ে রেবো, সানো এনগোগোং লেক, মেরিন পার্কসহ আরও অনেক জায়গা।

থাকা এবং খাওয়া : থাকা এবং খাওয়ার জন্য আশেপাশেই পাওয়া যায় হোটেল এবং রেঁস্তোরা। নিজের চাহিদা অনুযায়ী খুব সহজেই সুবিধা গ্রহণ করা যায়। এছাড়া ট্যুর গাইডের সহায়তা নিতে চাইলে সে সুবিধাও রয়েছে। এক্ষেত্রে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ট্যুর গ্রুপগুলোই করে থাকে।

যেভাবে যাবেন : ফ্লোরেসে যেতে প্রথমেই যেতে হবে ইন্দোনেশিয়া। ইন্দোনেশিয়ার বালি কিংবা লম্বক থেকে ফ্লোরেসে বিমান সুবিধা রয়েছে। খুব সহজেই বিমানে যাওয়া সম্ভব। বাসেও যাওয়া যায় দ্বীপটিতে। তবে দীর্ঘ জার্নির সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া যাওয়া সম্ভব নৌকা করেও। এই সুযোগটি যেন পর্যটকদের ভ্রমণ আরও আকর্ষনীয় করো তোলে।

ভ্রমণ সতর্কতা :

  • ভ্রমণের পূর্বে স্থান সম্পর্কে সচেতন হোন।
  • ভিন্ন  দেশে নিজের ভদ্রতা বজাশ রাখুন।
  • কারও সংস্কৃতি, ধর্ম বা ঐতিহ্য  কে আঘাত করে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
  
তথ্যসূত্র : ইউকিপিডিয়া,উইকিট্রাভেল